ঢাকা, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ২২ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২১, ০৯:০৫

প্রিন্ট

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ
ফাইল ছবি

নাহিদা রিনথী

আজ ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। প্রতি বছরের মতো এবারো বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে দিবসটি। এবারের নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ‘নেতৃত্বে নারী’। তার সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে নারীদের এগিয়ে যাওয়ার গল্প নিয়ে, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) এক্সিলেটর ল্যাবের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে ‘কালজয়ী নারী’ শিরোনামের একটি গান। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন ১১ জন তরুণ শিল্পী। এরা হলেন, আমজাদ হোসেন, আরমীন মুসা, ডি রকস্টার শুভ, এলিটা করিম, জোহান আলমগীর, লাভিক কামাল গৌরব, মোক্তাদির দেওয়ান, নাহার, পল্বাশা সিদ্দিক, সোহারা মেহরোজ ও তাসফি। ‘নন্দিনী হতে পারি, বন্দিনী না’ গানের এই কথার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে মিউজিক ভিডিও। নারীরা বন্দীদশা থেকে বেরিয়ে এসে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এই বিষয় তুলে ধরা হয়েছে সেখানে।

নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদে নারীদের জাগ্রত করাই নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । নারী দিবসের রঙ নির্ধারিত হয়েছে বেগুনি ও সাদা। এ দুটি রঙ নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা, যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়ন।

এ নারী দিবস পালনের পটভূমি হচ্ছে এই দিনে আমেরিকায় ঘটে যাওয়া এক আন্দোলন। ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ নিউ ইয়র্কের সুতা কারখানায় কর্মরত নারী শ্রমিকরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়। সেদিন বেতন বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা আর কাজের বৈরি পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে নারীরা একজোট হলে তাদের ওপর কারখানা মালিকরা আর মদদপুষ্ট প্রশাসন দমন-পীড়ন চালায়।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পর ১৯০৮ সালে জার্মানিতে এ দিনটি স্মরণে প্রথম নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে প্রায় ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছিলেন।

এ সম্মেলনেই প্রথমবারের মতো প্রতি বছরের ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ নারী দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সাল থেকেই ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের আহ্বান করলে এর পর থেকে সারা বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশে নারী সমাজের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারী অধিকার রক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা সৃষ্টির জন্য দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে অসামান্য অগ্রগতি, সমতা সৃষ্টি, বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিয়ে বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নারীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও সকল ধরনের সহিংসতা বন্ধে ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন, স্যুভেনির প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হবে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও টকশোর আয়োজনসহ বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ৫ নারীকে জয়িতা সম্মাননা প্রদান করা হবে। রোববার মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় জয়িতাদের নাম ঘোষণা করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

এ বছর অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী বরিশাল বিভাগ থেকে বরিশাল জেলার হাছিনা বেগম নীলা, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী রাজশাহী বিভাগের বগুড়া জেলার মিফতাহুল জান্নাত, সফল জননী হিসেবে বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার মোসাম্মৎ হেলেন্নছা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল জেলার রবিজান ও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় খুলনা বিভাগের নড়াইল জেলার অঞ্জনা বালা বিশ্বাসকে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা ঘোষণা করা হয়েছে।

'করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হবে। বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর নিকট থেকে সম্মাননা পদক গ্রহণ করবেন।

এসময় তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, ক্রেষ্ট ও সনদ প্রদান করা হবে।

এনআর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত