ঢাকা, শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ আপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২০, ২০:৪৪

প্রিন্ট

পাবনায় চিনিকল বন্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

পাবনায় চিনিকল বন্ধের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ
ছবি: চিনিকল বন্ধ রুখতে বিক্ষোভ

পাবনা প্রতিনিধি

লোকসানের অজুহাতে দেশের ১৫টি সুগার মিলের মধ্যে ৬টি চিনিকল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাবনায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আখ চাষি, মিল শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

শনিবার দুপুরে পাবনা চিনিকল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে চাষি সংগঠক ও মিলের শ্রমিক- কর্মচারীরা বলেন, চালু থাকলে দেশের ১৫টি চিনিকল চালু রাখতে হবে। বন্ধ করতে হলে সব চিনিকলই বন্ধ করে দিতে হবে। আর চিনিকল বন্ধ করা হলে চাষি ও কর্মচারীরা দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

দেশের সুগার মিল গুলোর ক্রমবর্ধমান লোকসান ঠেকাতে ১৫টি সুগার মিলের মধ্যে ৬টি সুগার মিল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ খাদ্য ও চিনি শিল্প কর্পোরেশন। বন্ধের তালিকায় পাবনা সুগার মিল ছাড়াও কুষ্টিয়া, সেতাবগঞ্জ, রংপুর, শ্যামপুর ও পঞ্চগড়ের সুগার মিল মিল রয়েছে। এ বন্ধ প্রক্রিয়ার মধ্যে পাবনা সুগার মিলস লি. চিনিকলের নাম থাকায় বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন মিল জোনের চাষি, শ্রমিক ও কর্মচারীরা।

পাবনার দাশুড়িয়ায় অবস্থিত ঈশ্বরদী সুগার মিল প্রাঙ্গণে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দু’টা পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ ও দফায় দফায় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ চিনিকল আখ চাষি ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক ও আখচাষি কল্যাণ সমিতি পাবনা সুগার মিলস লি. এর সভাপতি আলহাজ শাজাহান আলী ওরফে পেঁপে বাদশা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

এতে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান মিন্টু, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খান, জেলা পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম বাবু, আখ চাষি কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী ডিলু, দাশুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বকুল, সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ বাবলু, আখ চাষি মুরাদ মালিথা, আমজাদ হোসেন মালিথা ও হামিদুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, আসাদুর রহমান, জহুরুল হক, শ্রমিক কর্মচারী ওয়ার্কার্সার ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম শাহিন, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন দেশে বিমান, রেলওয়ে, তাঁত শিল্প কি লোকসানে নেই? সেগুলো তো বন্ধ হচ্ছে না। ওই সব সেক্টরের তুলনায় সামান্যই লোকসান চিনিকলে। তারপরও মোট চিনিকলের স্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। সে টাকার বার্ষিক ৪ শতাংশ মুনাফা ধরলেও বছরে বাড়ছে প্রায় ১২ শ’ কোটি টাকা। সে হিসেবে চিনিকলকে অলাভজনক বলাই যাবে না। তারা বলেন, ১৮ মাসের ফসল হলো আখ। চাষির মাঠে এখনো আখ। অথচ এরই মধ্যে বলা হচ্ছে পাবনাসহ দেশের ৬টি মিল বন্ধ করে দেয়া হবে। তারা বলেন, এ আখ তারা কি করবেন? চিনিকল বন্ধ করতে হলে অন্তত দেড় বছর আগে ঘোষণা দেয়া উচিত ছিল।

পাবনা সুগার মিল শ্রমিক কর্মচারী ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, গত সাত মাস এই মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মিল বন্ধ হওয়ার খবর পেয়ে তারা হতাশ। তিনি শ্রমিকদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনের ডাক দেন। পরে শ্রমিকরা স্লোগান দিয়ে সুগারমিলের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করে। পাবনা সুগার মিলের প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক কর্মচারী কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সমাবেশ শেষে মিলচত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় আগামী ২৮ নভেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ।

এদিকে আখ চাষি ও শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে পাবনা সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ জানান, আসলে মিল বন্ধ হয়ে যাবে না চালু থাকবে তিনি নিশ্চিত নন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে এ পর্যন্ত কিছু জানাননি। তবে তিনি অন্যদের মত মুখে মুখে গুঞ্জন শুনছেন মিল বন্ধ হওয়ার বিষয়টি। আর চাষিদের সাথে এ পর্যন্ত চুক্তিপত্র সম্পাদন না হওয়ার বিষয়ে জানান, কার্যত মিল চালু থাকবে কি না এ নিয়ে সবাই দ্বিধায় থাকায় শ্রমিক বা আখ চাষিরা স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হতে বিলম্ব করছেন। সরকারি সুস্পষ্ট ঘোষণার পরই সব কিছু নিশ্চিত হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত