ঢাকা, শনিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:২৮

প্রিন্ট

নির্যাতন করে স্ত্রীকে হত্যা, সেই কারারক্ষী কারাগারে

নির্যাতন করে স্ত্রীকে হত্যা, সেই কারারক্ষী কারাগারে
খাইরুল ইসলাম ও স্ত্রী রুমা আক্তার

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

বিয়ের দেড় বছরের মাথায় নির্যাতন করে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ কারাগারের কারারক্ষী মো. খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খাইরুলকে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল ইসলামের আদালতে তোলা হলে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের সরকারি কোয়ার্টারে কারারক্ষী মো. খাইরুল ইসলামের নির্যাতনের শিকার হয়ে স্ত্রী রুমা আক্তার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার বিকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়ার সময় সন্ধ্যার পর পথেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বুধবার রাতে রুমা আক্তারের মা বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলার দায়ের করেন।

জানা গেছে, খাইরুল ইসলাম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বাইচাইল গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে। প্রায় দেড় বছর আগে মুঠোফোনে খাইরুলের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে কটিয়াদীর পূর্বমণ্ডল ভোগ গ্রামের আবদুল মান্নানের মেয়ে রুমা আক্তারের। এরপর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।

বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই খাইরুলের পরিবার থেকে যৌতুকের দাবিতে চাপ দিতে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে রুমার পরিবার স্বামী খাইরুলকে যৌতুক হিসেবে নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার তুলে দেন।

তারপরও যৌতুকের টাকার জন্য রুমার ওপর চলতো পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার হয়ে মঙ্গলবার প্রাণ হারান তিনি।

কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আবু বকর সিদ্দিক জানান, এ ঘটনায় রুমা আক্তারের মা একটি মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্ত কারারক্ষী খাইরুল ইসলামকে কটিয়াদী উপজেলার মশ্চিম মন্ডলভোগ এলাকা থেকে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয়। আজ তাকে আদালতে তুললে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার বজলুর রশিদ জানান, খাইরুল ইসলাম অসুস্থতার জন্য চিকিৎসাজনিত কারণে ছুটিতে ছিলেন। ইতোমধ্যেই স্ত্রী হত্যার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে তুললে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। মামলা সংক্রান্ত কাগজপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত