ঢাকা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮ আপডেট : ৩ মিনিট আগে

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২১, ১০:০২

প্রিন্ট

আইসিডিডিআর,বির গবেষণা

দেশে শনাক্তের ৮১ শতাংশই আফ্রিকার ধরন

দেশে শনাক্তের ৮১ শতাংশই আফ্রিকার ধরন
সংগৃহীত ছবি

জার্নাল ডেস্ক

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধিতে দক্ষিণ আফ্রিকান ধরনটির সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআর,বি। তারা বলছে, দেশটিতে শনাক্ত করোনা ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট।

বুধবার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক খবরে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি গত ডিসেম্বর থেকে, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে মিলে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়ান্টের ওপর নজরদারি বা গবেষণা শুরু করে।

আইসিডিডিআরবি জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ মার্চে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে মোট ১৬ হাজার ২৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে দুই ৭৫১টি নমুনা পজিটিভ চিহ্নিত হয়। বলা হয় গত ৬ জানুয়ারি প্রথম করোনার যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভ্যারিয়ান্ট শনাক্ত হয়। এবং মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই ভ্যারিয়ান্টটি বাংলাদেশে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দেখা যায় যে, বাংলাদেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্টটি সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

গত ১৮ থেকে ২৪ মার্চের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা করোনা রোগীদের প্রায় ৫৭টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে ৪৬টি অর্থাৎ ৮০ শতাংশেরও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে।

এর আগের সপ্তাহে ১২ থেকে ১৭ মার্চের মধ্যে আইসিডিডিআর,বি ৯৯টি করোনা রোগীর নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ৬৪টি অর্থাৎ ৬৪ শতাংশের বেশি দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট পেয়েছে। অথচ এর আগ পর্যন্ত দেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট পাওয়া যায়নি।

আইসিডিডিআরবি বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়ান্টের আবির্ভাব বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আনে। মার্চের চতুর্থ সপ্তাহে দেখা যায়, দেশে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট।

করোনার নানা ধরনের মধ্যে ইউকে ভ্যারিয়ান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়ান্ট ও ব্রাজিল ভ্যারিয়ান্টই সারা বিশ্বে ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি।

আইসিডিডিআরবি বলছে, এই ৩টি ধরনের সংক্রমণের হার বেশি, এবং এদের জিনগত পরিবর্তনও ঘটে বেশি। ফলে এখন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার দিকটি নতুন করে ভাবতে হবে বলে তারা বলছে।

সংস্থাটি বলছে, মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা চালিয়ে যেতে হবে। যে কোনো ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। টিকা নিয়ে থাকলে বা এর আগে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা মানতে হবে। সর্বোপরি সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/আরএ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত