জীবননগরে গ্রামে ছোটদের দোকান: খেলার ছলেই জীবনের ছোঁয়া
আকিমুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা থেকে
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৫, ১৩:১৪

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে শিশুদের খেলার দৃশ্য যেন ফিরে নিয়ে যায় নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশে। প্রযুক্তির আগ্রাসনের এই যুগে যেখানে মোবাইল আর ইউটিউবই হয়ে উঠেছে শিশুদের সঙ্গী, সেখানে এ গ্রামে চোখে পড়ে এক ভিন্ন চিত্র—মাটির উঠোনে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা নিজেরা তৈরি করেছে একটি ‘দোকান’।
বাঁশের কঞ্চি, শুকনো পাতার ছাউনি, পুরনো চটের পাটাতন, প্লাস্টিকের খালি বোতল আর কয়েকটি কাঁচা লেবু—সব মিলিয়ে জমজমাট সেই দোকান। কেউ দোকানদার, কেউ খরিদ্দার। হিসেব কষা, দরদাম, গ্রাহকের ভূমিকা—সবই চলছে খেলাচ্ছলে, অথচ কতটা জীবন্ত!
স্থানীয় একজন প্রবীণ বলেন, “নব্বইয়ের দশকে এমন দৃশ্য ছিল খুব স্বাভাবিক। আমাদের সময় তো এসব খেলাই ছিল বড় বিনোদন। এখনকার দিনে এমন কিছু দেখা খুবই বিরল।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের খেলা শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যবসা-বাণিজ্য বা লেনদেনের মৌলিক ধারণা গড়ে ওঠে এইসব অনুকরণভিত্তিক খেলায়। শিশুদের কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা এবং পারস্পরিক যোগাযোগ দক্ষতা তৈরি হয় সহজেই।
তারা জানে না—এই ছোট ছোট খেলার মধ্যেই গড়ে উঠছে বড় জীবনের প্রস্তুতি। জীবননগরের এই ছোট্ট দোকানটি তাই নিছক একটি খেলার জায়গা নয়, বরং শিশুমনের সৃজনশীলতার বাস্তব প্রকাশ।
বাংলাদেশ জার্নাল/ওএফ










