ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ আপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:২২

প্রিন্ট

খেজুর রসের হাড়িতে ‘বিষ’, মরছে পাখি

খেজুর রসের হাড়িতে ‘বিষ’, মরছে পাখি
নাটোর প্রতিনিধি

চলনবিলে যেমন রয়েছে মৎস্য ভাণ্ডারের খ্যাতি, তেমনি রয়েছে নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ। কিন্তু অভিনব কায়দায় খেজুর রসে দানাদার (বিষ) ছিটিয়ে শিকার করা হচ্ছে শীতের পাখিগুলো। এতে নষ্ট হচ্ছে বিলের বৈচিত্র। আর সেই বিষ মিশানো রস খেয়ে মরা পাখিগুলো খাচ্ছে চলনবিলের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ।

আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ যেনেও চলছে পাখি শিকার। পাখির মাংসের স্বাদ ও সামান্য কয়েকটি টাকার লোভে এই পাখি শিকার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে স্থানীয় সচেতন মহল।

চলনবিলের কলম ডিগ্রি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক হারুন-অর রশিদ জানান, বর্ষার শেষ ভাগে বিলে পানি কমতে শুরু করে। এসময় মাছ খাওয়ার লোভে অতিথি পাখিসহ দেশীয় প্রজাতির নানা জাতের পাখিরা বিলে ভিড় জমায়। খেজুর রস পাখির খুব প্রিয় একটি খাবার। তাই খেজুর গাছের রসের হাড়িতে পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। আর এই সুযোগেই কিছু লোভী শিকারী দানাদার (বিষ), কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন ফাঁদ পেতে পাখি শিকার করে।

সোমবার সকালে সিংড়ার চলনবিলের কৃষ্ণপুর আত্রাই নদীর বাঁধে দেয়া যায়, প্রায় ২০টি খেজুর গাছের রসের হাড়িতে দানাদার (বিষ) ছিটিয়ে বুলবুলিসহ শতাধিক দেশীয় পাখি শিকার করে শিকারীরা। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা পাখিগুলো উদ্ধার করেন। এসময় দানাদার (বিষ) মিশ্রিত খেজুর গাছ ও রসের হাড়ি পানি দিয়ে ফেলেন ফেলা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, কলম প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রভাষক হারুন অর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিবেশকর্মী মনির হোসেন, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পাখি শিকার বন্ধে আইন থাকলেও চলনবিল এলাকায় সরকারি তেমন কোন পদক্ষেপ ও তৎপরতা দেখা যায় না। তবে বিলের পাখি শিকার বন্ধে সকলের সমন্বিত পরিকল্পনা ও প্রতিটি আইনশৃংখলা সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করা দরকার।

সিংড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, চলনবিল একটি বৃহৎ এলাকা হওয়ায় পাখি শিকার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক সভা করছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট ও রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত