ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের: ট্রাম্প
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১৬:০৩

ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, আমরা এখনই এটি (ইউরেনিয়াম) পেয়ে যেতে পারি। আমরা যদি চাই, আমার মনে হয় না তারা আমাদের আটকাতে পারবে। তবে এর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি এখন চাপা পড়া (নিষ্ক্রিয়) অবস্থায় আছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠক করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তবে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হওয়া সম্ভব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসতে তেহরানের সঙ্গে কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান তার ইউরেনিয়াম স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো চুক্তিতে রাজি হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে। তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর তাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।
রয়টার্সকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা একসঙ্গে এ কাজ করব। আমরা ধীরে ধীরে সময় নিয়ে ইরানের ভেতরে ঢুকব এবং বড় বড় যন্ত্রপাতি দিয়ে খননকাজ শুরু করব…এরপর আমরা সেগুলো (সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম) যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসব।
ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ প্রসঙ্গে বলেন, শিগগিরই তা উদ্ধার করা হবে।’ তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলতে মূলত সেসব অবশিষ্টাংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা তার ভাষ্যমতে গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তবে ইরানের দাবি, শুধু শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে তারা। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়েও ওই সময় আশা ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি, চুক্তিটি খুব দ্রুতই হবে। আমরা ইরানের সঙ্গে খুব ভালোভাবে এগোচ্ছি।
তেহরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেছিলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম স্থানান্তর করাটা আমাদের জন্য কোনো বিকল্প হতে পারে না।
ইসমাইল বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা কখনো ভাবা হয়নি। ইরানের মাটি যেমন পবিত্র, তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










