ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ৩৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ১৩:১১

প্রিন্ট

ইতিহাসের সাক্ষী চীনের মহাপ্রাচীর

ইতিহাসের সাক্ষী চীনের মহাপ্রাচীর
অনলাইন ডেস্ক

পাথর ও মাটি দিয়ে তৈরি চীনের মহাপ্রাচীর। চীনের উত্তর সীমান্ত রক্ষার জন্য তৈরি এ প্রাচীর ৫ম শতক থেকে খ্রিস্টীয় ১৬শ শতকের মধ্যবর্তী সময় তৈরি করা হয়। বর্তমানে এর খুব সামান্য অংশ টিকে আছে। এ প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।

ধারণা করা হয়, চীনের মহাপ্রাচীর মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য। এটি পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি। বলা হয় থাকে, চীনের মহাপ্রাচীর পৃথিবীর একমাত্র স্থাপনা যা চাঁদ থেকেও দেখা যায়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬২৭৬ কিলোমিটার। এটি শুরু হয়েছে সাংহাই পাস এবং শেষ হয়েছে লোপনুর নামক স্থানে। এই প্রাচীরের শাখা দেয়ালগুলো এক করলে দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৫০০ মাইল। চীনের মহাপ্রাচীরের চাইনিজ নাম চাংছ্যাং, যার অর্থ লম্বা দেয়াল।

মহাপ্রাচীরের মূল অংশের নির্মাণ শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব ২০৮ সালের দিকে। চীনের প্রথম সম্রাট কিং সি হুয়াং এটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন শত্রুর হাত থেকে নিজের সম্রাজ্যকে রক্ষার জন্য। এটি চীনের প্রকৃতিক বাঁধাগুলো ছাড়া অন্যান্য অঞ্চল পাহারা দেওয়ার কাজে এবং উত্তর চীনের উপজাতি সুইং নু বিরুদ্ধে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।

মহাপ্রাচীরটি একটা অবিচ্ছিন্ন লম্বা দেয়াল হলেও এই প্রাচীরটিতে রয়েছে বিভিন্ন টাওয়ার, যেখানে সেনারা পাহারায় থাকতো এবং আরো আছে সেনাদের জন্য আবাসস্থল। ধারণা করা হয় মিং সাম্রাজ্যের সময় প্রায় ১০ লক্ষ সেনা এই মহাপ্রাচীরটির পাহারায় নিয়োজিত থাকত। এটি ছিলো তাদের সামরিক প্রতিরক্ষার দুর্গ।

প্রাচীরটি একাধিকবার মেরামত করা হয়েছে এবং এর কিছু অংশ বর্ধিত করা হয়েছে। বর্তমান চীনের মহাপ্রাচীরের যতোটুকু টিকে আছে তার বেশিরভাগ নির্মাণ করে চীনের মিং রাজবংশ।

চীন সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে মূল প্রাচীরের মাত্র ৮ দশমিক ২ শতাংশ টিকে আছে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে চীনের মহাপ্রাচীর তালিকাভুক্ত হয় ১৯৮৭ সালে।

প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটক চীনের মহাপ্রাচীর দেখতে ভিড় জমান। সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় বেডেলিং-এর অংশে। ২০০১ সালে এই অংশে প্রায় ৬ কোটি মানুষ পরিদর্শন করতে আসেন। এই প্রাচীর ঘুরতে আসার মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা দিনে ৭০ হাজার ও ছাড়িয়ে যায়!

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত