ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৬:২৫

প্রিন্ট

এমপির টিউবওয়েলকাণ্ড!

এমপির টিউবওয়েলকাণ্ড!
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সরকারি প্রকল্পের গভীর নলকূপ বিতরণে স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, দুস্থদের বাদ দিয়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা, ধনাঢ্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীকে তালিকায় স্থান দেয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জানান, তিনি যাকে প্রয়োজন মনে করেছেন তাকেই নলকূপ দিয়েছেন।

তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহান উদ্দিন (তিন ভাই লন্ডনে থাকেন), ধনাঢ্য সবুজ উদ্দিন ও ধনাঢ্য ব্যক্তি মো. দলা মিয়া।

ভূকশিমইল ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ডা. মামুন, ইউনিয়ন যুুবলীগের সাবেক নেতা এনামুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম খান, ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ধীরেন্দ্র মোহন দাস, ইউনিয়ন যুুবলীগের সভাপতি বীরেন্দ্র কান্ত দাস।

ভাটেরা ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল হামিদ খান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রনি হাসান ছালাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুজিবুর রহমান তালুকদার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন মিয়া।

জয়চণ্ডী ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এনামুল হক মিফতা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক খালেদ পারভেজ বখ্শ ও অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম।

ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য বিমলেন্দু সেন কৃষ্ণ, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির ছেলে নাসের আহমদ ও জাহাঙ্গীর আলম কণা।

কাদিপুর ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিআরডিবি চেয়ারম্যান ফজলুল হক ফজলু, উপজেলা বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন শাহিন বক্স (ঠিকাদার), খায়রুল আলম কয়ছর, নিয়ামুল ইসলাম ও আব্দুল নাঈম চৌধুরী।

সদর ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ধনাঢ্য ব্যক্তি আতাউর রহমান চৌধুরী বাবলা, নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও সাবেক ইউপি সদস্য আবু তালিব লিটন।

রাউত্গাঁও ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রুহুল আমীন, উপজেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সফি আহমদ চৌধুরী পলিট, ধনাঢ্য ব্যক্তি সৈয়দ মহসিন আল হাসান, শিপন খান, বিএনপি নেতা লেবু মিয়া ও সৌদি প্রবাসী ধনাঢ্য ব্যক্তি খন্দকার ফখরুজ মিয়া।

টিলাগাঁও ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন ছাত্রদল নেতা আনখার উদ্দিন, সরকারি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক বাবুল মিয়া, ধনাঢ্য ব্যক্তি আব্দুস ছালাম চৌধুরী ও ডা. কেরামত আলী।

হাজীপুর ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি আব্দুল মুহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক তোয়াহিদ আলী, সাবেক সভাপতি জমসেদ আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিব আলী, স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি মছব্বির আলী, ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন মিজু ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু বিধান চন্দ্র দে।

শরীফপুর ইউনিয়নে রয়েছেন তায়েফ আহমদ- যিনি টিউবওয়েল বণ্টনের সমন্বয়কারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছয়ফুর রহমানের ভাগ্নে।

পৃথিমপাশা ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন সুলতানপুরের ধনাঢ্য ব্যক্তি জাহাঙ্গীর কবির হেপী- যার বাড়িতে দ্বিতল ভবন রয়েছে, আছে একটি অত্যাধুনিক ভবন। আছেন ধনাঢ্য ব্যক্তি আবু মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন- যার স্থানীয় রবিরবাজারে বড় হোটেল রয়েছে এবং তার পরিবারের এক ভাই যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। ধনাঢ্য ব্যক্তি বখতিয়ার হোসেন খছরু, খালেদ আহমদ- যার রবিরবাজারে আশিক ম্যানশন নামে একটি বড় মার্কেট রয়েছে।

টিউবওয়েল বরাদ্দকৃত তালিকায় থাকা ধনাঢ্য ব্যক্তি জাহাঙ্গীর কবির হেপীর বাড়ি

কর্মধা ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন- কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নজিব আলীর ছেলে জুয়েল- যার পরিবারের কয়েকজন প্রবাসে রয়েছেন। রয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ও ব্যবসায়ী রুহুল আমীন, ধনাঢ্য ব্যক্তি মশাহিদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক ছায়দুল ইসলাম সাহেদ, ধনাঢ্য ব্যক্তি রেজান আলী, কর্মধা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সেক্রেটারি আজিজুল হক জুয়েল।

এমপি’র অফিস সহকারী শেখ রুহেলের বাড়ির ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান ডা. উজির আহমদ শিশু একাডেমির নামেও টিউবওয়েল বরাদ্দ হয়েছে। বিশেষ করে কর্মধা ইউনিয়নের কর্মধা গ্রামেই ৮টি টিউবওয়েল বরাদ্দ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আব্দুস শহীদ জানান, ‘আমি এমপির কোনো কমিটির দায়িত্বে নেই। নলকূপ বণ্টনের দায়িত্বে রয়েছেন ছয়ফুর রহমান।’

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি ছয়ফুর রহমান জানান, ‘টিউবওয়েল বরাদ্দ এমপির সিদ্ধান্ত। নেতাকর্মীদের তিনি খুশি রাখতে সমন্বয় করে টিউবওয়েল বরাদ্দ দিয়েছেন।’

এসব বিষয়ে সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এসব বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলা উচিৎ। আমি তো তোমারে চিনি না। এক কথায় আমি বলতে পারি, যাকে প্রয়োজন মনে করেছি তাকে টিউবওয়েল দিয়েছি। কে ধনী, কে গরিব— এটা আমার বিবেচনার বিষয় নয়। যার পানির প্রয়োজন, তাকে টিউবওয়েল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত