ঢাকা, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৮ মিনিট আগে
শিরোনাম

শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ২১:২৯  
আপডেট :
 ২০ জুন ২০২৬, ২১:৩৪

শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের ডাক প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

বর্হিবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করতে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘শক্তিশালী’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

শনিবার বিকালে আর্মি স্টেডিয়ামে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশকে একটা ‘স্ট্রং’ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, বাংলাদেশকে একটা ‘ফেমাস কান্ট্রি’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

“এটা করতে হবে কাদেরকে? তোমাদেরকে (ক্ষুদে খেলোয়াড়দের) করতে হবে। কেন? কারণ এটা তোমাদের ভবিষ্যৎ, কারণ এটা তোমাদের বাংলাদেশ। আমরা কি বলি? করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তরুণদের পরামর্শ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “খেলা ছেড়ে দিলে হবে না…সব সময় খেলতে হবে, কালকে বিকালে কিন্তু মাঠে মাঠে খেলতে হবে। ফুটবল খেলতে হবে, সাঁতার কাটতে হবে…যার যেটা খেলা ভালো লাগে, সেটা খেলতে হবে। যে গান করতে চায়, যে মিউজিক বাজাতে চায়, যে রং করতে চায়, যে ছবি আঁকতে চায়, যে কেরাত প্রতিযোগিতা করতে চায়, সবার ব্যবস্থা আমরা করব।

“কাজেই তোমাদের কোনো ভয় নাই। তোমারদের কনফিডেন্ট বাচ্চা হিসেবে, কনফিডেন্ট মানুষ হিসেবে তোমাদেরকে বেড়ে উঠতে হবে।”

একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ মানুষ হিসেবে তৈরি হওয়ার ওপর জোর দিয়ে সরকারপ্রধান ছোটবেলায় নিজের ম্যাকানো খেলার গল্প বলেন।

বেলা ২টায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে জাতীয় পর্যায়ে বালক ও বালিকা বিভাগরে চূড়ান্ত খেলা হয়।

মাঠের পাশে বসে খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী।

মাঠের পাশে বসে খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী।

বালিকা বিভাগে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ৪-২ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

অন্যদিকে বালক বিভাগে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

খুদে ফুটবলারদের উৎসাহিত করতে মাঠে বাইরে বসে খেলা দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলা শেষে তিনি চ্যাম্পিয়ান ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন।

গত ৬ এপ্রিল শুরু হয়ে প্রায় আড়াই মাস ধরে দেশের ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী এ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে।

‘প্রাইম মিনিস্টার কাপ চালু হবে’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমার প্ল্যানিং হচ্ছে শুধু প্রাইমারি স্কুল না, একই খেলার প্রতিযোগিতা আমরা মাধ্যমিকেও শুরু করব। এই বছর মাধ্যমিকে এবং আগামী বছর প্রাইমারি থেকে প্রাইম মিস্টার কাপ চালু করব।”

“কাজেই তোমাদেরকে এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে, ভালো প্রস্তুতি নিতে হবে।”

গত দেড় মাসে প্রাথমিক স্কুল পর্যায়ে এক লাখ ২৩ হাজার খেলা হয়েছে তুলে ধরে এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বর্তমান কর্তৃপক্ষ, যারা এই খেলার আয়োজন করেছেন ওনাদেরকে আমি বলব যে, আপনারা গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন যাতে আমাদের এই ঘটনাগুলো তারা গিনেস বুকে দিতে পারে।”

‘শুধু খেললে চলবে না’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট বন্ধুরা তোমাদেরকে শুধু খেললে চলবে না। আমি জানি, অনেকে আছে যারা খেলতে পারো, একই সাথে পড়ালেখা করতে পারো, অন্যান্য প্রতিভাও আছে। কেউ গান গাইতে পারো, কেউ কবিতা লেখতে পারো, কেউ কোরআন তেলোয়াত করতে পারো।

“আমি (বলব) তোমরা শুধু খেলাধুলো না, পড়ালেখা বলো, সংস্কৃতি বলো সব কিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তোমারা যদি সব কিছুতে পারদর্শী হতে পারো আমরা একটা সু্ন্দর ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।”

তিনি বলেন, “কদিন পরে তোমরা যখন বড় হবে…আমরা তো বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। তোমাদেরকেই কিন্তু বড় হয়ে বাংলাদেশ চালাতে হবে। পারবে?

“গ্যালারি যারা আছো, আমাদের থেকে ভালোভাবে চালাতে পারবে? কে কে পারবে হাত তোলো।”

শিক্ষার্থীরা অনেকে হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী তাদের ‘ভেরিগুড’ বলে অভিনন্দন জানান।

তারেক রহমান বলেন, “আজকে ওয়ার্ল্ড কাপ হচ্ছে, সেই ওয়ার্ল্ড কাপে এখানে রোনালদো খেলছে, এখানে মেসি খেলছে, এমবাপে খেলছে। কিন্তু তোমাদের মধ্যে থেকে এরকম খেলোয়াড় তৈরি হতে হবে।”

অলিম্পিক নিয়ে লক্ষ্য ঠিক করার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। এ সময় তিনি কুড়ি স্পোর্টসের কথাও বলেন।

“আমরা যেটা প্ল্যান করেছিলাম যে আমরা যদি দেশ পরিচালনা করার সুযোগ পাই, তাহলে আমরা আমাদের ছোট বন্ধুদের জন্য যেমন খেলাধুলার আয়োজন করব। যেমন ছোট বন্ধুরা যাতে সবুজ মাঠে খেলতে পারে, তার জন্য নতুন নতুন মাঠ বের করব। আমরা ইনশাল্লাহ সেই কাজগুলো শুরু করেছি। আমাদেরকে অনেক দূর যেতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেখো ক্রিকেট দিয়ে এখন সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে চেনে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট টিমকে চিনে বলে সারা বিশ্বের মানুষ বাংলাদেশকেও চিনে।

“কাজেই শুধু ক্রিকেট দিয়ে নয় ফুটবল দিয়ে বাংলাদেশকে চিনবে ইনশাল্লাহ, সুইমিং দিয়ে আমাদেরকে চিনবে ইনশাআল্লাহ, হকি দিয়ে আমাদেরকে চিনবে ইনশাআল্লাহ, টেনিস দিয়ে আমাদেরকে চিনবে ইনশাআল্লাহ। সব রকম খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে তোমরা সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত করবে। সারা বিশ্বে তোমরা বাংলাদেশ দেশের অ্যাম্বাসেডর হবে।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, এ কে এম শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিন, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন ও আবুল হোসেন খান, ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত