ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:৫৪

প্রিন্ট

একজন আব্দুল মালেক ও আমার ভাবনা

একজন আব্দুল মালেক ও আমার ভাবনা
ফাইল ছবি
এস এম জাহিদুল হাসান

‘যেকোনো অফিসে দুর্নীতি রোধে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট অথরিটির ইচ্ছা। তারপর প্রয়োজন যথাযথ ‘Internal Control System’ প্রতিষ্ঠা, বাস্তবায়ন ও সময়সময় হালনাগাদ করা।’

সময়ের আলোচিত টপিক জনাব আব্দুল মালেক। তাকে নিয়ে অনেকেই কথা বলছেন। একটু চিন্তা করে দেখুন, আব্দুল মালেক তো দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় সামান্য একজন ড্রাইভার মাত্র। তার অফিসিয়াল রেসপন্সিবিলিটির আওতায় একটি ব্যতীত তেমন কোন সুযোগই নাই যে, সে ম্যানিপুলেশন এর মাধ্যমে এতো এতো টাকা কামিয়েছে।

তাহলে এতো টাকা আসলো কোত্থেকে? উৎস তালাশ করলে সম্ভাব্য দুটি পাওয়া যেতে পারে। একটি তার বৈধ উৎস। অন্যটি অবৈধ। আমি জানি না আসলে তাঁর বেলায় কোনটা সঠিক।

যদি বৈধ উৎসের কথা ধরি তাহলে দেখা যাবে, একজন ড্রাইভার এর বেতন, ওভারটাইম ও কোন কোন ক্ষেত্রে লাঞ্চ ভাতা এর টাকার পরিমাণ মোটামুটি ভালই হয়ে থাকে। যদি তাঁর থাকার জায়গার ভাড়া না লাগে তাহলে মাসে তার সঞ্চয়ের পরিমাণ ভালোই।

একটু পিছনে গেলে দেখা যাবে যখন ৪০ কিংবা ৫০ হাজার কিংবা আরেকটু বেশি টাকা দিয়ে ঢাকা শহরে বা আশেপাশে প্লট কিনা যেত।

অনেকেই কিন্তু সে সুযোগটা নিয়ে রেখেছেন। যাদের প্লট থাকে তাদের সামান্য সঞ্চয় থাকলে বাড়ি করা সম্ভব। তাছাড়া তার পারিবারিক সম্পত্তি ও টাকাপয়সাও থাকতে পারে। এই রকম হলে বৈধ পথেও সম্ভব। সামান্য সঞ্চয় দিয়ে অনেকে যৌথভাবে বাড়ি করার নজিরও কিন্তু আছে।

যদি অবৈধ উৎসের কথা ধরি, তাহলে আব্দুল মালেকের দায়িত্বগত তেমন কোন অবৈধ উৎস পাওয়া যাবে না। যতটুকু পাওয়া যাবে সেটা খোঁজ করলে আব্দুল মালেক গং-এর খবর পাওয়া যাবে। সেটা আব্দুল মালেকের সহযোগী কেউ বা এরকম আরো আব্দুল মালেক হতে পারে। আমি গং-এর দোষ দিচ্ছি না। আসল সমস্যা হলো ‘Absence of Internal Control System in offices’।

আজ অফিসগুলোতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর বিভিন্ন আলামত আছে। একজন ড্রাইভার’র নিকট তার গাড়ি ব্যবহারকারী কর্মকর্তাগণ দুর্বল থাকে। ঐ কর্মকর্তা তাঁকে সহজে মনিটর করতে পারেন না। বলতে পারেন কেন? কারণ, সম্পর্ক খারাপ থাকলে যেকোনো সময় যথাযথ সার্ভিসে বিঘ্ন ঘটবে।

সার্ভিস ঠিক রাখার আশায় একজন কর্মকর্তা তার ড্রাইভারের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার চেষ্টা করে। সে সুযোগে ড্রাইভার তেল চুরির যেমন সুযোগ পায় তেমনি ঐ কর্মকর্তার নিকট থেকে অবৈধ সুবিধা অর্জন করে। আবার ঐ সম্পর্কের পাশাপাশি ঐ কর্মকর্তারও যদি নৈতিক স্খলন থাকে, তাহলে তো ‘win win situation’। যোগসাজশে অনেক কিছুই সম্ভব। এ রকম বাড়ি গাড়ি কোন অসম্ভব ব্যাপার না।

উপরের কথাগুলো আমার নিজস্ব। এগুলো অন্য কারো দৃষ্টিতে সঠিক নাও হতে পারে। তবে, আমার মতে এরকম হতে পারে। আমার খুব কষ্ট লাগে আরো বড় পদে চাকরি করেও অনেক কর্মচারীর মাস গেলে কোন টাকা থাকে না। তার টাকা বাঁচানোর কোন সুযোগও সংশ্লিষ্ট অথরিটি করে দেয়নি।

অন্যদিকে, অনেক কর্মচারীর আর্থিক অবস্থা যথেষ্ট ভালো আছে। পাশাপাশি টাকা বাঁচানোরও সুযোগ পেয়েছে। আরেকটি বিষয় হলো যেকোনো অফিসে দুর্নীতিরোধে সর্বপ্রথম প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট অথরিটির ইচ্ছা। তারপর প্রয়োজন যথাযথ ‘Internal Control System’ প্রতিষ্ঠা, বাস্তবায়ন ও সময় সময় হালনাগাদ করা।

লেখক: সরকারি কর্মকর্তা

(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

আরও পড়ুন: কোটিপতি মালেককে ১৪ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পত্তি নিয়ে যা বললেন তার আপন ভাই

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত