ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬ আপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০:২৭

প্রিন্ট

ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে, ভাঙন ধরেনি: ফখরুল

ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে, ভাঙন ধরেনি: ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে, কোনো ভাঙন ধরেনি বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার রাজধানীর শিশু কল্যাণ পরিষদের মিলনায়তনে বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা করেন।

সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বক্তব্যের সূত্র ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে তিনি (জাফরুল্লাহ চৌধুরী) এখন আর অ্যাকটিভ দেখতে পাচ্ছেন না। এটা সত্য কথা বলেছেন। কিন্তু অ্যাকটিভটা কোন দিক দিয়ে না? আমরা আমাদের কাজগুলো করছি। দলগুলোকে সংগঠিত করছি। আমরা সংগঠনগুলোকে সংগঠিত করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নেমে আসতে পারি, সেজন্য কাজ করছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি জানি অন্যান্য দলগুলো প্রত্যেকেই কাজ করছেন। এই কাজের মধ্যে দিয়ে অবশ্যই জনগণের চাহিদার প্রেক্ষিতে অতিদ্রুত একটি ঐক্য তৈরি হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আজকে সব রাজনৈতিক দলগুলো যদি একত্রিত না হয় তাহলে সে লড়াইয়ে সফল হওয়া যাবে না। সেকারণেই নির্বাচনের পূর্বে আমরা ঐক্যফ্রন্ট ও জোট তৈরি করেছিলাম। সেগুলো অটুট আছে। কোনো ভাঙন ধরেনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হচ্ছে যে, আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম করছি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক যে দলগুলো আছে এবং যাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এই স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, আমরা নিজেরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারছি না।

তিনি বলেন, আজকে আমরা যখন বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস পালন করছি, তখন আমাদের দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। অনেকেই বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য বিএনপিসহ পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও সঙ্গে রাখতে হবে। আমি এ কথার সঙ্গে একমত নই। কারণ আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এটা একটি ফ্যাসিস্ট শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাই অন্যসব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে এই ফ্যাসিস্ট শক্তির মিল খোঁজার কোনো কারণ আছে বলেও আমি মনে করি না।

দেশে বর্তমানে বিদেশিদের ‘পাপেট সরকার’ কাজ করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে যারা বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, যারা বিশ্ব অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের একটা ক্রীড়নক হয়ে এই সরকার বসে আছে। যে কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা, আসামের নাগরিকপঞ্জির ১৯ লাখ মানুষকে রাষ্ট্রহীন করে বাংলাদেশি বলা। তাদের বাংলাদেশে পাঠানো হবে। তখন এই নতজানু সরকার কোনো প্রতিবাদ করতে দেখি না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বের করতে হবে। আসুন আমরা আমাদের ছোটখাটো যে সমস্যাগুলো আছে অর্থাৎ মতানৈক্য আছে- সেগুলোকে পাশে রেখে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য সবাই এক সাথে কাজ করি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই আওয়ামী লীগ ইতোপূর্বেও একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। এরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। কোনো দিন করেনি। এরা একটা ফ্যাসিস্ট শক্তি। তারা স্বৈরতন্ত্রে বিশ্বাস করে। একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। সেটাই তারা করতে চায়। আমরা অবশ্যই তাদের সঙ্গে একমত নই। আমরা যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বিশ্বাস করি, আমরা অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হবো। সামনের দিকে সেই লড়াইয়ে জয়যুক্ত হবো ইনশাল্লাহ।

সভায় জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, স্বাধীনতার তিন বছরের মধ্যে গণতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল করা হয়েছিলো। কয়েকটি মিনিটের মধ্যে পার্লামেন্টে বিল পাস করতে হয়েছে, এজন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগেনি। বাকশাল বাংলাদেশে সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের সহযোগিতা করেছে। এখন আবার অঘোষিত বাকশাল অলমোস্ট হয়ে গেছে। আমি বলতে চাই, এসব করে কোনো লাভ হবে না। এই স্বৈরাচার দিয়ে গণমানুষের উন্নয়ন হবে না। জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে এই স্বৈরাচার হটানো যাবে না। পুরো জাতির গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক, বামপন্থি শক্তি সকলে মিলে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের মাধ্যমে এদের বিদায় করতে হবে। সকলকে এক হয়ে রাজপথে নামতে হবে।

ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গতকালকে একটা টকশোতে গেছি, গত কয়েকদিন ধরে এই যে, ছাত্রলীগের বিরাট অর্জন-এটা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে এবং উনারা আমাদেরকে দিয়ে বলাবার চেষ্টা করেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে এর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়েছেন এটাকে অন্তত প্রশংসা করেন, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকে দায়িত্ব থেকে বের করে দিয়েছেন-এটাকে ভালো বলবেন না?

সভায় জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাবির আইন বিভাগের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল, জনসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যর উপদেষ্টা এসএম আকরাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

কেএস/ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত