ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ২২:১৫

প্রিন্ট

মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার: ফখরুল

মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে সরকার: ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা সংকটের ইস্যুতে মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশের সরকার সম্পূর্ণভাবে নতি স্বীকার করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার দলের চেয়ারপারসনের গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রোহিঙ্গার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মূলা দিয়েছে, সেই ফর্মূলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ যে, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরাণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলো, তার সমাধান হয়নি। অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ানমারের যে ফর্মূলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পূরণ করবার জন্য সরকার কাজ করছে বলে আমরা মনে করি।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে সরকারের ব্যর্থতাও দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা যেটা লক্ষ্য করেছি- আসলে এই সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে রোহিঙ্গা বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে। আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করা যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে একটা বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে পারতো।

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আগে বলেছিলাম যে, এই সমস্যার সমাধানে প্রথম হচ্ছে অলপার্টি ডায়ালগ করা। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে ওইখান থেকে বেরিয়ে আসতো আমাদের কী করতে হবে। প্রথমে দরকার ছিলো সরকার প্রধানের সেই সমস্ত রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্য স্টেটের সাথে দেখা করা, যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলো। সেটা সরকার করে নাই, এখন পর্যন্ত তারা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা বাংলাদেশের সরকারের কোনো প্রতিনিধিদল করেন নাই। মিয়ানমার যে ফর্মূলাগুলো দিচ্ছে, সেগুলো তারা নিচ্ছেন। এখানে বুঝা যায়, তারা বাংলাদেশের ইন্টারেস্টটা সেভাবে দেখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাপক প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে প্রত্যাবাসন শুরুর কর্মসূচি। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বসতভিটাসহ সম্পদ ফেরত ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করা না হলে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে আগের অবস্থানেই অনঢ় রয়েছে।

ফখরুল জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যে র‌্যালী হওয়ার কথা ছিলো তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে আলোচনা সভা হবে।

বৈঠকে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট মামলায় হাইকোর্টর আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান ফখরুল।

দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

কেএস/ডিপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত