ঢাকা, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ২ মিনিট আগে
শিরোনাম

ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি খুন, নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ১৯:৪৫

ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি খুন, নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি

ইতালির রাজধানী রোমে নিজ বাসায় ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একই পরিবারের তিন সদস্য। এ ঘটনার প্রায় এক বছর আগে পরিবারটির গ্রামের বাড়িতে ডাকাত দলের একটি উড়ো চিঠি এসেছিল বলে দাবি স্বজনদের।

সেই চিঠিতে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা দাবি করা হয়। আর দাবি পূরণ না হলে গৃহকর্তার প্রবাসী ছেলে ও নাতিকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। পরিবার বিষয়টি থানাকেও জানিয়েছিল।

বিদেশের মাটিতে তিনজনকে নৃশংসভাবে হারানোর ঘটনা শুধু স্বজনদের নয়, পুরো প্রবাসী সমাজকে নাড়া দিয়েছে বলে জানান কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান।

শুক্রবার রাতে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্লাটে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে; যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও ঘটনাটি প্রকাশ করা হয়।

নিহতরা হলেন- উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা।

সিরাজুল ইসলামের পাঁচ মেয়ে ও একমাত্র ছেলে কামাল। একসময় কামাল একাই ইতালিতে থাকতেন। পরে তিনি তার পরিবারকেও সেখানে নিয়ে যান। ইতালি যাওয়ার আগে কামালের পরিবার কিছুদিন বসিরহাট ও ঢাকায়ও ভাড়া বাসায় বসবাস করেছে।

রোমের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়, ঘটনার সময় ফ্ল্যাট থেকে চিৎকার ও শোরগোল শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবুলের ২০ বছর বয়সি ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শনিবার সকালে ইতালিতে থাকা অন্য স্বজনদের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা স্বজনরা খবর পায়। পরে বিষয়টি ছড়ালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

বাবুলের ভাতিজা আফনান হোসেন নাইম বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা এ হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন।

তিনি বলেন, চাচা দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় আমরা সবাই স্তব্ধ।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বাবুলের সঙ্গে গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ছিল নিবিড়। তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোক।

ঘটনার পরপরই ইতালি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। কী কারণে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

স্বজনরা জানান, ২০২৫ সালের ২ জুলাই রাতে বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলামের বাড়ির ফটকের নিচে রেখে যাওয়া ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা-পয়সা দাবি করা হয়। আর দাবি পূরণ না হলে সিরাজুলের ছেলে ও নাতিকে হত্যার পাশাপাশি পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানান স্বজনরা।

পরবর্তীতে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা পুলিশকে জানান সিরাজুল ইসলাম। চিঠি পাওয়ার পর দিন তিনি হত্যার হুমকি ও ডাকাতির আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে কোম্পানীগঞ্জ থানা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগও দেন।

তবে কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসি নুরুল হাকিম সাংবাদিকদের বলেন, সেসময় মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছিল। আমরা নিয়মিত উনার পরিবারকে নিরাপত্তা দিয়েছি। তার মধ্যেই আজ ইতালিতে তিনজনকে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরেছি।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত