ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৯ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ১৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২২:৪৬

প্রিন্ট

রাতের ঢাকায় যা হয়: পর্ব-২

চলতি সিএনজিতেও চলে মনোরঞ্জন

চলতি সিএনজিতেও চলে মনোরঞ্জন
হৃদয় আলম

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকা। রাত ১২টা। মানুষের আনাগোনা কম। কিন্তু আনন্দ সিনেমা হলের ঠিক সামনে রাখা গাড়িগুলোকে ঘিরে কিছু নারীর ভিড়। একটু খটকা লাগলো। সংখ্যায় তারা ছয় কি সাতজন হবে। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে খান তিনেক সিএনজি। একটু লক্ষ্য করতেই দেখা গেলো কিছু লোক যাওয়ার সময় আড় চোখে নারীগুলোকে দেখছে। কেউ কেউ আবার দু-চারটা কথাও বলছে।

তাদের মধ্যে কী কথাবার্তা চলছে বোঝা গেলো না। এগিয়ে যেতেই বিষয়টা পরিস্কার হলো। এরা ভ্রাম্যমাণ পতিতা।

একেকজন একেকভাবে খদ্দের আকর্ষণ করার চেষ্টা করছে। কেউ বলেন, ‘চলো’, ‘যাবে’, ‘এই মামা, যাবা’, ‘ভাই, যাবা’ ... সাথে ইঙ্গিতপূর্ণ চাহনি। চোখ টিপ্পনি।

সচরাচর পতিতাদের খোলা মুখে দেখা যায় না। এদের কেউ কেউ খোলামুখেও ঘুরে বেড়াচ্ছে।

হঠাৎই একটা বাস থেকে মাঝবয়সী এক যুবক আর মুখ ঢাকা নারীকে নেমে আসতে দেখা গেলো। পুরুষটা নেমেই দ্রুত হাঁটা দিলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি এক চায়ের দোকানের সামনে দাড়াঁলেন। হালকা কিছু কথাবার্তার পর তার সাথে ভালোই জমে গেলো।

কথার ছলে জানালেন তিনি আরমান (ছদ্মনাম)। প্রায়ই আসেন এখানে। বাড়ি পটুয়াখালী। ফার্মগেট, সংসদ ভবন চত্বর ও জিয়া উদ্যানের আশপাশে এলাকার কিছু পতিতার সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে। এরাও নিন্মশ্রেণির পতিতা। এ শ্রেণির পতিতার খদ্দের রিকশাচালক থেকে শুরু করে প্রাইভেটকারের মালিকরাও।

রিকশাচালকরা টাকা কম দেন। কিন্তু কখনো যদি কোনো ধনী লোক গাড়িতে করে নিয়ে যান তাহলে মোটা অঙ্কের বকশিশ মেলে।

লোকটি জানালেন, তার কিছু বন্ধুও এখানে আসে। যাদের কেউ কেউ প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। পতিতাদের কেউ কেউ ভালো আবার কেউ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য।

আরমানের কথা শেষ হতেই চায়ের দোকানি বলতে লাগলেন, ‘কয়দিন আগেই এক বেটার সব কাইড়া নিছে ওরা। ওই বেটায় এখান থেইকাই একটা লইয়া সিএনজিতে কইরা গেছিলো। পরে যখন আসলো গায়ে একটা গেঞ্জি ছাড়া কিছুই ছিলো না। ওরা মাইয়ারা সব রাইখা দিছে’।

এক পতিতা এগিয়ে আসছে দেখে সবাই কথা থামিয়ে দিলো। ওই পতিতা এসে বললেন,‘আমরা তো শখে এ কাজ করি না ভাই। লজ্জা-শরম তো আমাগোও লাগে। কিন্তু এনে (এখানে) যারা কাজ করতে আহে (আসেন), তারা মাঝে মাঝে টাকা না দিয়া চইলা যায় তহন রাগে আমরা কিছু করি’।

ভিড় থেকে বেরিয়ে পড়ে কিছুটা এগিয়ে যেতে ২০ কি ২৫ বছরের এক যুবকে দ্রুত হেঁটে চলে যেতে দেখা গেলো। তাকে কিছুটা ভীতও মনে হলো। কী হয়েছে জানতে চাইলে তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘আমি গত পরশু আনুমানিক রাত ১০টার দিকে আমি আনন্দ সিনেমা হলের সামনের রাস্তায় গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিছুক্ষণ পর একজন মহিলা এসে আমার পাশে দাঁড়ালো। দেখে ভদ্রই মনে হলো। পরে বুঝলাম সে পতিতা। আমি সচরচার পতিতাদের মুখ ঢাকাই দেখেছি। ওই মহিলার মুখ খোলা ছিলো। সে আমাকে এসে বলল ‘ভাই, লাগবে’। এরপর সে বিস্তারিত বলতে লাগলো- এক ঘণ্টার জন্য দিতে হবে ১৫০০ আর পুরো রাতের জন্য লাগবে ৩৫০০ টাকা। যার অর্ধেক দিতে হবে অগ্রিম। আমি রাজি হয়ে গেলাম। পরে সে জানালো তার বাসা মহাখালীতে। তাই যেতে হবে সিএনজিতে। আমি নয়-ছয় না ভেবে সহজ মনে রাজি হয়ে গেলাম।

এরপর সামনে থাকা এক সিএনজিতে ওঠার পর ভাড়া ঠিক হলো দেড় শ টাকা। কিছুক্ষণ পর বিজয় সরণী মোড়ের আগে ওই মহিলা হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগে সিএনজি চালকও সিএনজি থামিয়ে দেয়। তখন এমন পরিস্থিতিতে যে সাথের সব দিয়ে দিতেই হলো। সেই থেকে এখান দিয়ে দ্রুত চলে যাই। রাতে কাজ থাকে তাই এখান দিয়ে যেতে হয়। পারতপক্ষে এখান দিয়ে না যেয়ে পারলে যাই না’।

চলতি পথে কথাগুলো শুনছিলেন সোহেল হাসান নামের একজন পথচারী। তিনি বলেন, ‘ওরা সুযোগ বুঝে ইশারা দেয়, নানান রকম অশ্লীল কথাও বলে।’

এক পতিতা এগিয়ে আসছে দেখে তারা দুজনই দ্রুত সটকে পড়ে। ওই পতিতা এসে নানান কথাবার্তা শুরু করে। কথার মাঝেই পতিতা জানায়- এখানে মূলত বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী বা শহরের বিভিন্ন কলকারখানার শ্রমে নিযুক্ত মেয়েরা থাকে। মাঝে সাঝে পুলিশ উঠিয়ে দেয়। এরা কয়েকজন সিএনজি চালককে সাথে নিয়ে কাজ করে। নারীদের মধ্যে যাদের চেহারা এবং স্বাস্থ্য বেশ ভালো, খদ্দেরদের মধ্যে তাদের চাহিদা বেশি। টাকাওয়ালা পুরুষেরা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অপেক্ষাকৃত সুন্দরী, কম বয়সী দেহ ব্যবসায়ীদের। মাঝে মাঝে স্টুডেন্টরাও এখানে আসে।

পতিতাকে এভাবে কথা বলতে দেখে এক সিএজিচালক এগিয়ে এসে কোনো সমস্যা কিনা জানতে চান। শেষে তিনি জানান, তারা শুধু খদ্দেরকে ভাড়ার বিনিময়ে পৌঁছে দেন। কোনো ক্ষতি তারা করেন না। খদ্দের রাজি হলে তারা সিএনজিতেও কাজ করতে দেন। তার জন্য ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। চলবে... (পরবর্তী কিস্তির জন্য চোখ রাখুন বাংলাদেশ জার্নালে)

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত