ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:০৪

প্রিন্ট

বৃদ্ধাকে খুনের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

বৃদ্ধাকে খুনের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন
প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে এক বৃদ্ধাকে খুনের ঘটনায় দোষী যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে স্থানীয় এক আদালত।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার জানায়, ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর বজবজ থানা এলাকার বাসিন্দা সুমিত্রা জাসু (৬৪) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছিল অমিতাভ প্রামাণিক ওরফে সম্রাট সেন নামের ওই যুবক। সোমবার কারাদণ্ডের পাশাপাশি ওই যুবককে ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।

আলিপুর আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানায়, ঘাতক অমিতাভ একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার গাড়িচালক হিসাবে কাজ করতেন। নিজের একটি জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে ওই সংস্থায় যাতায়াত করতেন সুমিত্রাদেবী। সেখানেই অমিতাভের সঙ্গে সুমিত্রাদেবীর পরিচয় হয়। পরে সুমিত্রাদেবীর ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন অমিতাভ। দুজনের হৃদ্যতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মাঝেমধ্যে সুমিত্রাদেবীর ফ্ল্যাটে থেকেও যেতেন অমিতাভ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফ্ল্যাটে গিয়ে সুমিত্রাদেবীর কাছ থেকে কিছু টাকা চেয়েছিল অমিতাভ। টাকা নেই বলে অমিতাভকে ফিরিয়ে দেন সুমিত্রা। পরের দিন রাতে ফের ওই ফ্ল্যাটে যায় অমিতাভ। ওই রাতে ফ্ল্যাটেই থেকে যায় সে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সুমিত্রা তার অবিবাহিত বোন সুচিত্রার সঙ্গে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। ফ্ল্যাটের একমাত্র শোবার ঘরে বোনের সঙ্গে ছিলেন সুমিত্রাদেবী। ঘরের বাইরে বারান্দায় একটি খাটে শুয়েছিল অমিতাভ। রাতে আচমকা ঘুম ভেঙে যায় সুচিত্রার। তিনি দেখেন, দিদির সঙ্গে অমিতাভের ধস্তাধস্তি হচ্ছে। ওই ঘটনা দেখার পরেই উচ্চ রক্তচাপ ও সুগারের রোগী সুচিত্রা অজ্ঞান হয়ে যান। জ্ঞান ফেরার পরে তিনি দেখেন, হাত-পা বাঁধা, মুখে কাপড় গোঁজা অবস্থায় সুমিত্রাদেবী বারান্দার খাটে পড়ে রয়েছেন। এর পরেই আত্মীয়দের খবর দেন সুচিত্রা। পরে পুলিশ ও চিকিৎসকেরা আসেন। সুমিত্রাদেবীকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। গলা টিপে তাঁকে খুন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরে ফেরার হয়ে গিয়েছিল অমিতাভ। সরকারি আইনজীবী সন্তু মজুমদার বলেন, ‘গত ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে অমিতাভকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পরে সুমিত্রাদেবীর মোবাইলটি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অমিতাভ। ওই মোবাইল থেকে সুমিত্রাদেবীর সিমটি খুলে ফেলে দেয় সে। নতুন সিম ভরে বেশ কয়েকটি জায়গায় ফোন করেছিল অমিতাভ। ওই ফোনের সূত্র ধরেই তাকে আটক করে পুলিশ।

এরপরই গত সোমবার ওই হত্যার ঘটনায় অমিতাভকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। তবে এই সাজার বিরুদ্ধে তার আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানা গেছে।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত