ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১৩ বৈশাখ ১৪২৬ অাপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৭ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৩

প্রিন্ট

সাক্ষাৎকারে আসাদুজ্জামান রিপন

‘দলীয় পদ থেকে’ সরে যেতে আপত্তি নেই

‘দলীয় পদ থেকে’ সরে যেতে আপত্তি নেই
কিরণ সেখ

আসাদুজ্জামান রিপন। বিএনপির বিশেষ সম্পাদক। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অগ্রগামী একজন হিসেবেই তাকে গণ্য করে তার দল বিএনপি। গত ১৯ মার্চ বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। দলটির সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল কবে হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ, ডাকসু নির্বাচন এবং দলের কর্ম-পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সঙ্গে কথা বলেছেন আসাদুজ্জামান রিপন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কিরণ সেখ

বাংলাদেশ জার্নাল: একাদশ জাতীয় সংসদ ও ডাকসু নির্বাচনে বিএনপি এবং ছাত্রদলের ভরাডুবির কারণ কি?

আসাদুজ্জামান রিপন: আমি বলবো ভরাডুবি হয়নি। যে দেশে নির্বাচন আগের দিন রাতে হয় এবং জনগণ ভোট দিতে যেতে পারে না। আর যেখানে ভোট হয়নি, সেখানে জয় পরাজয়ের কী আছে! ডাকসুতেও একই ঘটনা ঘটেছে। সংসদ এবং ডাকুস নির্বাচনের মতই এখন যতগুলো নির্বাচন হবে সব একই পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে বর্তমান সরকারের আমলে। সুতরাং বিএনপি বা ছাত্রদলের কারো ভরাডুবি হয়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল: আপনি বলছেন, বর্তমান সরকারের আমলে একই পদ্ধতিতে সব নির্বাচন হবে, একথা জানার পরও আপনারা কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেন?

আসাদুজ্জামান রিপন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আমরা যদি না যেতাম তাহলে মাস্টার সাহেবরাও যে হুদা মার্কা নির্বাচন করেন, সেটা তো আমরা জানতে পারতাম না। আর দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে, বাকি ছিলেন শুধু আমাদের মাস্টার সাহেবরা। সেটা সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে এখন পর‌্যন্ত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি, বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

আসাদুজ্জামান রিপন: আমি ব্যক্তিগতভাবে যেটা মনে করি, ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন সাহেব তো বেগম জিয়ার মুক্তি চেয়েছেন। তিনি মুক্তি চাননি- এবিষয়টি সত্যি নয়। ড. কামাল হোসেন সাহেব খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিও করেছেন। আর জোট মানে তো আমি মনে করি না যে, সবাই এক রকম কাজ করবে এবং এক রকম কথা বলবে। জোট মানে হচ্ছে, ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে জোট।

এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার তো নিজেরই একটি দল আছে। সেই দল কর্মসূচি দেবে। আর সেই দল যদি কর্মসূচি না দেয় তখন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে আপনি সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু জোট কর্মসূচি দেয়নি। এর কারণ, এটা একটি নির্বাচন কেন্দ্রীক জোট ছিল। সুতরাং এটা বড় কোনো সমস্যা না। আর এই জোটটা বহাল থাকুক, সেটা আমি চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: গত ১৯ মার্চ বিএনপির বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, কবে নাগাদ দলের ৭ম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে?

আসাদুজ্জামান রিপন: মনে করতে পারেন আরো তিন বছর পর। কারণ বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের ১৯ মার্চ মেয়াদ শেষ হয়েছে, আর ২০ মার্চ কাউন্সিল করেছে (আওয়ামী লীগ বিএনপি ও বামদলগুলোও) এই রকম কোন নজির আছে? তবে কাউন্সিল করা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) নিজের প্রয়োজনেই কাউন্সিল করা উচিত। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়া উচিত। আর আমরা যারা ব্যর্থ হয়েছি- আমি নিজেও…। তবে আমার নিজের সরে (দলীয় পদ থেকে) যেতে কোনো আপত্তি নাই। আরো যারা যোগ্য ব্যক্তি আছেন, তারা দলের নেতৃত্বে আসবেন। আসা উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল : বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্ম-পরিকল্পনা কী?

আসাদুজ্জামান রিপন: আমি কর্মসূচি নির্ধারণ করার মতো জায়গার লোক নই। আমি দলের চেয়ারপারসন, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহাসচিবও নই। আর দলের সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন এই তিন জন। কিন্তু আমি এই তিন জনের একজনও নই। তবে আমার আকাঙ্ক্ষার কথা হচ্ছে, বর্তমান পাকিস্তান আমলের চেয়েও খারাপ জায়গায় রয়েছে বাংলাদেশ। একারণে আমি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলাম- দেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র থাকবে এবং জনগণ তার রায় দেবে। আর জনগণের প্রতিনিধিরা দেশ পরিচালনায় করতে পারে- এটা হচ্ছে আমার আকাঙ্ক্ষার কথা। আর যে নির্বাচন ব্যবস্থা তছনছ হয়েছে গেছে- সেখানে একটি বড় ধরণের সংস্কার দরকার।

বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

আসাদুজ্জামান রিপন: আপনাকে ও বাংলাদেশ জার্নাল পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত
close
close