ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬ আপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১২:১৮

প্রিন্ট

হেসনকে ছেড়ে কেন ডমিঙ্গোতে ভরসা?

হেসনকে ছেড়ে কেন ডমিঙ্গোতে ভরসা?
নাজমুল হোসেন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের হেড কোচ হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। শনিবার দুপুরে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ ঘোষণা দেন। প্রাথমিকভাবে তার সঙ্গে ২ বছরের চুক্তি হয়েছে। কোচের শর্টলিস্টে থাকাদের মধ্যে কেবল ডমিঙ্গোই সশরীরে ঢাকায় এসে ইন্টারভিউ দিয়েছেন।

বাকিদের মধ্যে মাইক হেসন, মিকি আর্থার, গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে টেলি কনফারেন্সে কথা হয়েছে। কেউই ঢাকায় আসেননি। শেষ পর্যন্ত সামনে থেকে ইন্টারভিউ দেয়া ডমিঙ্গোকেই পছন্দ করলো বিসিবি। তবে মাইক হেসন কোচ হওয়ার দৌড়ে ডমিঙ্গোর চেয়েও বেশ এগিয়ে ছিলো।

তবে কেনো হেসনকে ছেড়ে ডমিঙ্গোতে ভরসা রাখলো বিসিবি সে বিষয়টা স্পষ্ট করা যাক...

রাসেল ডমিঙ্গো জাতীয় দল তো দূরে থাক কোন প্রকার ফাস্ট ক্লাস ক্রিকেটও খেলেননি। মাত্র ২৫ বছর বয়সে সাউথ আফ্রিকার ঘরোয়া লীগের একটি দলের কোচিং দিয়ে তার কোচিং ক্যারিয়ার শুরু। এরপর ২০০৪ সালে সাউথ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১১ সালে গ্যারি কারেস্টনের সহকারী কোচ হিসেবে সাউথ আফ্রিকার জাতীয় দলে যোগদান করেন। এই সময় তিনি অনূর্ধ্ব-১৯, এ-দল এবং ইমেজিং দল নিয়ে কাজ শুরু করেন। ২০১২ সালে তাকে টি-২০ দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৪ টি-২০ বিশ্বকাপে তার অধীনে দল সেমিফাইনাল খেলে। ২০১৩ সালে গ্যারির বিদায়ের পর তাকে সাউথ আফ্রিকার সকল ফর্মেটের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। আর তার অধীনে ২০১৫ বিশ্বকাপে দল সেমিফাইনাল খেলে এবং এবিডি-এর নেতৃত্বে ১৫ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার ছিলো সাউথ আফ্রিকা। ডমিঙ্গোর অধীনে টেস্ট র‌্যাংকিয়ে ৭ থেকে ২ নাম্বারে উঠে আসে সাউথ আফ্রিকা। ওডিয়াইতে ৬ নাম্বার থেকে উঠে আসে ১ নাম্বারে। তার হাত ধরেই অভিষেক হয় কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গী নিগীর মতো তরুণ ক্রিকেটারদের। ২০১৭ সালে তিনি জাতীয় দলের কোচিং থেকে সরে আসেন।

অন্যদিকে, মাইক হেসন নিউজিল্যান্ডের সর্বকালের সেরা কোচদের একজন এতে কোন সন্দেহ নেই। ভারতের কোচ হতে ইন্টারভিউ দিয়ে আসা মাইক হেসনের চাহিদা ৫০ হাজার ডলারের উপর। যেটা বহন করা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য বলতে গেলে অসম্ভব। সেক্ষেত্র রাসেল ডমিঙ্গোকে ২৫ হাজার ডলারের আশপাশে বেতনে চুক্তিবদ্ধ করতে পেরেছে বিসিবি। এছাড়া মাইক হেসন কোন দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনায় যুক্ত হতে চান না। মানে তারও হাতুরুর মত হুট করে দল ছেড়ে চলে যাবার সম্ভাবনা ছিলো, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য শুভকর নয়। আবার তিনি ছুটি বেশি চান। অপরদিকে ডমিঙ্গো অতিরিক্ত কোন ছুটি চান বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। না। আর তার পরিকল্পনাও দীর্ঘ মেয়াদী। যা আমাদের ক্রিকেটের উন্নয়নের খুবই প্রয়োজনীয়। যার কারণে হেসনকে ছেড়ে ডমিঙ্গোতে ভরসা রাখলো বিসিবি।

রাসেল ডমিঙ্গো আগামী ২১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে কাজ শুরু করবেন বলে জানা গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে কোনো দল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই তার। সে হিসেবে বাংলাদেশই হতে যাচ্ছে নিজ মহাদেশের বাইরের কোনো দল নিয়ে কাজ করার প্রথম অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত