ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৫৫

প্রিন্ট

অন্তরের তাগিদ থেকে নাগরিক সেবা দিতে চাই: তাপস

অন্তরের তাগিদ থেকে নাগরিক সেবা দিতে চাই: তাপস
তৌফিক ওরিন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে মেয়র পদে লড়ছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দশম ও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১০ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়ন পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশ জার্নালের সাথে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বাংলাদেশ জার্নালের নিজস্ব প্রতিবেদক তৌফিক ওরিন

বাংলাদেশ জার্নাল: আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। আপনি দক্ষিণে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনগণের কাছে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

শেখ ফজলে নূর তাপস: ২০০৮ সালে আমি রাজনীতিতে আসি। সেবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করি এবং জনগণ আমাকে বিপুলে ভোটে নির্বাচিত করেন। আমি শুরু থেকেই মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। আমিও চেষ্টা করেছি তাদেরকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম, কী করতে পারবো জানি না, তবে পূর্ণ সময় দেব। আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকব। আমি বিশ্বাস করি আমি সেটা করতে পেরেছি, জনগণ সন্তুষ্ট হয়েছে বলেই আমি বারবার নির্বাচিত হয়েছি। আগামীতেও জনগণকে সম্পূর্ণ সময় দিতে চাই।

বাংলাদেশ জার্নাল: দক্ষিণ সিটি নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

শেখ ফজলে নূর তাপস: যে স্বপ্নগুলো আমরা দেখি, সেই লক্ষ্যে এখনো পৌঁছতে পারিনি। এ কারণে আমি ব্যক্তিগতভাবে হতাশ। প্রত্যাশা বা পরিকল্পনার সাথে বাস্তবতার অনেক ফারাক রয়েছে। যেমন, খোলা জায়গায় এখনো ময়লা-আবর্জনা স্তুপ করে রাখা হয়, এখনো জলাবদ্ধতার অনেক সমস্যা রয়েছে। গত বছর ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করে। বিষয়গুলো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এগুলো থেকে জনগণকে অবশ্যই নিস্তার দিতে হবে। নির্বাচিত হলে নাগরিকের মৌলিক সুবিধাগুলো নিশ্চিত করব। ৩০ বছর মেয়াদী একটা মহাপরিকল্পনা করেছি। অন্তরের তাগিদ থেকে এবার সুযোগ চাই নগরে নাগরিক সেবা দেয়ার।

বাংলাদেশ জার্নাল: অভিযোগ রয়েছে সিটি কর্পোরশেনের কাজের সাথে ওয়াসা, বিদ্যুৎ, গ্যাস কোম্পানি বা অনান্য সংস্থার সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এতে নগরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নির্বাচিত হলে বিষয়টি কিভাবে সমাধান করবেন।

শেখ ফজলে নুর তাপস : সিটি করপোরেশনের যে আইনটা আছে, সেখানে সিটি করপোরেশনেরই প্রধান্য রয়েছে। সিটি করপোরেশনের আইন অনুযায়ী অন্য সংস্থাকে সমন্বয় করার বিষয় রয়েছে। সুতরাং অন্যান্য সংস্থাকে সিটি করপোরেশনের আইন মেনেই কাজ করতে হবে। আমরা এখানে ব্যাপক ব্যত্যয় দেখে এসেছি। এই ব্যত্যয়গুলো আর কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকবে। সেই কর্মপরিকল্পনা ও নীতিমালা অনুযায়ী একদম সুষ্ঠু সময়ে কাজগুলো সম্পাদন করতে হবে। আমি চাইব ২০৪১ সালকে সামনে রেখে ত্রিশ বছরের দীর্ঘমেয়াদী একটা মহাপরিকল্পনা করতে। সে অনুযায়ী কাজ শুরু করার আগে অন্যান্য সংস্থার সালে আলোচনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালিত করবো। সিটি করপোরেশনের যে কার্যপরিধি সেখানে যথেষ্ঠ ক্ষমতা ও কার্যাবলী দেয়া আছে। সেগুলো যদি সম্পূর্ণরূপে ও পরিপূর্ণভাবে পালন করা যায়, তাহলে সিটি গভর্নমেন্ট প্রয়োজন হয় না। আমার চেষ্টা থাকবে এগুলো দ্রুত গতিতে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবং সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা। সেটি যদি করা যায় আমার মনে হয় জনগণের প্রতাশা পূরণ হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল: রাজধানীর যানজট এখন বড় সমস্যাগুলোর একটি। এ নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?

শেখ ফজলে নুর তাপস : পরিকল্পনা তো অবশ্যই রয়েছে। মেট্রো রেল শেষ হতে অনেকদিন সময় লাগবে। বর্তমানে যানজটের যে অবস্থা, সেটি অসহনীয় অবস্থায় রয়েছে। সেখানে খুব দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়াত মেয়র আনিসুক হক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আমি চেষ্টা করব তার মডেলগুলো অনুসরণ করার। আমরা চাইবো প্রথম তিন মাসের মধ্যে মহাপরিকল্পনা করতে। পরবর্তী তিনমাসের মধ্যে অ্যাকশন প্লান বা ওয়ার্ক প্লান করে সেগুলো কীভাবে রূপান্তর করার পদক্ষেপগুলো নেয়া যায়। আশা করব এক বছরের মধ্যে যাতে আমরা একটা পরিবর্তনের দিকে যেতে পারি।

বাংলাদেশ জার্নাল: সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া নিয়ে বিএনপি শঙ্কা প্রকাশ করছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

শেখ ফজলে নুর তাপস: আমি প্রত্যাশা করি, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আমি প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণায় যাচ্ছি, বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলছি। সেখানে জনগণের যে স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি, তাতে অবশ্যই ভোটের দিন তারা অংশগ্রহণ করবে। ভোট সুষ্ঠু হবে। আমি মনে করি না যে, এখানে কোনো শঙ্কা আছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত