ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১২

প্রিন্ট

রিপোর্টার থেকে সম্পাদক (পর্ব -২)

রিপোর্টার থেকে সম্পাদক (পর্ব -২)
শাহজাহান সরদার

সেনাকল্যাণ ভবন আর ইত্তেফাক কাছাকাছি। বাবুল সাহেবের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি ইত্তেফাকে পৌঁছে দেখি সারওয়ার সাহেব এসে গেছেন। তার রুমেই আছেন। পত্রিকা দেখছেন। আমিও গিয়ে বসি। ফাইল রেখে জিজ্ঞাসা করলেন, দেশের কী খবর, রাজনৈতিক পরিস্থিতি কী ইত্যাদি। এ বিষয়গুলো নিয়ে টুকটাক কথা হওয়ার পর সারওয়ার সাহেবকে জানাই নতুন একটি পত্রিকা বের হবে। আপনি ইত্তেফাক ছাড়বেন? অনুমতি না নিয়েই আমি আপনাকে সম্পাদক করার প্রস্তাব করেছি। রাজি হলে উদ্যোক্তার সাথে বসতে পারি।

জানতে চাইলেন, কারা। বিনিয়োগ করতে পারবে কি-না ইত্যাদি। আমি নাম বলতেই তিনি বললেন, অনেকদিন শুনেছি তিনি পত্রিকা বের করবেন। কেউ একজন আমার সাথে কথাও বলেছিল। পরে আর যোগাযোগ করেনি। বললাম, কয়েকজন সংবাদিকের সাথে তার যোগাযোগ আছে, হয়তো অন্য কারও সাথে আলোচনা করেছিলেন। তবে এখনকার পরিস্থিতি ভিন্ন। সারওয়ার সাহেব বললেন, তোমার সঙ্গে তার সম্পর্ক ভাল জানি। কিন্তু পত্রিকার ব্যবসা আর অন্য ব্যবসা তো এক নয়। কাজেই বুঝে-শুনে নামতে বল। বললাম, তিনি সিরিয়াস। আর বিনিয়োগ সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। বলেছেন সমস্যা হবে না। সারওয়ার সাহেব বললেন, আলোচনা করা যায়। বসতে পারি। কথা বল। সারওয়ার সাহেবের সঙ্গে আগেও একবার বাবুল সাহেবের সাক্ষাৎ হয়েছে। সারওয়ার সাহেবের একটি ব্যক্তিগত কাজে আমিই নিয়ে গিয়েছিলাম। দু’জন কথা শেষ করে আমি বের হয়ে যাই।

একটি অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে সন্ধ্যায় আবার অফিসে যাই। তখনও বাবুল সাহেবের সাথে যোগাযোগ হয়নি। রাতে তিনিই ফোন করলেন। জিজ্ঞেস করলেন খবর কী? আমি বললাম কথা বলেছি, কাল সকালে এলে বিস্তারিত আলোচনা করব। জানতে চাইলেন আলোচনা ইতিবাচক কিনা। আমার জবাব মাঝামাঝি। তিনি বললেন, তাড়াতাড়ি করতে হবে। সেদিন এখানেই কথা শেষ।

পরদিন সকালে বাবুল ভাইয়ের সাথে তার অফিসে বিস্তারিত আলোচনা হলো। সারওয়ার সাহেবের সঙ্গে কথা বলে বৈঠকের দিন ঠিক করলাম। এরই মধ্যে সম্পাদকের বেতন-ভাতা সুযোগ-সুবিধা কী হতে পারে বাবুল সাহেব জানতে চাইলেন। পত্রিকার পদ-পদবি কী থাকে, বেতন-ভাতা কেমন ইত্যাদি নিয়েও কথা হলো। ঠিক হলো শুক্রবার রাতে বাবুল সাহেবের গুলশানের বাসায় নৈশভোজসহ বৈঠক। আমরা দু’জন আর বাবুল সাহেব। কিন্তু আগের দিন সারওয়ার সাহেব বললেন, মোফাজ্জল হোসেন সাহেবকে নিয়ে যাব। কারণ পত্রিকা বের করতে হলে একজন ভাল জিএম দরকার। মোফাজ্জল সাহেব তখন ইত্তেফাকের জিএম। আমি বললাম ঠিক আছে। সাথে সাথে আমিও বিষয়টি বাবুল সাহেবকে জানিয়ে রাখি। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমরা সময় মতো পৌঁছে যাই। বাবুল ভাই ও তার ছেলে শামীম ইসলাম অপেক্ষা করছিলেন। ড্রয়িং রুমে বসতেই ট্রলি ভরে নানা ধরনের স্ন্যাকস্, কোল্ড ড্রিংকস নিয়ে হাজির হলো এক ওয়েটার। সাথে সালমা ইসলাম (বাবুল সাহেবের স্ত্রী)। আমি বাবুল সাহেবের বাসায় আগেও বহুবার গিয়েছি। স্ত্রী-সন্তানসহ নিমন্ত্রণ খেয়েছি। সবসময় দেখেছি সালমা ইসলাম নিজ হাতে খাবার পরিবেশন করতে পছন্দ করেন। তার এই এক গুণ। বাবুল সাহেবের আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে সালমা ইসলামের অবদান অনেক। বাবুল সাহেবও সালমা ইসলামকে ভালবাসেন অন্তর দিয়ে।

তিনি আগেই আমাকে বলেছিলেন, পত্রিকার প্রকাশক হবেন সালমা ইসলাম। কেন প্রকাশক করতে চান। এর একটি ইতিহাস আছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সালমা ইসলামকে মহিলা এমপি’র কোটায় এমপি করতে চেয়েছিলেন বাবুল সাহেব। সালমা ইসলাম মনোনয়ন বোর্ডে সাক্ষাৎকারও দিয়েছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পাননি। বাবুল সাহেব ওই সময় আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন। লেঃ জেনারেল (অব.) নূর উদ্দিন খানকে আওয়ামী লীগে আনার পেছনে তার বেশ অবদান ছিল। আর নূর উদ্দিন খান যখন নির্বাচনের আগে দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান বাবুল সাহেবও তখন দৌড়ে যান। তাদের পারিবারিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাবুল সাহেব আশা করেছিলেন তার স্ত্রী মনোনয়ন পাবেন, কিন্তু পাননি। তাই তিনি আমাকে বলেছিলেন, সালমা ইসলামকে তিনি একটি সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত করতে চান। যাতে আজীবন তার নাম থাকে। আর এ কারণেই তিনি পত্রিকা বের করবেন এবং প্রকাশক হবেন সালমা ইসলাম। সত্যিই সালমা ইসলাম প্রকাশক হলেন। সম্পাদকও হয়েছিলেন। আবার এমপিও হন। মনোনীত এবং নির্বাচিত দু-ই। ২০১৪-এর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের মহিলা ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। এ দিক দিয়ে বাবুল সাহেবের মনোবাসনা পূর্ণ হয়েছে।

চলবে...

বইটি পড়তে হলে সপ্তাহের রবি, মঙ্গল, বৃহস্পতিবার চোখ রাখুন ‘বাংলাদেশ জার্নাল’ অনলাইনে।

বইটি প্রকাশ করেছে উৎস প্রকাশন

আজিজ সুপার মার্কেট (তৃতীয় তলা), ঢাকা।

বইটি সংগ্রহ করতে চাইলে ক্লিক করুন

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত