রবি ঠাকুরের কাচারি বাড়ির বেহাল দশা
কাঞ্চন কুমার, কুষ্টিয়া
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০১৭, ১৭:৫১

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ির পরিচিতি সারাদেশে। এমনকি বিশ্বব্যাপী। সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কুঠিবাড়িকে বেশ যত্নেই আগলে রেখেছে।
তবে কুঠিবাড়ির খুব কাছেই বিশ্বকবির স্মৃতিধন্য আরেকটি স্থাপনা কাচারি বাড়ি। যার খোঁজ রাখে না কেউই। কাচারি বাড়িটি অনেকটা লোক চক্ষুর অন্তরালেই রয়ে গেছে। অযত্ন-অবহেলায় দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই বাড়িটি। অথচ এই বাড়িটিকে সংরক্ষণ ও সংস্কার করলে পর্যটনের এক দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে।
কুষ্টিয়ার শিলাইদহে এসে যে কাচারি বাড়িতে বসে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারীর খাজনা আদায় করতেন ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী সেই বাড়িতে এখন ঘুটে (গোবর) শুকানো হচ্ছে। অযত্ন-অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে কবির স্মৃতি বিজড়িত কালের সাক্ষী কাচারি বাড়ি। এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে কাচারি বাড়ির জানালা-দরজাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র।

স্থানীয় রবীন্দ্র গবেষক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. সরওয়ার মুর্শেদ জানান, ১৮৯১ সাল থেকে প্রায় ৩০ বছর এই বাড়িতে বসে রবীন্দ্রনাথ জমিদারির খাজনা আদায় করেছেন।
তিনি জানান, পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) মূলত শিলাইদহই ছিল রবীন্দ্রনাথের জমিদারির কেন্দ্র বিন্দু। কবি এখান থেকেই শাহাজাদপুর, পতিসর যাতায়াত করতেন। তাই সব কিছুর বিচারে রবীন্দ্রনাথের শিলাইদহের কাচারি বাড়ি বাঙালির জন্য এক অনন্য সম্পদ।
জানা গেছে, কিছুদিন আগেও এখানে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কাজ চলতো। তবে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণের ফলে ইউনিয়ন ভূমি অফিস এখন সেখানে বসানো হয়েছে। এ কারণে কাচারি বাড়িটি এখন পরিত্যক্ত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, অপূর্ব কারুকাজ সমৃদ্ধ দোতলা কাচারি বাড়িটি আগাছা আর বন্য লতা-গুল্মে ছেয়ে গেছে। পাইক পেয়াদা আর বরকনদাজদের হাঁক ডাকে একদিন মুখরিত থাকতো যে বাড়ি। আজ সেখানে সুনসান নিরবতা। স্থানীয় ঘুটে ব্যবসায়ীরা এই বাড়ির দেওয়াল ও দোতলার মেঝেকে ঘুটে শুকানোর ‘আদর্শ স্থান’ হিসেবে বেছে নিয়েছে। কাচারি বাড়ির ৫ একর জমির বেশ কিছুটা ইতিমধ্যে দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা।
স্থানীয় সাংবাদিক দিপু মালিক জানান, কুঠিবাড়ির মতো তো কাচারি বাড়ির পরিচিতি নেই, তাই দর্শনার্থীরা তেমন একটা আসে এখানে। তবে যে দুই একজন আসেন তারা কাচারি বাড়ি জুড়ে গোবরের গন্ধে বেশিক্ষণ টিকতে পারেন না।
শিলাইদহ কুঠিবাড়ির কাস্টেডিয়ান মখলেচুর রহমান ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে কাচারি বাড়িটি জেলা প্রশাসনের অধীনে রয়েছে। তাই তারা চাইলেও বাড়িটির উন্নয়ন বা সংরক্ষণে কিছু করতে পারছেন না। তারা বাড়িটিকে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আওতায় আনার চেষ্টা করছেন। এটি সম্ভব হলে কাচারি বাড়ি সংরক্ষণের পাশাপাশি সেখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাচারি বাড়িটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অনুকুলে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করবো।’
কবির কাচারি বাড়িটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করলেও এটিও দর্শনীয় স্পটে পরিণত হবে, বাড়বে সরকারের রাজস্ব। স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমনই দাবি এলাকাবাসীর।









