চুয়াডাঙ্গায় কোরবানির ঈদে এক হাজার কোটি টাকার পশু বিক্রির সম্ভাবনা
আকিমুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৫, ০৯:৩১

কোরবানির ঈদকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গায় জমে উঠেছে পশু পালন ও বিক্রির ব্যস্ততা। প্রান্তিক কৃষক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় খামারিরা কোরবানির বাজার টার্গেট করে পশু পালন করে থাকেন। চলতি বছর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৩৬টি পশু। জেলার চাহিদা ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৫টি পশু, ফলে অতিরিক্ত ৭৪ হাজার ৫৮১টি পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলার কোরবানির পশুর বাজার মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যা জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দামুড়হুদা উপজেলার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের কৃষক মোতালেব হোসেন প্রতিবছর কোরবানির উদ্দেশ্যে একটি গরু পালন করেন। তিনি জানান, “গত বছর ২ লাখ টাকায় গরু বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছিলাম। এবার গরুর চেহারা ভালো হলেও ব্যাপারীরা আগের মতো দাম বলছে না। তবুও মাঝারি সাইজের গরুতে কিছুটা লাভ হচ্ছে।”
জীবননগর উপজেলার শিংনগর গ্রামের খামারি লাল মিয়া জানান,আমার খামারে ১৫টি গরু ছিল। এর মধ্যে ৮টি বিক্রি করেছি। মোটামুটি লাভ হয়েছে।
নতুন খামারি জাহিদুল জানান, প্রথমবারের মতো খামার করেছি। এবার ৪টি গরু কোরবানির হাটে তুলব। দেখি কী হয়।
বড় খামারিদের মধ্যে অন্যতম জীবননগরের আস্থা এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের মালিক অনিক বিশ্বাস বলেন, এবার কোরবানিকে টার্গেট করে ২৫০টি গরু পালন করেছি। এর মধ্যে ২০০টি ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। ৫০টি গরু ঢাকা ও চট্টগ্রামের খামারিদের কাছে পাঠিয়েছি। আমাদের খামারে সর্বোচ্চ ১০-১২ লাখ টাকার গরু রয়েছে। তবে এবার বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
জেলায় ৮টি পশুর হাটসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও বিক্রিবাটার ব্যবস্থা রয়েছে।
জেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার এবার বিদেশ থেকে পশু আমদানির অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে দেশীয় খামারিরা ভালো দাম পাবে এবং লাভবান হবে।”
কোরবানির পশু আগে কিনে রাখলে পরিচর্যায় বাড়তি যত্ন নিতে হবে বলে জানান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. শামীমুজ্জামান। তিনি বলেন, বর্তমান গরমের সময় গরুকে গাছের ছায়া বা ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে হবে। কাঁচা ঘাস, বিচালি ও পর্যাপ্ত তরল খাবার দিতে হবে। স্যালাইন খাওয়ানো এবং নিয়মিত গোসল করানোও জরুরি।
চুয়াডাঙ্গার পশু খাত শুধু জেলার চাহিদা পূরণেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চাহিদা মেটাতে বড় ভূমিকা রাখছে। ঈদুল আযহাকে ঘিরে এই খাত জেলার অর্থনীতিতে এনে দিচ্ছে প্রাণ।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ










