ঢাকা, রোববার, ১১ এপ্রিল ২০২১, ২৮ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ৯ মিনিট আগে

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০০:০৯

প্রিন্ট

রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন ড. কামাল?

রাজনীতি ছেড়ে দিচ্ছেন ড. কামাল?

কিরণ শেখ

গণফোরামের ডাকা বর্ধিত সভায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব উঠেছে। এরপর থেকে রাজনৈতিক মহলে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে- ড. কামাল হোসেন গণফোরাম ছেড়ে দিচ্ছেন। শুধু গণফোরাম নয়, তিনি রাজনীতিই ছেড়ে দিচ্ছেন- এমন গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।

শনিবার গণফোরামের ডাকা বর্ধিত সভায় ড. কামাল হোসেনকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব উঠলেও দলটি এখনো কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে আগামী ২৮ ও ২৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণফোরামের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

বর্ধিত সভায় গণফোরামের সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য মহসিন রশিদ বর্ধিত এই প্রস্তাব তুলে ধরেন। গণফোরামের নেতাদের একটি পক্ষ এই বর্ধিত সভার আয়োজন করেন। এতে নেতৃত্ব দেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

সভায় মহসিন রশিদ বলেন, দলের মধ্যে অনেক বিভাজন চলছে। এই বিভাজন বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেয়া উচিত। কমিটির সাবেক সদস্য সত্তার পাঠানও একই প্রস্তাব করেন। পরে জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতা এই প্রস্তাব সমর্থন করেন।

সভায় সারা দেশের ৫৬ জেলা থেকে ২৮১ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। আগামী ২৮ ও ২৯ মে গণফোরামের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণফোরামের এক শীর্ষ নেতা বাংলাদেশ জার্নাল বলেন, বর্ধিত সভায় আগে আমরা (গণফোরামের নেতারা) ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। উনি আমাদের বলেছেন, উনি গণফোরামের সভাপতি পদে থাকবেন না। আর রাজনীতিও করবেন না। উনি দল ও রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।

ড. কামাল হোসেনকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, উনার জন্য আমরা কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। আর উনার বয়স হয়েছে এবং শারীরিকভাবেও হাঁটা-চলা করতে পারেন না।

গণফোরামের বর্ধিত সভা প্রসঙ্গে মন্টু বলেন, আজকের বর্ধিত সভা উনি (কামাল হোসেন) ডেকেছিলেন। হল ভাড়া এবং টাকাও উনি দিয়েছিলেন। কিন্তু উনি কেন আসলেন না, তা আমি জানি না।

জানতে চাইলে গণফোরামের সাবেক নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বাংলাদেশ জার্নাল বলেন, উনাকে সভাপতির পদ থেকে বাদ দেয়ার জন্য সভায় কয়েকজন বক্তব্যে দিয়েছেন। কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এটা কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হবে। আর উনি নিজেই সব জায়গায় বলছেন যে, উনি দল করবেন না এবং রাজনীতিও করবেন না।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে দিন যত যাচ্ছে গণফোরামে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা ততই বেড়ে চলেছে। যদিও গত ১৯ ডিসেম্বর গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছিলেন, গণফোরামে এখন আর কোন ভুল বোঝাবুঝি নেই। কিন্তু গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণফোরাম থেকে ড. রেজা কিবরিয়ার পদত্যাগ কোন্দলের নতুন মাত্রা যোগ করে। তার উপর ৩ ফেব্রুয়ারি গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিকের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে পৃথক পৃথকভাবে মোশতাক আহমেদ ও মোস্তফা মহসিন মন্টুর নেতৃত্বে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর দলটির মধ্যে বিভেদ আরও সুস্পষ্ট হয়েছে।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভেঙে যায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। পরে গণফোরামের অভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দল এবং পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের মধ্যেই কেন্দ্রীয় কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছিলেন ড. কামাল হোসেন। এসময় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিও ঘোষণা করে বিভক্ত গণফোরাম। একটি অংশ গত ২৬ ডিসেম্বর জাতীয় সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে। একই দিন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন অংশটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করেছিলো। পরে বিভক্ত গণফোরামের ডাকা পাল্টাপাল্টি কাউন্সিল স্থগিত করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ৪ মার্চ কেন্দ্রীয় কমিটির বিলুপ্তি ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন ড. কামাল হোসেন। পরে ১২ মার্চ গণফোরামের ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন তিনি। যেখানে জায়গা হয়নি দলটির তিন পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং মোস্তফা মহসিন মন্টুর।

আরও পড়ুন-

সভাপতির পদ থেকে ড. কামালকে বাদ দেয়ার প্রস্তাব

আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি

বাংলাদেশ জার্নাল/আর/টিআর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত