ঢাকা, শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮:৩৪

প্রিন্ট

ট্রফি জিততে চট্টগ্রামের টার্গেট ১৫৬

ট্রফি জিততে চট্টগ্রামের টার্গেট ১৫৬
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ

স্পোর্টস ডেস্ক

অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের লড়াকু ইনিংসের সুবাদে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান করেছে জেমকন খুলনা। পাঁচ নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ৪৮ বলে অপরাজিত ৭০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন মাহমুদউল্লাহ।

আজ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং করতে নামে গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম। বল হাতে প্রথমেই আক্রমণে আসেন স্পিনার নাহিদুল ইসলাম। প্রথম বলেই খুলনার ওপেনার জহিরুল ইসলামকে শিকার করেন চট্টগ্রামকে দারুণ সূচনা এনে দেন নাহিদুল। মিড-অফে মোসাদ্দেক হোসেনকে ক্যাচ দেন জহিরুল।

এখানেই ক্ষান্ত হননি নাহিদুল। নিজের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে আবারো খুলনা শিবিরে আঘাত হানেন তিনি। তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েসকে ৮ রানের বেশি করতে দেননি নাহিদুল। মিড-অফে বাউন্ডারি লাইনে কাছে ফিল্ডার থাকা সত্বেও ছক্কা মারতে গিয়ে সৌম্য সরকারকে ক্যাচ দেন ইমরুল। ফলে ২১ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে খুলনা।

চাপ থেকে দলকে চিন্তামুক্ত করার চেষ্টা করেছিলেন ওপেনার জাকির হাসান ও চার নম্বরে সাকিব আল হাসানের পরিবর্তে নামা আরিফুল হক। জুটিতে ২২ রান আসার পর তাদের বিচ্ছিন্ন করেন স্পিনার মোসাদ্দেক। ২০ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৫ রান করা জাকিরকে শিকার করেন মোসাদ্দেক।

দলীয় ৪৩ রানে জাকিরের বিদায়ের পর ক্রিজে আরিফুলের সঙ্গী হন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দ্রুত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে দলের রানের চাকা ঘুরাতে থাকেন তারা। ১১ ওভার শেষে ৭৭ রান পেয়েও যায় খুলনা। তখন রান রেট ছিলো ওভারপ্রতি ৭ করে।

এখান থেকে রানকে আরও বাড়ানোর পরিকল্পনায় ছিলেন আরিফুল-মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু ১২তম ওভারে আরিফুলকে শিকার করে চট্টগ্রামকে খেলায় ফেরানোর পথ দেখান বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। উইকেটে পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২১ রানে থামেন আরিফুল। ২৩ বল খেলে ২টি চার মারেন তিনি।

দলের স্কোর যখন ৮৩ রানে, তখন আউট হন আরিফুল। এরপর শুভাগত হোমের সাথে ৩৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ভালো অবস্থায় নিয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। জুটিতে ১৫ রান অবদান রেখে শরিফুলের বলে ফিরেন শুভাগত। তার ১২ বলের ইনিংসে ১টি করে চার ও ছক্কা ছিলো।

শুভাগত আউট হবার পর খুলনার ইনিংসে ২৬ বল বাকী ছিলো। এক প্রান্ত দিয়ে শামিম হোসেন শুন্য ও মাশরাফি বিন মর্তুজা ৫ রান করে থামলেও, অন্য প্রান্ত আগলে রেখে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে ৩৯তম বলে হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চট্টগ্রামের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাউন্ডারি মেরে এবারের আসরে প্রথম অর্ধশতকের দেখা পান তিনি।

ফাইনালের মঞ্চে মাহমুদউল্লাহর এই হাফ-সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত খুলনাকে লড়াকু সংগ্রহই এনে দেয়। সৌম্যর করা শেষ ওভারের তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে ছক্কা ও পঞ্চম বলে চার মারেন মাহমুদউল্লাহ। ঐ ওভার থেকে ১৭ রান পায় দল। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৫ রান করে খুলনা।

চট্টগ্রামের বোলারদের মাঝে নাহিদুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম দুটি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

টুর্নামেন্টে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে চট্টগ্রামকে ৪৭ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল খুলনা। আর দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে বেক্সিমকো ঢাকাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে চট্টগ্রাম। এই টুর্নামেন্টে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনবার দেখা হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা জয় পায় এক ম্যাচে। চট্টগ্রাম জয় পায় দুই ম্যাচে।

দুই দলের একাদশ:

জেমকন খুলনা:

জহুরুল ইসলাম, জাকির হাসান, ইমরুল কায়েস, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আরিফুল হক, শুভাগত হোম, শামিম হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, হাসান মাহমুদ, আল-আমিন হোসেন ও শহিদুল ইসলাম।

গাজী গ্রুপ চট্টগ্রাম:

লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন (অধিনায়ক), শামছুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, সৈকত আলি, নাদিফ চৌধুরী, নাহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম ও রাকিবুল হাসান।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত