ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৭:১০

প্রিন্ট

গ্রেপ্তার এড়াতে সমাবেশ থেকে লাপাত্তা যুবদল নেতারা!

গ্রেপ্তার এড়াতে সমাবেশ থেকে লাপাত্তা যুবদল নেতারা!
প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রেপ্তার আতঙ্ক ভর করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতা কর্মীদের মধ্যে। গ্রেপ্তার এড়াতে প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগেই সংগঠনটির প্রায় শতাধিক নেতা কর্মীকে সমাবেশ স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাইকে সমাবেশের সঞ্চালক বলছেন, এখন বক্তব্য রাখবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই কথা শোনার পরেই যুবদলের প্রায় শতাধিক নেতা কর্মী সমাবেশ স্থান ত্যাগ করেন।

পরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আপনারা ধৈর্য ধরে বসেন। প্লিজ বসেন ধৈর্য ধরে। বসেন আপনারা। আমরা আজকে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমাবেশ শেষ করতে চাই। এই বসেন। সমাবেশ করে আমরা এখান থেকে যেতে চাই। আপনাদের অনুরোধ করবো, সমাবেশ শেষ হওয়ার পর সবাই শান্তিপূর্ণভাবে চলে যাবেন।’

এসময় বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা হয় কেন্দ্রীয় যুবদলের এক নেতার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই নেতা বলেন, গ্রেপ্তার এড়াতেই নেতা কর্মীরা চলে যাচ্ছেন। তাই অনেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগেই চলে যাচ্ছেন। কারণ এসময় পুলিশ কাউকে আটক করবে না।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে শেষ হওয়ার আগেই কদম ফোয়ারার সামনে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রেসক্লাবের দ্বিতীয় গেটে অবস্থা নেন। এসময় যুবদলের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সড়কে বসা অবস্থায় দাঁড়িয়ে যান।

পরে মির্জা ফখরুল বলেন, আমি স্লোগান দিচ্ছি। আপনারা স্লোগান দেবেন। মুসতাক আহমেদের হত্যার- জবাবে নেতা কর্মীরা বলেন, বিচার চাই বিচার চাই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- কর্মীরা বলেন, বাতিল করো বাতিল করো। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার-নেতা কর্মীরা বলেন, মুক্তি চাই মুক্তি চাই।

এদিকে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের পর প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা সচিবালয় ও তোপখানা রোড দিয়ে সমাবেশের স্থান ত্যাগ করেন। সবশেষ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানকে সমাবেশের স্থান ত্যাগ করতে দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলেরর উদ্যোগে "লেখক মুসতাক আহমেদ ও সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির হত্যার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে" এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল ৯টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যুবদলের নেতা কর্মীদেরকে সমাবেত হতে দেখা গেছে। প্রায় শতাধিক নেতা কর্মী এই সমাবেশ অংশ নেন। তাদেরকে প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে বসে সু-শৃঙ্খলাভাবে প্রতিবাদ সমাবেশ অংশ নিতেও দেখা গেছে।

এদিকে যুবদলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কদম ফোয়ারা ও তোপখানা রোডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে পথচারীদের তল্লাসী করতে দেখা গেছে।

সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতা কর্মীদেরকে আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বাধা দিয়েছেন বলে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে অভিযোগ করেন বিএনপির নেতারা।

যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত