ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪ মাঘ ১৪২৮ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে

বিজয়ের পঞ্চাশে বিশ্বের কাছে বিস্ময় বাংলাদেশ

  মো. শাহাদাত হোসেন নিশাদ

প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৪৬

বিজয়ের পঞ্চাশে বিশ্বের কাছে বিস্ময় বাংলাদেশ
মো. শাহাদাত হোসেন নিশাদ

গর্বের সাথে বলতে হয় আজ আমরা এমন একটি দিনের সাক্ষী হয়েছি যেদিন বাঙালির কাছে এক ঐতিহাসিক দিন। আমরা সাক্ষী হতে পেরেছি বিজয়ের পঞ্চাশে। স্বাধীনতা লাভের পর এবছর বাংলাদেশ বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। এবারের বিজয় দিবসের বিশেষ তাৎপর্য মুজিববর্ষ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালন করেছে গোটা জাতি।

বছরব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন চলছে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বাংলাদেশ ও সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হয়েছে। ৫০ বছরের পথপরিক্রমায় অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি ঈর্ষণীয়। বিদেশিদের দৃষ্টিতে স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ ছিল এক তলাবিহীন ঝুড়ি। আর এখন সমৃদ্ধ-স্বনির্ভর বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ এখন এক উদীয়মান অর্থনীতির দেশ।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজেকে বড় ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। কত বীর মুক্তিযোদ্ধা ৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর বিজয়ের উল্লাসে মুক্ত জন্মভূমিতে স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দে উল্লসিত হয়েছেন, কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর তথা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে শামিল হতে পারেননি। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন একটি স্বাধীন বাংলাদেশ। সেদিনের পাকিস্তান নামক ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক আর সামরিক শাসনে রাষ্ট্রের শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দুর্বার আকাঙ্ক্ষায় বাংলার মানুষের নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ ২৩ বছর যে কঠিন ত্যাগ স্বীকার আর প্রাণপণ সাহসী সংগ্রাম সেই সংগ্রামের স্মৃতি আজ আমাদের চেতনায় হয়ে দেদীপ্যমান উঠছে।

সেদিনের একাত্তরে বাংলাদেশে যে কঠিন মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে এসে আজ তার সোনালি ফসল ঘরে তুলছে বাংলাদেশ। একদিন সাম্রাজ্যবাদীরা যে বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিল, ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে অপমানের অপচেষ্টা করেছিল আজ তারাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখার জন্য স্বল্পোন্নত ও দারিদ্র্য দেশসমূহকে পরামর্শ দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ আপন দক্ষতায় স্বনির্ভর উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় ভূষিত বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসাধারণ নেতৃত্বে গত একযুগে বদলে গেছে বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ এক দ্রুত উন্নয়নশীল বিকাশমান অর্থনীতির রাষ্ট্র।

করোনার এই মহামারির মাঝেও দেশের যে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে তার একমাত্র অবদানের দাবিদার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় নেতৃত্বে পৃথিবীর অন্যান্য বড় বড় দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের যোগ্যতার জানান দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব আমাদের ছোট্ট এই দেশকে পৃথিবীর বুকে বারবার করেছে সম্মানিত। এমন একটি দেশের নাগরিক হতে পেরে আজ সত্যিই নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে। তবে আজ বিজয়ের পঞ্চাশে দাড়িয়ে যখন এখনো খবরের কাগজে লিখতে হয় ধর্ষণের সংবাদ, লিখতে হয় ক্যাসিনো, রিজেন্ট কাণ্ড, প্রতিটি দপ্তরের দুর্নীতির সংবাদ তখনই ভাবতে হয় এমন দেশ দেখার জন্য নিশ্চয় আমাদের দামাল ছেলেরা রক্ত দিয়ে এদেশ স্বাধীন করেনি।

আজকে লাখ লাখ চাকরি প্রত্যাশীরা রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকার বিনামূল্যে চাকরি দিলেও কিছু কিছু আমলার কাছে বিক্রি হয়ে যায় সেই চাকরির পদগুলো। এতে যেমন ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে সরকারের তেমনি নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ চাকরি প্রত্যাশীর জীবন। যাদের বেশিভাগ পরিবার হতদরিদ্র। নানা ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে তাদেরকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে হয়েছে। আজকে দেশে কেন যুবসমাজ আজ ধ্বংসের পথে তার কারণ যদি অনুসন্ধান করা হয় তাহলে দেখা যায় এই বেকারত্ব সমস্যা থেকেই এর সূত্রপাত। কর্মসংস্থানে সুযোগ না পেয়ে অনেকেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে চলে যায় ধ্বংসের পথে। অনেক সময় তারা দেশের জন্য হয়ে ওঠে হুমকি স্বরূপ। তাদের মধ্যে অনেকে তখন জীবনের তাগিদে নোংরা এবং ঘৃণ্যতম কাজ বেছে নেয়। যা দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকর। তারা মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ে। আর তখন তাদের বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে কতিপয় মহল হীন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে থাকে।

আজকে স্বাধীনতার পঞ্চাশে এসেও পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেকই অসহায়। হত্যা, খুন, সহিসংতা আজও দেশের পিছু ছাড়েনি। তাহলে আজ এর জন্য দায়ী কে? আমরাই। আজকে কিছু স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে দেশের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ দিতে চাই তিনি যেভাবে একের পর এক অভিযান শুরু করেছেন। এতে এখন অনেকেই সচেতন হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে আগাছা পরিষ্কার করছেন তাতে এই দেশ বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে নাম লেখাবে। আমরা সেদিনেরই অপেক্ষায় যেদিন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশকে দিয়ে উদাহরণ দেবে বিশ্বে এমন একটি দেশ আছে যেদেশে দুর্নীতির কাছে সাধারণ মানুষ জিম্মি না। যেখানে কোনো সহিংসতা নেই। সেখানে একজন শেখ হাসিনা আছেন, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ একটি স্বয়ংসম্পন্ন দেশ।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত