শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের কীট’ বললেন রাকসুর নেতা
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২৬, ২১:১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক জায়িদ হাসান জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের কীট’ এবং তার মৃত্যুবার্ষিকীকে ‘জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস’ বলে মন্তব্য করেছেন।
শনিবার (২৭ জুন) নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে পৃথক দুটি পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জায়িদ হাসান জোহা রাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তবে ছাত্রশিবিরের কোনো সাংগঠনিক পদে তিনি রয়েছেন কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জাহানারা ইমামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে জোহা লেখেন, জাহান্নামের ইমামের মরণদিবস আজ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বাস্তবায়ন করেছিল বিদেশি নকশা।’ পরে তার করা এই মন্তব্যের আরেকটি ফটোকার্ড শেয়ার করে ক্যাপশন দেন- ‘জাহান্নামের কীট জাহান্নামের নিরন্তর শাস্তি ভোগ করুক।
এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ফেইসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অনেকে এ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং তার পদ স্থগিতের দাবি জানান।
এরপর জায়িদ হাসান এ বিষয়ে আরেকটি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, আমি কোনো শহিদের মা’কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করিনি। বাংলাদেশে মব কালচারের গোড়াপত্তনকারী জাহানারা ইমামকে জাহান্নামের ইমাম বলেছি। ‘শহিদের মা’ পরিচয় কারো ‘খুনী’ পরিচয় মুছে দিতে পারে না। লাউড & ক্লিয়ার।
জায়িদ হাসানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কাফী এক পোস্টে লিখেছেন, রাকসুর অপ!সংস্কৃতি সম্পাদক জোহা শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে ‘জাহান্নামের ইমাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছে। কারণ জাহানারা ইমামই প্রথম ওদের জাতির পিতা রাজাকার কূলের শিরোমণি গোলাম আজমকে গণআদালতে ফাঁসি দিয়েছিল। এটাই আমাদের গত ৫৫ বছরের রাজনৈতিক খেসারত যে জোহার মতো যুদ্ধাপরাধীর উত্তরসূরীরা দেশের দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়, শহীদের মাকে নিয়ে বাজে কথা বলার সাহস পায়।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার শুভ বলেন, এবারের রাকসুর নির্বাচিত পরিষদ রাবিয়ানদের জন্য অভিশাপ! ২/১ জন ছাড়া যাদের নেই কোনো আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস, নেই শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কাজ করার ইতিহাস। শুধু ছিল কালো টাকার জোর আর জামাতি প্রশাসনের দেওয়া অভয়। বাংলা টিফিন, টেস্টি ট্রিটের কথা বাদই দিলাম।
তিনি শিবিরের প্যানেলকে উদ্দেশ করে বলেন, সব দলীয় দাস, জামাতী এজেন্ডা নিয়ে বসে আছে রাকসুতে। তাদের উদ্দেশ্যও পরিষ্কার। সভা-সেমিনার দিয়ে গোলাম আযমকে জাতির পিতা বানানো আর ১৯৭১ কে মুছে দেওয়া। জাহানারা ইমামের সাথে ৭১ এর সম্পর্ক আছে। তাই তারে মুছতে পারলে ৭১ এর দায়মুক্তি পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে রাকসুর ভিপি ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুস্তাকুর রহমান জাহিদকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম










