ঢাকা, সোমবার, ১২ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২১, ১৯:২০

প্রিন্ট

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা খুন: ৬ জনকে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতা খুন: ৬ জনকে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ
ছবি- নিজস্ব

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বায়েজীদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইমন রনি (২৬) নিহতের ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে বায়েজিদের আরেফিন নগর মুক্তিযোদ্ধা কলোনি থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- আরেফিন নগর আস্তানা নগর এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মোহাম্মদ আহসান কবির (২৬), একই এলাকার মৃত হোসেন মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ সোহেল (২৯), আরেফিন নগর মুক্তিযোদ্ধা কলোনির শিমুলের বাড়ির মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ফজর আলী (২৯), আরেফিন নগর রাজা মিয়ার বাড়ির মোহাম্মদ রাজা মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ লিটন (২৮), আরেফিন নগর ড্রাম গেট এলাকার আলী জহিরের ছেলে মোহাম্মদ নুর আলম (২৭) এবং আরেফিন নগর বাজার ফিরোজ মিয়া কলোনির মোহাম্মদ রুবেল।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার সেকেন্ড অফিসার বিমল কান্তি দেব বলেন, ইমন হত্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার পরিবার থেকে থানায় মামলা করার কথা রয়েছে। যাদের আটক করা হয়েছে মামলার বাদী যদি তাদের মধ্যে কাউকে শনাক্ত করেন, তাহলে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

এদিকে যাদের আটক করা হয়েছে, তারা মূল অভিযুক্ত কেউ নন বলে দাবি করেছে নিহত ইমনের পরিবার।

ইমনের খালাতো ভাই ইয়াসিন বলেন, আমরা যাদের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকে থানায় অভিযোগ করেছি, তাদের কাউকেই আটক করা হয়নি। আমরা চাই মূল আসামিদের আটক করা হোক। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার বলেন, আরেফিন নগর এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিবদমান দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ইমন নিহত হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। ঘটনায় যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। ভিকটিমের পরিবার আটককৃতদের মধ্যে যাদের শনাক্ত করবে বা যাদের নাম এজাহারে উল্লেখ করবে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত ইমন ছিলেন আরেফিন নগর এলাকার সোহেলের অনুসারী। এই সোহেল আবার প্রবাসী যুবলীগ নেতা এস এম শফিকুল ইসলাম শফির অনুসারী।

নিহত ইমনের বাবা নুর কাশেমের দাবি, মূলত আরেফিন নগরে আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে সোহেল ও পলিট্যাকনিক্যাল এলাকার রিপন, আলিফ, মামুন ও ওয়াহাবের মধ্যে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আরেফিন নগরের একাংশে আধিপত্য আছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা শফির অনুসারী সোহেলের। আরেক অংশে আধিপত্য আছে পলিট্যাকনিক্যাল এলাকার আলিফ, ইকবাল, সুমনের। নিহত ইমন ছিল সোহেলের ‘ডান হাত’। মূলত আরেফিন সোহেলের শক্তি খর্ব করতে কিছুদিন আগে থেকে ইমনকে আলিফদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়। ব্যর্থ হয়ে গতকাল রোববার রাতে মুক্তিযোদ্ধা কলোনি এলাকায় দুই গ্রুপে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইমন ছিল তার বাসার সামনে। মারামারির এক পর্যায়ে প্রথমে ইমনকে ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইতোপূর্বে হামলাকারীরা নিহতের ছোট ভাইকে মারধর করেছিল। সেই ঘটনার জের ধরে রোববার রাতে আরেফিনগর মুক্তিযোদ্ধা কলোনি এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এ সময় হামলাকারীরা প্রকাশ্য ইমনকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত ইমনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনায় শেরশাহ, আরেফিননগর এলাকায় বিরাজমান গ্রুপগুলো হত্যাকাণ্ডে জড়ায়। যার সর্বশেষ বলি ইমন। এর আগে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে হকার্সলীগ নেতা রিপন হত্যাকাণ্ডে দিদার-আবু মহিউদ্দিনের নাম উঠে আসে। এ নিয়ে ওই এলাকায় গত ৯ বছর প্রায় ১০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত