ঢাকা, সোমবার, ২০ জানুয়ারি ২০২০, ৭ মাঘ ১৪২৭ আপডেট : ২০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:১০

প্রিন্ট

দেশের সুন্দর কিছু পাখি

দেশের সুন্দর কিছু পাখি
উপরে (বাম দিক থেকে) সিঁদুরে মৌটুসি, দেশি গাঙচষা, সোনাকপালি হরবোলা, পাহাড়ি ময়না, চখাচখি। নিচে (বাম দিক থেকে) পাহাড়ি নীলকান্ত, আমুর শাহিন, শ্বেত আঁখি, উদয়ী পাকড়া ধনেশ ও সিপাহি বুলবুলি।

ফিচার ডেস্ক

পালক ও পাখাবিশিষ্ট দ্বিপদী প্রাণী পাখি। কিছু পতঙ্গ এবং বাদুড়ের পাখা থাকলেও কেবল পাখিদেরই পালক আছে। পৃথিবীতে পাখির প্রজাতি রয়েছে প্রায় দশ হাজারটি। এমনিতে সব জীবিত পাখিই নিঅর্নিথীস উপশ্রেণির অন্তর্গত। পাখির শ্রেণিকে মোট ২৩টি বর্গ, ১৪২টি গোত্র, ২০৫৭টি গণ এবং ৯৭০২টি প্রজাতিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

এক নজরে দেখে নেয়া যাক সুন্দর কিছু পাখির তালিকা

সিঁদুরে মৌটুসি

ছোট্ট এ পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এর ইংরেজি নাম ‘ক্রিমসান সানবার্ড’। পুরুষ সিঁদুরে মৌটুসি বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর পাখিগুলোর একটি।

দেশি গাঙচষা

গাঙচষা পাখিটির ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়ান স্কিমার’। বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দমার চরে এ পাখিটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাংলাদেশে এ পাখিটির সংখ্যা গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।

সোনাকপালি হরবোলা

সবুজ রঙের ছোট পাখি সোনাকপালি হরবোলা। বাংলাদেশের সিলেট ও চট্টগ্রাম এলাকার বিভিন্ন জঙ্গলে এ পাখিটি দেখা যায়। এটি লম্বায় মাত্র ১৯ সেমি. এবং ওজনে ৩০ গ্রাম হয়ে থাকে।

পাহাড়ি ময়না

পাহাড়ি ময়নার ইংরেজি নাম ‘হিল ময়না’। এছাড়া এটি ময়না, পাতি ময়না, সোনাকানি ময়না নামেও পরিচিত। মানুষের কণ্ঠ হুবহু অনুকরণ করতে পারে এ পাখিটি। আর এ কারণে মানুষ এ পাখির ছানা বন থেকে ধরে খাঁচায় বন্দি করে পোষার কারণে দিনে দিনে এ প্রজাতিটি দুর্লভ হয়ে পড়ছে।

চখাচখি

চখাচখির ইংরেজি নাম ‘রুডি শেলডাক’। চখাচখি বলতে মূলত এক জোড়া হাঁসকে বোঝায়। জোড়ার পুরুষ হাঁসটিকে চখা আর স্ত্রী হাঁসটিকে চখি নামে ডাকা হয়। চখাচখি সবসময় জোড়ায় জোড়ায় থাকে। এ কারণেই এরকম নাম পেয়েছে তারা। শীতে এ পাখিটি বাংলাদেশে আসে।

পাহাড়ি নীলকান্ত

দুর্লভ এ পাখিটির ইংরেজি নাম ‘ইন্ডিয়ান রোলার’। এর শরীরজুড়ে কালচে নীল রং আর লাল চওড়া ঠোঁট খুবই দৃষ্টিনন্দন।

আমুর শাহিন

আমুর বাজ নামেও পরিচিত পাখিটির ইংরেজি নাম ‘আমুর ফ্যালকন’। শিকারি এ বাজ পাখিটি পরিযায়ী হয়ে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে আসে। শিকারি পাখি হলেও স্বভাবে এরা হিংস্র নয়। এরা সাধারণত একাকী, জোড়ায় কিংবা ছোট দলে বিচরণ করে। এ পাখিটি সাধারণত ছোট পাখি, পোকা, চামচিকা, ইঁদুর, কাঠবিড়ালি ইত্যাদি প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।

শ্বেত আঁখি

ইংরেজি ‘ওরিয়েন্টাল হোয়াইট আই’ নামের ছোট্ট পাখিটির বাংলা নাম হরেক। শ্বেত আঁখি, শ্বেতাক্ষি, উদয় ধলা চোখ, বাবুনাই, চশমা টুনি, চশমা পাখি নানা নামে পরিচিত পাখিটি। ছবিটি তোলা হয়েছে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে। ‘শ্বেত আঁখি’ বাংলাদেশের সুলভ পাখি। এ পাখি দেশের সর্বত্রই কম-বেশি দেখা যায়।

উদয়ী পাকড়া ধনেশ

ইংরেজিতে ‘ওরিয়েন্টাল পাইড হর্নবিল’ কাও ধনেশ বা পাকড়া ধনেশ নামে পরিচিত। বাংলাদেশের মূলত পাহাড়ি মিশ্র চিরসবুজ বনে এ পাখি দেখা যায়। বন ধ্বংস এবং বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের খাবার হিসেবে শিকার এবং হাতুড়ে চিকিৎসায় বহুল ব্যবহারের কারণে এ প্রজাতিটি হুমকির মুখে পড়েছে।

সিপাহি বুলবুলি

ইংরেজিতে ‘রেড ভিস্কার্ড বুলবুল’ আমাদের দেশে সিপাই বুলবুলি নামেও পরিচিত। এছাড়া বাংলাদেশের কোনো কোনো এলাকায় পাখিটি ঝুঁটি বুলবুল, ঝুঁটকুলি, পাহাড়ি বুলবুল বা চায়না বুলবুল নামেও পরিচিত। এটি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবাসিক পাখি। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, হংকং ও চীন এই প্রজাতিটির মূল আবাসস্থল।

বাংলাদেশ জার্নাল/এইচকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত