বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক: জোনায়েদ সাকি
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৭:৫৫

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে যে ধীরগতি ছিল তা এখনও অব্যাহত থাকায় খেদ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
তিনি বলেছেন, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের হার হতাশাজনক। এই অবস্থা উত্তরণে সরকার সচেষ্ট।
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে শনিবার (২৭ জুন) এফডিসিতে আয়োজিত ছায়া সংসদ বিতর্ক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন বলে আয়োজক ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিদায়ী অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ৪৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে, যা ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) বৃহস্পতিবার এডিপি বাস্তবায়নের যে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে—২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে বরাদ্দের অনুপাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ খরচ করতে পেরেছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আর সবচেয়ে দুরাবস্থা স্বাস্থ্য বিভাগের।
চলতি অর্থবছরে এডিপির মাধ্যমে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বাস্তবায়নের হার প্রত্যাশিত না হওয়ায় গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এডিপির আকার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।
১১ মাসে সব উন্নয়ন প্রকল্প মিলিয়ে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৬৩ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
এ তথ্য প্রকাশের দুদিন পর পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, মেগা প্রকল্প বানিয়ে মানুষকে চমকে দিয়ে উন্নয়নের ফানুস তৈরি করে মেগা লুটের ব্যপারে এই সরকারের কোনো আগ্রহ নেই।
তার ভাষায়, ফ্যাসিস্ট আমলে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো এখন বন্ধ করে দিলে বড় ধরনের অপচয় ও সমস্যা হতে পারে। সেগুলোকে রেশনালাইজড করতে বাছাই করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার মেগা প্রকল্পের ব্যাপারে রক্ষণশীল। মেগা প্রকল্পের চাইতে মানবসম্পদ উন্নয়নকেন্দ্রিক ও প্রয়োজনীয় প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ে বর্তমান সরকারের মনোযোগ দিয়েছে জানিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেন, করের পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে খুদে দোকানিরা যাতে ন্যূনতম কর দিতে পারে, সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হয়রানির উদ্দেশ্যে নয়, ন্যায্যতার ভিত্তিতেই কর আদায় করা সরকারের উদ্দেশ্য। সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতির অভিঘাত থেকে রক্ষার জন্য ৬০ টি নিত্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। করের পরিধি বাড়াতে গিয়ে কেউ হয়রানির শিকার হবে না।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










