ঢাকা, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:৪৭

প্রিন্ট

প্রতিবাদ সকাল

প্রতিবাদ সকাল
অনলাইন ডেস্ক

শাওন মাহমুদ মুক্তিকে ডাকে আম্মাজান, আমাকে বাপজান। আমাদের এই চাষী কন্যার ছাদ বাগানটি ঢাকার সবচেয়ে বিখ্যাত। এরচেয়ে বড় বাগান নিশ্চয়ই অনেক আছে। কিন্তু শাওন মাহমুদ নিয়মিত লিখে এবং প্রতিদিন ফেসবুকে আপডেট দিয়ে তার বাগানটিকে সবার বাগান বানিয়ে ফেলেছেন। সবাই তার বাগানের সব খবর জানে। সারাবাংলা.নেট’এ ‘নগর চাষী’ নামে একটা কলামও লেখেন।

একুশের গানের সুরকার শহীদ আলতাফ মাহমুদকে আমি ডাকি সুরের উত্তরাধিকার। একাত্তরে তাদের চোখের সামনে থেকেই পাকিস্তানী হানাদাররা আলতাফ মাহমুদকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতনের খবর মেলে, কিন্তু লাশও মেলে না। শাওন মাহমুদের বাবা নেই, বাবার কবর নেই, এমনকি মৃত্যুদিনও নেই। তিনি তাই দেশটাকেই বাবার মত ভালোবেসে আঁকড়ে ধরেছেন। বাবার অভাবে সান্তনা খোঁজেন সবুজে। তাই তো এক চিলতে ছাদে গড়ে তুলেছেন অনন্য এক বাগান। ফেসবুকের ছবি দেখে অনেকে ভাবতে পারেন, বিশাল বাগান বুঝি। কিন্তু আসলে তা নয়। ভালোবাসা বিশাল, তবে বাগান ছোট। কিন্তু বিন্দুর মাঝেই যেন সিন্ধু ধরেছেন। কচুরিপানা থেকে শুরু করে গোলাপ- সব ফোটে তার বাগানে। বছর তিনেক আগে শরিফা গাছে কুড়ি এসেছে শুনে ছুটে গিয়েছিলাম। অনেকদিন শরিফা ফুল দেখি না। গিয়ে অনেক ছবি তুলেছিলাম।

কাল শাওন মাহমুদের এক স্ট্যাটাস আমাদের মন ভেঙ্গে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘আমার ছাদবাগান অবৈধ, তা অপসারণ করবার জন্য কমিটি নোটিশ দিলো এই মাত্র। এই একটা ছোট্ট বাগান জুড়ে আমার জীবনের সব ধরণের অপূর্ণতার শূণ্যস্থান পূরণ হয়। যা বুঝবার ক্ষমতা খুব কম মানুষের আছে। কারো ক্ষতি না করে গাছ পালন করা অবৈধ হলে, প্রকৃতি নষ্ট করবার মতন নির্দেশ দেয়া মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে শ্বাস নেয়াটাও অপরাধ বলে মনে করি।’

এই নোটিশ আমাদের সবার বুক ভেঙ্গে দিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাগান আবার অবৈধ হয় কিভাবে? কদিন আগে সাভারে এক মহিলা আরেক মহিলার ছাদ বাগানের গাছ কেটে ফেলে সমালোচিত হয়েছেন, জেল খেটেছেন। শাওন মাহমুদের বাসার কমিটির লোকজনকে সেটি মনে করিয়ে দিয়ে বলতে হবে, ছাদ বাগান ধ্বংসের কোনো ষড়যন্ত্র হলে আমরা তা রুখে দেবো।

(লেখক ও সাংবাদিক প্রভাষ আমিনের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত