ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৫ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১৫:৩৯

প্রিন্ট

দহন কালের ‘ওয়ারহেড’ শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ

দহন কালের ‘ওয়ারহেড’ শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ
ফাইল ছবি

মোস্তফা কামাল পাশা

কিছু কিছু জাতকের হঠাৎ হঠাৎ আগমন ঘটে ধুলোর মাটিতে। এদের ভিতরে ঠাঁসা থাকে ক্রোধ, দ্রোহের এক গাদা বারুদ। অথবা বলা যায়, এরা দেখতে মানুষ কিন্তু ভেতরে লল বারুদের পুর, ডগায় ওয়ারহেড বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। কদাচিৎ এরা জন্মান, দেশের প্রয়োজনে একছুটে বিধ্বস্ত হন, শত্রুর দুর্ভেদ্য সামনের লাইনে!

আমাদের সৌভাগ্য, দহনকালে দেশ অসংখ্য মিশাইল পেয়েছে। জীবনকে ভোগ-উপভোগ করতে নয়, আসেন শত্রুর বুকে ক্ষেপণাস্ত্রের মত ঝাঁপিয়ে পড়তে। জীবন তাদের পিছু ডাকে না, ভোগ-উপভোগের আকর্ষণতো স্রেফ জঞ্জালের ভাগাড়! আসলে ভাগাড়ে জন্মায় অগুনতি থিকথিকে পোকা। পোকারা ভোগ, লোভ, লালসার জঞ্জাল খেয়ে বাঁচে। খেয়ে-দেয়ে চীনেজোঁকের মত ফুলেফেঁপে টুপ করে খসে পরে। জঞ্জালে আটকে থাকা অন্য পোকারা এদের খবর নেয় না। কে আসল বা ঠেসে গেল, চোখ মেলে তাকাবার সময় পেটুক পোকাদের নেই। পোকারতো চোখও নেই! আছে কেবল পেট! এখন দেশজুড়ে ভাগাড়ের পোকারা কিলবিল করছে-হাত পা থাকলেও এদের মানুষ ভাবার কারণ নেই। এরা আসলেই জঞ্জাল ভাগাড়ের পেটমোটা পোকা। পোকারা সবসময় থাকে, কখনো বেশি কখনো কম। এখন এদের আবাদ ও বাম্পার ফলনের ক্রান্তিকাল পার করছে দেশ!

কিন্তু একসময়ে এমন ছিল না। তখন ছিল দহনকাল। তখন জন্মেছিলেন জীবন্ত মিশাইল সাইফুদ্দিন খালেদের মত দ্রোহ, ক্রোধ, মনন, মেধার অপূর্ব সমন্বয়ের মানবিক খোলসের বিরল বারুদ। এরা দেশ ও মানুষের জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে হায়েনা, ডাকাত, দানবমুক্ত স্বাধীন দেশ উপহার দিতে ভেতরের পুরো বারুদ ঢেলে দেন। বিস্ফোরণে জ্বলে উঠা আগুনে হানাদার হায়েনারা দেশ ছেড়ে চিরতরে পালিয়ে বাঁচে। আমরা জানি, মানুষের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ তার জীবন। এর চেয়ে দামি কিছু হতেই পারে না! পাপী বা পুণ্যবান কেউ শেষ নিঃশ্বাসের আগে জীবনের মায়া ছাড়তে পারেন না। অপ্রিয় সত্য, যে যতবেশি প্রভাবশালী, ভোগী, বিত্ত ছাড়া কিছু বুঝেন না, জীবনের সোনার শিকল তাঁর ততই শক্তিধর। এরা জেনেও ভুলে থাকেন, শেষ অক্সিজেন শোষণের মাঝেই কালো পর্দা জীবনের! বিশাল বিত্ত, বৈভব, প্রভাব কিছুই সঙ্গে যায় না। ক' ঘণ্টা আগের প্রচণ্ড দাপুটে লোকটার পরিচিতি তখন স্রেফ লাশ! ভয়াল করোনা আমাদের হাতে-কলমে প্রতিদিন শিখিয়ে দিচ্ছে। সব জেনেই দামি জীবন নষ্ট করি-এটা এক গোলকধাঁধা! লোভ, ভোগ, মোহ, খ্যাতি, যশ, প্রতিষ্ঠা, বিত্ত বৈভব হাতাতে সব করি। ভোগের দানো যত শক্তিধর হয়, ততদ্রুত মানবিকতা, দেশপ্রেমের মত অমূল্য সম্পদ ঝরে যায়। সমাজে বাড়ে অস্থিরতা, অবিশ্বাস। মিথ্যার ঘোলা সাগরে ডুবে যায় সত্য-সুন্দর।

অথচ, আমরা এমন ছিলাম না। দেশপ্রেম, মানবপ্রেমের অমৃতে জীবন ভরপুর ছিল। জীবনে বার বার মৃত্যু ছোবল হেনেছে- তুলে নিয়েছে অনেক জীবন। তবুও মৃত্যুর খেলা থামেনি। এই খেলার অনন্য সেনাপতি শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী। মাত্র ২২ বছরের ছোট্ট জীবনটি নিয়ে বারবার মৃত্যুর সঙ্গে খেলেছেন। মৃত্যুকে চাকর-বাকর বানিয়ে দেশের জন্য জীবনকে বিস্ফোরকের মত ছুঁড়ে দিতে একটুও ভাবেননি। জন্মসূত্রে তিনি চট্টগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা, শ্রমজীবী মানুষের সার্বক্ষণিক বন্ধু, বঙ্গবন্ধু সরকারের প্রথম মন্ত্রী, বঙ্গবন্ধুর বিশ্বস্ত সহচর, আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জহুর আহমেদ চৌধুরীর বড় ছেলে।

ছিপছিপে খাপখোলা তরোয়াল! হালকা পাতলা তরুণটি বয়ঃসন্ধি থেকেই দেশপ্রেমের বারুদে ঠাঁসা। সরকারি মুসলিম হাইস্কুলে পড়ার সময়ে ছাত্রলীগ রাজনীতি সংগঠিত করেন শহরের প্রতিটি স্কুল-কলেজে। স্কুল জীবনেই তিনি পাবলিক লাইব্রেরি, ব্রিটিশ কাউন্সিলসহ শহরের সব বড় লাইব্রেরির কার্ডধারী নিয়মিত সভ্য! দেশ ও বিশ্ব রাজনীতি আত্মস্থ করেন অতি দ্রুত। স্কুল ও পরবর্তীতে কলেজ জীবনেও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বক্তৃতায় তাঁর সঙ্গে পাল্টা দিতেন বিশ্বস্ত বন্ধু মরহুম ইদরিস আলম। তাদের অন্য ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা হচ্ছেন, মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, মরহুম খালেকুজ্জামান, নঈমুদ্দিন চৌধুরী, মরহুম সুলতানুল কবির চৌধুরী, শফর আলী, ফিরোজ আহমদসহ আরো একঝাঁক তরুণ। সবাই ছাত্রলীগ রাজনীতির জাতক।

সৌভাগ্য, সিটি কলেজে জুনিয়র কর্মী হিসাবে সত্তর সালে সাইফুদ্দিন ভাইয়ের মত তুখোড় ও দুঃসাহসী নেতাকে পেয়েছি। গ্রাম থেকে বয়ে আনা জড়তা তখনো আছে। কিন্তু প্রতিফোঁটা হিমোগ্লোবিনে দ্রোহের বারুদ তুষের আগুনের মত জ্বলছিল। গণ আন্দোলন জোয়ারের ঢেউ শহর ছাত্রলীগ কেন্দ্র সিটি কলেজে তখন তুমুলভাবে আছড়ে পড়েছে। প্রতিদিনই মিছিল, মিটিংএ কলেজ থেকে সারা শহর দাবড়ে বেড়াচ্ছি। সিটি কলেজে তখন সুলতানুল কবির চৌধুরী, মরহুম হারুনুর রশিদ, ইদরিস আলম, মরহুম এস.এম কামাল উদ্দিন, মরহুম ম, ইদরিস, খালেকুজ্জামান, মরহুম কিবরিয়া, সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরীরা ছিলেন সামনের সারির নেতা।

ইদরিস আলমদের চেয়ে বয়সে কনিষ্ঠ হলেও কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত এজিএস সাইফুদ্দিন ছিলেন সম্মোহনী সুবক্তা এবং অদম্য সাহসী। বঙ্গবন্ধু মুক্তি, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা আন্দোলন, রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের সূচনাতেই বার বার প্রমাণ করেছেন, তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী, মৃত্যুঞ্জয়ী বীর। এখানে কিবরিয়াদের প্রসঙ্গও তুলতে হয়, দেশব্যাপী বঙ্গবন্ধুর মুক্তি, তাঁর ৬ দফা, ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে দুর্বার গণআন্দোলন থামাতে আইয়ুবের পোষা ভাঁড় গবর্নর মোনেম খান এনএসএফ নামে সরকারি পেটোয়া বাহিনী গড়ার পাশাপাশি ছাত্রলীগেও ভাঙ্গন তৈরি করে।

কুশীলব হিসাবে ১/১১’র সুবিধাভোগী ফেরদৌস কোরেশী ও মরহুম আল মুজাহিদীকে বেছে নেয়। তারা রাতারাতি বাংলা ছাত্রলীগ নামে নয়া গ্রুপ করে চট্টগ্রামের মাস্তান কিবরিয়াকে সিটি কলেজ দখলের দায়িত্ব দেয়। কিবরিয়া শহরের বিপুল মাস্তানসহ সিটি কলেজ দখল নিতে সশস্ত্র অবস্থায় নেকড়ের মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। আতঙ্কিত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা পালাতে থাকে। কিন্তু অবাক কাণ্ড! ছিপছিপে সাইফুদ্দিন কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা নিয়ে সামনে থেকে চ্যালেঞ্জ করেন। বলেন, ‘কিবরিয়া তোর দিন শেষ, আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিস, পুড়ে মরবি’! সঙ্গে সঙ্গে সশস্ত্র কিবরিয়া দলবলসহ সাইফুদ্দিনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু এই খাপখোলা তরবারি একচুলও পিছু হটেননি। উল্টো প্রচণ্ড থাপ্পড় চালান মাসলম্যান খ্যাত কিবরিয়ার গালে। হতচকিত কিবরিয়া থমকে দাঁড়ালে তার বাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের সমবেত প্রতিরোধে কিবরিয়া বাহিনী লেজ গুটিয়ে পালায়।

চট্টগ্রামের স্বাধীনতা আন্দোলনে এটা এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। কারণ, সিটি কলেজই ছিল ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্রলীগের আন্দোলন-সংগ্রামের মূলকেন্দ্র। সিটি কলেজ কিবরিয়াদের দখলে গেলে চট্টগ্রামের ছাত্র আন্দোলনে পরবর্তী ধাপে কী ঘটতো, তা কল্পনা করতেও ভয় হয়। হামলায় সাইফুদ্দিন ভাইসহ আরো বেশ ক’জন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী আহত হন। তাঁকে ক’দিন চিকিৎসায় থাকতে হয়।

হামলার খবর রেস্ট হাউসে অবস্থানরত শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পিতা জহুর আহমেদ চৌধুরীকে জানানো হলে তিনি প্রিয় ছেলের বদলে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অবস্থান জানতে চান। কলেজে সার্বক্ষণিক নজরদারিরও নির্দেশনা দেন। প্রিয় পুত্র নয়, তাঁর কাছে সংগঠন ও দেশ ছিল বেশি দামি, যা কর্ম দিয়েই বারবার প্রমাণ রেখে গেছেন।

সাইফুদ্দিন ভাইকে নিয়ে ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল তাঁর শাহাদাত বার্ষিকীতে একজন পেশাদার জীবনীকার ‘মৃত্যুঞ্জয়ী বীর শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী’ নামে স্মরণিকা প্রকাশ করেন। সম্পাদনা নাকি তাড়াহুড়োজনিত কারণে ঠিক জানি না, এতে স্মৃতিচারণকারীরা তাঁর মার্চ-এপ্রিলের টানা প্রতিরোধ যুদ্ধ, অবস্থান ও শাহাদাত নিয়ে কিছুটা পরস্পর বিরোধী বক্তব্য রেখেছেন। শাহাদাতের স্পট ঠিক থাকলেও গ্রুপটির ওখানে যাওয়ার রুট নিয়ে মতভিন্নতা প্রচুর।

১৯৭১ এর ১৩ এপ্রিল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে সাইফুদ্দিন ভাইদের জিপ হানাদার পাকি দস্যুদের সহজ টার্গেটে পড়ে। কিছুক্ষণ খণ্ডযুদ্ধের পর জিপ আরোহী দুঃসাহসী মুক্তিযোদ্ধা সাইফুদ্দিন খালেদ, চাকসু জিএস আবদুর রব, অধ্যাপক দীলিপ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মোজাফফর আহমদ, জিপচালক মোহাম্মদ ইউনূস শহীদ হন। সুলতানুল কবির চৌধুরী জিপের আড়াল নিয়ে পাহাড় ঝোপে আত্মগোপন করে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। হানাদারের হাতে ধরা পড়েও উর্দু পশতু ভাষা ব্যবহার করে ফিরোজ আহমদও বেঁচে যান। সাইফুদ্দিন ভাইসহ দু’জন সম্মুখযুদ্ধে বাকিরা আটক অবস্থায় গণখুনের শিকার হন। এমনিতেই সাইফুদ্দিন ভাই ছাড়া চার শহীদের কথা বড়বেশি উচ্চারিত হচ্ছে না। ৩০ লাখ নাম না জানা শহীদের মত তাঁরা স্রেফ সংখ্যার সমুদ্রে মিশে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে যেসব মুক্তিযোদ্ধা বই বের করেছেন, স্মৃতিচারণ করছেন, সেখানে নিজের আমিত্বের বাড়াবাড়ি মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব খাটো ও তথ্য বিকৃতি ঘটাচ্ছে। সৌখিন গবেষকরাও নির্মোহ অবস্থান থেকে দূরে।

স্বাভাবিক কারণে ইতিহাস বিকৃতি সামনে আরো বাড়তেই থাকবে। শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরী কিছুটা হলেও মর্যাদা পাচ্ছেন, বিকৃতি থেকেও মুক্ত আছেন। এটা তাঁর ছোটভাই মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্য সব ভাইদের আগ্রহের কারণে। তাঁর অযত্নে পড়ে থাকা অরক্ষিত কবর থেকে দেহাবশেষ বাবা জহুর আহমেদ চৌধুরীর কবরের পাশে সমাহিত করা হয় ২০১২ সালে। তাও মাহতাব ভাই, হেলাল উদ্দিন চৌধুরী তুফানসহ অন্য ভাইদের আগ্রহে। নাহলে শহীদ আবদুর রব, শেখ মোজাফফর, দীলিপ চৌধুরী, ইউনূসদের মত অযত্নে- অবহেলায় স্মৃতি থেকে তিনিও মুছে যেতেন। এটা জাতি হিসাবে আমাদের সবচেয়ে বড় লজ্জা। মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ভাতা, উপহার, সুবিধা নাতিপুতিসহ বাড়িয়ে নিতে আমরা যতটুকু তৎপর, বিপরীতে যাদের রক্তে গোছল করে এবং সম্ভ্রমের দামে এই মাটি মুক্ত ও পবিত্র হয়েছে, তাদের অবহেলা করতেও সমানে আগুয়ান! অন্তত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ শহীদ সাইফুদ্দিনের সহযোদ্ধা সব শহীদের জীবন, যুদ্ধ, তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস আগামী প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে পারতো।

এমন হলে তারুণ্য দেশপ্রেমের হিরের খনি থেকে আলো নেয়ার উৎসমুখ খুঁজে পেতো। বিকৃত হতো না ইতিহাস। সাইফুদ্দিন ভাইয়ের মায়ের কিছু উধৃতি টেনে লেখা শেষ করছি। সাইফুদ্দিন ভাইয়ের মা জাহানারা বেগম দু’বছর বছর পরলোক পাড়ি দিয়েছেন। বড় ছেলের শাহাদাতের খবর তাঁর কাছে অনেকদিন গোপন রাখা হয়। এমনকি মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড প্রধান বাবা জহুর আহমদ চৌধুরী ফিরে আসার পরও। মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ অন্য ভাইরা তাঁকে আশ্বস্ত করছিলেন, ‘তোমার ছেলে খুব ভাল আছে। বার্মা ফ্রন্টে যুদ্ধ করছে’। কিন্তু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু ফিরে আসার পর তাঁকে কোনভাবেই সামলানো যাচ্ছিল না।

সাদাসিধে শহীদ জননী প্রিয় সন্তানের শোকে প্রচণ্ড আহাজারি করতে থাকেন। তখন মাহতাব ভাই মাকে বুকে জড়িয়ে বলেন, ‘কাঁদ কেন মা! তুমি শেখ মুজিবের মা, তুমি ক্ষুদিরামের মা, তুমি সূর্যসেনের মা, তুমি পুরো বাংলাদেশের মা, তুমি ত্রিশ লাখ শহীদের মা’! ১৩ এপ্রিল শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদসহ জাতির পাঁচ সেরা যোদ্ধার শাহাদাত বার্ষিকী। জীবনের খোলসে পুরে রাখা মিশাইলের বিস্ফোরণ ঘটানো শহীদ সাইফুদ্দিন খালেদ চৌধুরীসহ সব শহীদের মহান স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত