ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:২৭

প্রিন্ট

হবিগঞ্জে তীব্র গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, দুর্ভোগ চরমে

হবিগঞ্জে তীব্র গরমে বেড়েছে লোডশেডিং, দুর্ভোগ চরমে
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হঠাৎ করেই হবিগঞ্জের উপর দিয়ে তীব্র তাপদাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রচন্ড গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ। বাহিরে কাজ করাতো দূরের কথা, ঘরে থেকেও প্রাণ যায় যায় অবস্থা। এ দুর্বিষহ অবস্থায় ‘মরার উপর খাড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে নাজেহাল অবস্থায় স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা।

শহরবাসীর অভিযোগ- প্রচন্ড গরমের মধ্যে বৈদ্যুতিক পাকা মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে থাকে। কিন্তু লোডশেডিংয়ের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় সেই স্বস্তিও মিলছে না তৃষ্ণার্থ প্রাণে। এমনকি রাতের বেলায়ও একাধিকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ার কারণে চরম আকার ধারণ করেছে ভোগান্তি। বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের এমন কর্মকাণ্ডে জনসাধারণের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।

তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জেলায় বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু গরমের তীব্রতা বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। সেই চাহিদার কারণে ট্রান্সমিটার লোড মানতে না পারায় বারবার লাইন আউট হয়ে যাচ্ছে। সেটি মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে।

জানা যায়, গত ৩/৪ দিন ধরে হবিগঞ্জে প্রচন্ড গরম পড়েছে। এতে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। প্রচণ্ড তাপদাহের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে মাঠে-ঘাটে।

শুধু দিনের বেলায় নয়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় শহরবাসীর। দিনের সাথে পাল্লা দিয়ে রাতেও একটু পরপরই লোডশেডিংয়ের অভিযোগ বিস্তর। শহরের প্রতিটি এলাকাতেই এমন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

শহরের শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, দিনের বেলায় বিদ্যুতের আসা-যাওয়াতে যতটা ভোগান্তি বাড়ায়, রাতের বেলা এর কয়েকগুণ বেশি হয়। শনিবার দিবাগত রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কয়েকবার ঘুম থেকে উঠে বাহিরে যেতে হয়েছে। এছাড়া খাবারের সময়, নামাজের সময়ও বিদ্যুতের আসা যাওয়া অব্যাহত থাকে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের যেমন-তেমন শিশুরা আরও বেশি সমস্যায় রয়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে তারা ঘুম থেকে উঠে কান্নাকাটি করে।

সবুজবাগ এলাকারা ব্যবসায়ি মো. সায়েম তালুকদার বলেন, রাতে যে কতবার বিদ্যুৎ গেছে তার কোন হিসেবই নেই। এর মধ্যে ভোরবেলা বিদ্যুৎ নিয়েছেতো আর দেয়ার নামই নেই। সারারাত জেগে থেকে সারাদিন কি কাজ করা যায়।

একই এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ চৌধুরীর দাবি, বারবার বিদ্যুৎ অফিসে কল দিলেও কোন সাড়া পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, গ্রাহকদের সমস্যা যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন বিষয়ই না। নিজেরে মতো করে বিদ্যুৎ দেয়া-নেয়া করাই তাদের কাজ। অফিসে কল দিলেও কেউ ফোন রিসিভ করেন না।

তিনি আরও বলেন, কিছুক্ষণ পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে ঘরের টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটারের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক্স জিনিস অকেজো হয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মতিন বলেন- হবিগঞ্জে বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নেই। তবে প্রচন্ড গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে আগের চেয়ে অনেক বেশি। অতিরিক্ত বৈদ্যুতির পাকার সাথে এসি, ফ্রিজের চাহিদাও বেড়েছে। যার কারণে বিদ্যুতের যে টান্সমিটার রয়েছে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে লোড মানছে না। ফলে কিছু সময় পরপরই লাইন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া লাইন সচল করতে অন্য সংযোগগুলোও অনেক সময় বিচ্ছিন্ন করতে হয়। যার কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে জনগণকে এ সমস্যাটা বুঝতে হবে। কারণ এটি মানবসৃষ্ট কোন সমস্যা নয়।

বাংলাদেশ জার্নাল/আর

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত