ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭ আপডেট : ২৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:১১

প্রিন্ট

গ্রেড উন্নীতের দাবিতে এক হচ্ছেন যেসব সরকারি চাকুরেরা

গ্রেড উন্নীতের দাবিতে এক হচ্ছেন যেসব সরকারি চাকুরেরা

জার্নাল ডেস্ক

জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবিতে সচিবালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তারা এক হচ্ছেন। বর্তমানে এসব কর্মকর্তারা ১০ম গ্রেডে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।

দাবি আদায় কার্যক্রমে যুক্ত থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রস্তাবনা না পাঠালে চলতি সপ্তাহে ফের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সমবেত হবেন তারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের এ দাবি শতভাগ যৌক্তিক। কারণ ইতোমধ্যে তাদের সমমর্যাদার কয়েকটি পদকে এভাবে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, ইতোমধ্যে পুলিশ পরিদর্শকের পদকে ১০ম গ্রেড থেকে নবম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। সহকারী পুলিশ সুপার পদও নবম গ্রেডের। যদিও পরিদর্শক থেকে নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। একইভাবে রেভিনিউ অফিসার এবং উপ-সহকারী কমিশনার পদকে নবম গ্রেডে আপগ্রেড করা হয়েছে। যদিও তাদের পদোন্নতির পদ হলো সহকারী কমিশনার (কর) ও সহকারী কমিশনার (কাস্টমস)। এটিও কিন্তু নবম গ্রেডের।

দাবি আদায়ের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা বলেন, যদি অন্যদের গ্রেড উন্নীত করা যায় তাহলে আমাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হবে কেন?

কর্মকর্তারা বলেন, সচিবালয়ের এওপিও পদকে এখন ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হোক। এরপর তাদের মধ্য থেকে যখন নন-ক্যাডার কোটায় সহকারী সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হবে তখন তাদের গ্রেড আপগ্রেডেশন নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকবে না। একটি হলো পদ আপগ্রেড এবং অপরটি হলো পদোন্নতি। একটির সঙ্গে অপরটির সাংঘর্ষিক কোনো অবস্থা নেই।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, এতসব চুক্তি থাকারও পরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, এওপিওরা এক সময় পদোন্নতি পেয়ে সহকারী সচিব তথা নবম গ্রেডে উন্নীত হবেন। ফলে তাদেরকে পদোন্নতির আগে নবম গ্রেড দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। কিন্তু আমাদের কথা হলো, সহকারী সচিব পদে সবাই তো পদোন্নতি পাবে না। নির্ধারিত কোটার মধ্যে কিছুসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তাও স্বাভাবিক নিয়মে কখনো পদোন্নতি হয় না। এজন্য পদোন্নতি প্রত্যাশী কর্মকর্তাদের মাসের পর মাস তদবির করতে হয়। তাছাড়া কোটা অনুযায়ী সহকারী সচিবের যতসংখ্যক পদ পাওয়ার কথা, ততটি পদ এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অথচ নানা অজুহাতে অহরহ প্রশাসন ক্যাডারের পদ সৃষ্টিসহ শূন্যপদের বাইরেও হরহামেশা পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি দাওয়াও বেশ প্রাধান্য পাচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে চাকরি করার পরও আমাদের দাবি দীর্ঘদিন থেকে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

তারা আরও বলেন, এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। বরং মাঠ প্রশাসনে কর্মরতদের দাবি পূরণে সায় দেওয়া হলেও সচিবালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের চাকরি ১০ম থেকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার প্রশ্নে নানা যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা গত ১৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. আলি কদরের সঙ্গে তার দপ্তরে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দাবির সপক্ষে নিজেদের শক্ত অবস্থান সম্পর্কে জানান দিতে শতাধিক এওপিও করিডোরে ভিড় করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/কেআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত