ঢাকা, শনিবার, ১৫ মে ২০২১, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ আপডেট : ৪ ঘন্টা আগে

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২১, ১৬:১১

প্রিন্ট

টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হোয়াইটওয়াশের পর টি-টোয়েন্টিতেও ধবলধোলাই হল বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে গাপটিল-অ্যালেনের তাণ্ডব, সাউদি-অ্যাস্টলের বোলিং তোপে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারীরা। ১৪২ রানের টার্গেটে নেমে ১০ ওভারের ম্যাচে ৩ বল বাকি থাকতেই অলআউটের শিকার হয়েছে সৌম্য-লিটনরা। বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় ৭৬ রানে। ৬৫ রানের পরাজয়ে নিউ জিল্যান্ডের মাটিতে আরেকটি জয়হীন সফর শেষ করলো বাংলাদেশ। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশ নিউ জিল্যান্ডে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩২ ম্যাচ খেলেছে। জয় পায়নি কোনো ম্যাচেই।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে অকল্যান্ডে শেষ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। নিয়মিত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনজুরির কারণে এদিন টাইগারদের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লিটন কুমার দাস। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফিন অ্যালেনের ঝড়ে নির্ধারিত ১০ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ১৪১ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

শুরুটা করেছিলেন মার্টিন গাপটিল। পরে তার চেয়েও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন ফিন অ্যালেন। তৃতীয় ওভারে টানা তিন বলে চার, পরেরটি ছয়; নাসুম আহমেদের ওই ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান।

পরের ওভারে শরিফুল ইসলামকে তুলোধুনা করলেন অ্যালেন। পঞ্চম ওভারে রুবেলও পাত্তা পেলেন না কিউই দুই ওপেনারের হাতে। গাপটিলের সঙ্গে তার ৮৫ রানের জুটি ভাঙলেও সাবলীলভাবে তাণ্ডব চালিয়ে গেছেন অ্যালেন। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ১৯ বলে ৪৪ রান করেন মার্টিন গাপটিল, ইনিংসটি সাজান ৫টি ছক্কা আর একটি চারে।

চতুর্থ ওভারেই ২১ ও ২৯ রানে রুবেল ও সৌম্য সরকারের ক্যাচ ফসকে জীবন পাওয়া ব্যাটসম্যান সপ্তম ওভারে ১৮ বলে ৮ চার ও ২ ছয়ে করেন প্রথম টি-টোয়েন্টি হাফ সেঞ্চুরি। ২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই অকল্যান্ডেই ১৪ বলে ফিফটি করেছিলেন কলিন, তার পর নিউ জিল্যান্ডের দ্বিতীয় দ্রুততম পঞ্চাশ উদযাপন করলেন অ্যালেন। পরের বলেই সৌম্যর হাতে ফের জীবন পান তিনি।

এরপর গ্লেন ফিলিপস ৬ বলে ১৪ রান করে ফেরেন দলীয় ১২৩ রানের মাথায়। তার উইকেটটি তুলে নেন শরিফুল ইসলাম। ২৯ বলে ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ইনিংসের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের শিকার হয়ে ফেরেন ফিন অ্যালেন। তিনি দুর্দান্ত ইনিংসটি সাজান ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ১০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মেহেদি হাসান, শরিফুল ইসলাম এবং তাসকিন আহমেদ।

১৪২ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে দুটি চার মেরেছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু পঞ্চম বলে টিম সাউদিকে ফিরতি ক্যাচ দেন। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচ হলো লিটন দাশের জন্য হতাশার। বোল্ড হয়ে ডাক মারেন তিনি। ১১ রানে নেই ২ উইকেট।

বাংলাদেশ চতুর্থ ওভারে আবার জোড়া উইকেট হারায়। নাঈম ইসলাম লেগ স্পিনার টড অ্যাস্টলকে উড়াতে গিয়ে লং অনে ধরা পড়েন ১৯ রানে। বাংলাদেশের তিন পরিবর্তনের একজন ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সফরে প্রথমবার খেলতে নেমে অ্যাস্টলের বলে শান্ত বোল্ড ৮ রানে। এক ওভার পর আবার অ্যাস্টলে ধরাশায়ী বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। এবার আফিফ হোসেন (৮) ও মেহেদী (০) নিজেদের উইকেট উপহার দেন। ২ ওভারে মাত্র ১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে লেগ স্পিনার উড়ছিলেন অকল্যান্ডে।

পরের ব্যাটসম্যানরা পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছেন মাত্র। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে নাসুম আউট হলে হলে চড়া হাসি নিয়ে অকল্যান্ডের সবুজ গালিচা ছাড়ে কিউইরা। টি-টোয়েন্টিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন রান।

বাংলাদেশ জার্নাল/টিআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত