ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৮ আশ্বিন ১৪২৭ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০:৪৯

প্রিন্ট

প্রাথমিক শিক্ষিকার এ কেমন কাণ্ড!

প্রাথমিক শিক্ষিকার এ কেমন কাণ্ড!
জার্নাল ডেস্ক

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ঘোনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রকে প্রায় তিন ঘণ্টা আলমারিতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগে বুধবার স্কুলে তালা ঝুলিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিচারের দাবীতে অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেছে।

পরে খবর পেয়ে পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মশিউর রহমান ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বুলবুল আহম্মেদ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু বিচারে আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার এবং স্কুলের তালা খুলে দেন।

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের পর ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ইকবাল রাবেয়া লারা মনির নির্দেশে অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ মামুন ইসলাম নামের এক ছাত্রকে দুষ্টুমি করার অভিযোগে স্কুলের আলমারিতে আটকে রাখেন। দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর তাকে আলমারি থেকে বের করা হলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এ সময় তার মাথায় পানি ঢেলে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠানো হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অভিভাবকরা পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি সরসারি জানিয়ে বিচার দাবী করেন। ইউএনও এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি-এমন অভিযোগ এনে বুধবার সকালে স্কুলে তালা লাগিয়ে দিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও গ্রামবাসীরা ওই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আউলিয়ারহাট-পাটগ্রাম সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করে।

খবর পেয়ে বেলা ১১টায় পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল, ইউএনও মশিউর রহমান ও সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ খান ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে রুহুল আমীন বাবুল ও মশিউর রহমান উত্তেজিত জনতাকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বিদ্যালয়ের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

জানতে চাইলে পাটগ্রাম উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বুলবুল আহমেদ খান বলেন, ‘ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ইতোমধ্যে শোকজের চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

পাটগ্রামের ইউএনও মশিউর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ও আমরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে স্কুলের তালা খুলে দিয়েছি। গ্রামবাসীকে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে শান্ত করা হয়েছে। এখন তদন্ত কমিটি গঠন করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল স্থানীয় গ্রামবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আপনারা অভিভাবকবৃন্দ, সকলে বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সহযোগিতা করবেন, যেন বিদ্যালয়ে অধ্যায়রত শিক্ষার্থীরা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আরও ভালো ফলাফল করতে পারে।’

এদিকে ১ নম্বর ঘোনাবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা ইকবাল রাবেয়া লারা মনির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম অফিস সহায়ক ফিরোজ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘মানিক নামের এক ছাত্রকে মারধর করেছে মামুন। প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে মামুন নামের ওই শিক্ষার্থীকে আলমারিতে দুই-তিন মিনিট ঢুকিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে সেখান থেকে বের করা হয়। কিন্তু মামুনের মাথা ঘুরছে বলে জানালে তাকে মাথায় পানি দিয়ে সুস্থ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু বিষয়টিকে একটু বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত