ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ১১ আষাঢ় ১৪২৮ আপডেট : ৪৫ মিনিট আগে

প্রকাশ : ১০ জুন ২০২১, ১৭:৪৪

প্রিন্ট

ভাইয়ের লাশ দাফনে বোনের বাধা

ভাইয়ের লাশ দাফনে বোনের বাধা

ধামরাই প্রতিনিধি

ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের লাড়ুয়াকুন্ড গ্রামে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নেয়ায় আশুতুল্লাহ নামের এক ব্যক্তির লাশ দাফনে বাধা দিয়েছে মৃতের আপন বোন। বৃহস্পতিবার নাটু মাতব্বর ও তার ছেলেদের নিয়ে লাশ দাফনে বাধাদেন মৃতের বোন আলেগা বেগম।

দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ছিলো আশুতুল্লাহ ও তার বোন আলেগা বেগমের মধ্যে। বিরোধের এক পর্যায়ে আশুতুল্লাহ গত ০৭/০৪/২১ ইং উপজেলার লাড়ুয়াকুন্ড গ্রামে নিজের বসতভিটায় ছোট মেয়ে সাথীকে নিয়ে আসলে আলেগা বেগম ও একই গ্রামের নাটু মাতব্বর আশুতুল্লাহকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে আশুতুল্লাহর মেয়ে সাথীকেও মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ করেন আশুতুল্লাহর ছেলে শফিকুল ইসলাম। তিনি তার ফুপু আলেগা বেগম ও নাটু মাতব্বরসহ ৮ জনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেন থানায়। আর এই মামলা তুলে না নিলে দাশ দাফন করতে দেবেনা বলে বাধাদেন আলেগা বেগম ও নাটু মাতব্বরসহ কয়েকজন।

জানা যায়, আশুতুল্লাহ তার মেয়ে আসমা বেগমের কালামপুর গ্রামের ভাড়া বাসায় বেড়াতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করেন। তার ছেলে মেয়ে ও এলাকাবাসী মৃতের লাশ দাফনের প্রস্তুতি নিলে বোন আলেগা বেগম, নাটু মাতব্বর ও তার ছেলেরা লাশ দাফন করতে বাধা দেয়। তাদের নামে থানায় যে অভিযোগ রয়েছে তা উঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তার পর মৃতের লাশ দাফন হবে। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে নাটু মাতব্বরের ছেলে থানায় ফোন দেয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌছালে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করে নাটু মাতব্বর ও তার ছেলেরা।

তারা বলেন, আশুতুল্লাহর ছেলে মেয়েরা মিলে তাকে মেরে ফেলেছে । লাশ পোস্টমর্টেম করতে হবে তাছাড়া দাফন হবে না। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত আশুতুল্লাহ বোন আলেগা ও নাটু মাতব্বরকে আটক করে থানা পুলিশ। নাটু মাতব্বরের ছেলেরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে আশুতুল্লার ছেলে শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের লাশ নিয়ে কোন অভিযোগ ছিলো না। প্রতিপক্ষই বাধা দিয়েছে লাশ দাফনে। ৪ দিন আগেও নাটু মাতব্বর,তার ছেলেরা ও আমার ফুপু জাল দলিলে জোর পূর্বক স্বাক্ষর করার জন্য আমার বাবা ও ছোট বোন সাথীকে মারধর করেছে। তার জন্যই সে মারা গেছে। আমার বাবার জমি দখল করে ভোগ করছে আমার ফুপু আলেগা বেগম। আলেগা ও নাটু মাতব্বরের নির্যাতন তার বাবা না সইতে পেরে মারা যান বলে অভিযোগ করেন।

আশুতুল্লার মেয়ে সাথী বলেন, জমির জন্য আমার বাবা ও আমাকে কয়েক দিন আগেও মারধর করেছে। তার শোকেই বাবা মারা গেছে। আজ তারাই আবার লাশ দাফন করতে দেয় না।পূর্বের অভিযোগ তুলার জন্য আমার ভাইকে হুমকি দিচ্ছে।

নিহতের ভাতিজী জাকরা বলেন, চাচার বাড়ি আমার ফুপু দখল করে আছে। তার নিজের বাড়িতে আসতে দেয় না তিনি। এর সাথে এলাকার নাটু মাতব্বর ও তার ছেলেরা জড়িত। তারা সব সময় হুমকি দিয়ে থাকে। আজকে আমার চাচার লাশ দাফনেও বাধা দিয়েছে। চাচাতো ভাই শফিকুল থানায় অভিযোগ করেছিলো। সেই অভিযোগ না তুললে লাশ দাফন করতে দিবে না। তাই পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে ধামরাই থানার উপ- পুলিশ পরিদর্শক রাসেল মিয়া বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। কয়েক দিন পূর্বে নিহতের ছেলে থানায় একটি অভিযোগ করেছিলো তার ফুপু আলেগা বেগম ও নাটু মাতব্বরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে । তাই অভিযোগ না তুললে লাশ তারা দাফন করতে দিবে না। লাশ পোস্টমর্টেম করার জন্য পাঠানো হবে। যে দুই জনকে আটক করা হয়েছে তারা এই মৃত্যুর সাথে জড়িত নয়। তাদের নামে আগে অভিযোগ আছে। তারা অভিযোগ তুলতে লাশ দাফনে বাধা দেয়। তাই তাদের আটক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এমএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • আলোচিত