ঢাকা, শনিবার, ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ আপডেট : ২৩ মিনিট আগে

তারুণ্যের বিকাশ ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব

  মো. সবুজ খান

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২২, ১৮:২৪  
আপডেট :
 ৩১ আগস্ট ২০২২, ১৮:৪১

তারুণ্যের বিকাশ ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব
প্রতীকী ছবি
মো. সবুজ খান

সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আমরা অনেক কিছুই পেয়েছি, আবার অনেক কিছুই হারিয়েছি। পুরো পৃথিবীটাকে তথাকথিত একটা সমাজ বানিয়েছে এই সোশ্যাল মিডিয়া। এর মধ্যে রয়েছে, ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি। সোশ্যাল মিডিয়াকে আমাদের তরুণ সমাজ খুব দ্রুতই গ্রহণ করে নিয়েছে। এরও অবশ্য বহু কারণ আছে। মানুষ সামাজিক জীব। অধিকাংশ মানুষ চায় সমাজে বিলং করতে, কমিউনিকেশন করতে, বিশাল নেটওয়ার্ক বাড়াতে বা সবসময় কিছু একটার সঙ্গ পেতে। আর পৃথিবীতে নতুনত্ব আসলে সেটা প্রথমে তরুণদের আকৃষ্ট করে, এটা বহু আগে থেকেই হয়ে এসেছে।

এই সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের খুব ভালোভাবে আকৃষ্ট করেছে তা বলার অবকাশ রাখে না। চলমান তথাকথিত আপডেটেট থাকাটা তরুণদের একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পুঁজিবেদের বিকাশের পর থেকে এটা আরও ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে।

'পৃথিবীর প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটা সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে' নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্র এটি। সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় হয়নি। তরুণরা প্রচণ্ডভাবে আপন করে নিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াকে, যার প্রভাব-প্রতিক্রিয়াও পড়ছে বাস্তব জীবনে।

নানা কারণে নানাভাবে সোশ্যাল মিডিয়া তরুণদের প্রভাবিত করে। বিশেষ করে তরুণরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশাল একটা 'ভার্চুয়াল সমাজ' পাওয়ায় বাইরের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এই বিচ্ছিন্নতার দূরত্ব দিন দিন বাড়ছে। ধীরে ধীরে 'স্বাভাবিক সমাজ' থেকে সে হারিয়ে যেতে থাকে।

তরুণদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার বাজে যে প্রভাবগুলো রয়েছে, তা খুবই ভয়াবহ। তরুণরা নিজস্ব সময় হারাচ্ছে। এতটাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝুঁকে যাচ্ছে যে, তারা যে সকল মৌলিক কাজ থাকে, সেগুলোর প্রতিও খেই হারিয়ে ফেলছে।

তরুণদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার উল্লেখযোগ্য কিছু প্রভাব:

শারীরিক প্রভাব: একটা সময় ছিলো মাঠে গিয়ে খেলাধুলা করটঘ তরুণরা। এর ফলে শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ থাকতো তারা। এখন মাঠে গিয়ে খেলাধুলার প্রবনতা হারিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে অল্প বয়সে রোগবালাই হচ্ছে বেশি, কর্মক্ষমতা হারাচ্ছে তরুণরা, চোখের ক্ষতি হচ্ছে ইত্যাদি।

মানসিক প্রভাব: পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে স্যাটেলাইট আর ক্যাবলের হাতে ড্রয়িংরুমে রাখা বোকা বাক্সতে বন্দি' এটি একটি গানের কথা। বাস্তবেও তাই! সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতি তরুণরা এতোই ঝুঁকে যাচ্ছে যে একটা বাক্সে সে ভার্চুয়াল পৃথিবী পেয়ে বাস্তব পৃথিবীই ভুলে যাচ্ছে। দিনকে দিন বাস্তব পৃথিবী থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে মানসিক বিকারগ্রস্ততা, মানসিক অস্বস্তি, ব্রেইনের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

নৈতিক প্রভাব: সোশ্যাল মিডিয়ার অতিমাত্রায় ঝুঁকে যাওয়া তরুণ সমজ খুব কম সময়ই নিজেকে ও পরিবারকে দিতে পারে। ফেস কমিউনিকেশন আর ভার্চুয়াল কমিউনিকেশনের যে গ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়ায় আশক্তির ফলে তরুণরা ধীরে ধীরে সেটা বুঝতে পারে না। যার ফলে একটা সময় গিয়ে বিশাদগ্রস্ত হয়ে যায় তারা। নিজেকে একা একা লাগে। এ থেকে অনেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ে। তাছাড়া অবাধ কমিউনিকেশনের ফলে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, ক্রাইমে পড়িয়ে পড়ে।

দীর্ঘদিন স্বভাবিক সমাজ থেকে এভাবে বিচ্ছিন্ন হতে হতে তরুণদের মধ্যে একটা সময় বোধগাম্যতা কমে আসে। বিচার-বিবেচনাবোধ কমে যায়। কোনটা ভালো, কোনটা আসলে খারাপ, এই ধারণা কমে যেতে থাকে। যদিও এর কারণও আছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ও ফেস কমিউনিকেশনের গ্যাপটা তৈরি হতে হতে অনেক সময় অস্বাভাবিক অনেক কিছুই স্বাভাবিক হতে থাকে তরুণদের কাছে। যার ফলে বাবা-মা বা কাছের মানুষদের সাথে ঝগড়া বিবাদ লাগে। তরুণরা ভুলে যায় ভার্চুয়ালি অনেক কিছুই সম্ভব, বাস্তবে না।

সৃজনশীলতায় প্রভাব: বর্তমানে বেশিরভাগ তরুণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সস্তা বিনোদন খুঁজে বেড়ায়। লাইক, শেয়ার আর কমেন্ট সেকশনে নিজের মনকে সীমাবদ্ধ করে রাখে। কয়টা লাইক পড়লো, কে কমেন্ট করলো, বারবার চেক করা- তরুণদের মন সেদিকেই পড়ে থাকে। এসব কাজে ব্যস্ত থাকতে থাকতে ধীরে ধীরে সৃজনশীল দক্ষতা কমে যাচ্ছে তরুণ সমাজের।

ইমোশনাল প্রভাব: 'ইমোজি' নামক একটা অপশন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর পরিমাণে আছে। তরুণ সমাজ মেসেজ কিংবা নানা জায়গায় দেখি ব্যবহার করে। যার সাথে কথা বলছি তার মন খারাপ থাকার পরও যদি সে 'হা হা' ইমোজি দিয়ে মেসেজ করে, তাহলে বোঝার উপায় নেই তার কী অবস্থা। ইদানিং এই ইমোজির প্রচলন প্রচুর বেড়ে গেছে। যার ফলে মানুষের বাস্তব ইমোশন সস্তা হয়ে যাচ্ছে। আসলে ইমোশন নামক যে বৃহৎ একটি অস্তিত্ব মানুষের মাঝে আছে, সেটাই ভুলে যাচ্ছে তরুণ সমাজ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত