ঢাকা, সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২০, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২০, ১৬:৪৯

প্রিন্ট

সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক

সরকারি গুদামে ধান বিক্রিতে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে ধান সংগ্রহ অভিযানে সাড়া নেই। কৃষকরা সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। ফলে এক মাস ১৮ দিনে মাত্র ১৩১ মেট্রিক টন ধান কিনতে পেরেছে ঝিনাইদহ খাদ্য বিভাগ। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৯১৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১১৫ টন, কালীগঞ্জে ২ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে মাত্র ৩ টন, কোটচাঁদপুরে ৯৮৮ টনের বিপরীতে ২ টন ও মহেশপুরে ৩ হাজার ১৮৯ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১১ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়েছে।

শৈলকুপা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষকরা সরকারি খাদ্যগুদামে এখনো ধান বিক্রি করেনি। ফলে ৩০ জুন পর্যন্ত জেলায় ১৪ হাজার ১৪২ মেট্রিক টনের বিপরীতে মাত্র ১৩১ টন ধান কেনা গেছে।

সূত্রমতে, গত ১৩ মে ঝিনাইদহ জেলায় ধান কেনার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত তা চলবে।

কৃষকরা জানান, সরকারি মূল্যের সঙ্গে বাজারে ধানের মূল্য খুব বেশি তফাৎ নয়। গুদামে কৃষকরা ধান নিয়ে গেলে পদে পদে হয়রানি ও শর্ত পূরণ করার চেয়ে কিছুটা কম দামে বাজারে ধান বিক্রি করতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন।

বাবুল বিশ্বাস নামে এক কৃষক জানান, সরকারিভাবে ধানের মণ ১ হাজার ৪০ টাকা। বাজারে এখন ধানের মূল্য ১ হাজার টাকা। দূরের গ্রাম থেকে ঝিনাইদহের বিভিন্ন গুদামে ধান নিয়ে গেলে গাড়ি ভাড়া, সময় ও শ্রম ব্যয় করেও যদি শর্ত পূরণ করা না যায়, তবে ধান নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসতে হয়। এতে কৃষকরা হয়রানি ও আর্থিক দুই দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

ঝিনাইদহ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, বাইরের বাজার ও সরকারি দাম প্রায় এক হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ধান বিক্রি করছেন না এটা ঠিক। তারপরও এখনো দুই মাস সময় আছে। এর মধ্যে বাজার কিছুটা কমলে হয়তো ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে পারে। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত
best