ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:০০

প্রিন্ট

ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতার স্পিরিটকে ফিকে করছে: রিজভী

ক্ষমতাসীনরা স্বাধীনতার স্পিরিটকে ফিকে করছে: রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে স্বাধীনতার স্পিরিটকে ক্রমশ ফিকে করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রবলভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন সাদেক হোসেন খোকা। আর এবার তার অন্তিম যাত্রায় অসংখ্য মানুষের শোকাহত উপস্থিতি প্রমান করে শেখ হাসিনা তার কাছে আরো একবার পরাজিত হয়েছেন। এই সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করে স্বাধীনতার স্পিরিটকে ক্রমশঃ ফিকে করছে। কিন্তু দেশের মৃত্তিকার সন্তান সাদেক হোসেন খোকার জানাযায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে প্রমান হয়েছে সরকার চক্রান্ত করলেও জনগণের হৃদয়স্পর্শী আবেগকে স্তব্ধ করে রাখা যায় না।

তিনি বলেন, লাখো মানুষের শ্রদ্ধা ভলোবাসায় এই দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা। তবে দেশবাসী বেদনার্ত যে, এদেশের বীর সন্তান সাদেক হোসেন খোকা জীবনবাজি রেখে যে দেশটা স্বাধীন করতে বীরোচিত ভূমিকা রেখেছিলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিদেশে মারা যাওয়ার পর তিনি নিজ দেশে ফিরলেন ‘রিফিউজি’ কিংবা ‘রাষ্ট্রীবিহীন’ নাগরিকের মতো ট্রাভেল ডকুমেন্ট নিয়ে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দোহাই দিয়ে যারা এখন রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে আছেন, তারা সাদেক হোসেন খোকাকে পাসপোর্ট নবায়নের সুযোগ দিতে অস্বীকার করেছে। দেশের জনগণ বিশ্বাস করে এই দেশে এখন শেখ হাসিনার কথা ছাড়া কিছু হয় না। তাই শেখ হাসিনার চাননি বলেই ২০১৭ সালে থেকে চেষ্টা করেও মৃত্যুর আগে পর্যন্ত সাদেক হোসেন খোকা তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ নবায়নের সুযোগ পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।

রিজভী বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনবে, তাদের সে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, প্রমাণ করতে না পারলে মিথ্যা অভিযোগকারীদেরকে শাস্তি পেতে হবে।’এটা স্পষ্টত যে, প্রধানমন্ত্রীর এই হুমকির কন্ঠ আইয়ুব-ইয়াহিয়া-হিটলার-মুসোলিনির কণ্ঠের প্রতিধ্বনি। আর ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছে স্বয়ং ছাত্রলীগ। ভিসি কিভাবে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা বিতরণ করেছিলেন তা গণমাধ্যমে বিশদভাবে প্রকাশিত হয়েছে। ছাত্রলীগের পদচ্যুত সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগ নেতারা ভিসি এবং ভিসির পরিবারের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেনের অভিযোগ উত্থাপন করেছেন সেটিও গণমাধ্যমে এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর প্রীতিধন্য জাবির ভিসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বরং প্রধানমন্ত্রী ভিসিকে রক্ষা করতে বক্তব্য দিয়ে দুর্নীতির পক্ষে সুষ্পষ্ট সাফাই গাইলেন।

এমএ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত