টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে ফের দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩০
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ২২:১৬

টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলায় জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবার দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
এ সময় অন্তত ১৬টি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া গরু ও ঘরের ধানসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাটেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে পাশাপাশি দুই উপজেলার নলিন বাজার ও আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মো. সামসুল আলম সরকার। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নলিন বাজারে শতাধিক দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে এক বৃদ্ধ নিহত হন।
পুলিশ জানায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুরের ‘গুলি পেঁচা’ ও ভূঞাপুরের ‘জগৎকুড়া’ গ্রামের মধ্যে গত ২২ এপ্রিল দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকালে পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামের লোকজন।
আগুন দেওয়া হয় ১১টি বাড়িতে। চালানো হয় ব্যাপক ভাঙচুর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার রাতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তবে শুক্রবার সকালে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে ফের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার রাতে মাইকিং করে অস্ত্র নিয়ে পরদিন সকালে নলিন বাজারে জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সকালে আবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সুপার সামসুল আলম সরকার বলেন, “নলিন বাজার, গুলিপেঁচা ও জগৎপুরা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে কাজ করছে এবং সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, পুলিশ কাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন আছে।
ভূঞাপুর থানার ওসি মো. সাবির রহমান বলেন, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম বলেন, মাসখানেক আগে দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী সময়ে একাধিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা ও নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের অভিযোগ, হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে জগৎপুরা গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য লুট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু বলেন, দুই গ্রামের বিরোধ মূলত একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হয়েছে। পরে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










