ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ১০ হত্যা, ধর্ষণের শিকার শিশুসহ ৯ জন: জনসংহতি সমিতি

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ২২:১২

পার্বত্য চট্টগ্রামে ছয় মাসে ১০ হত্যা, ধর্ষণের শিকার শিশুসহ ৯ জন: জনসংহতি সমিতি
ছবি: সংগৃহীত

পার্বত্য চট্টগ্রামে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ১০ জন হত্যা এবং শিশুসহ ৯ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি।

একই সময়ে তিন পার্বত্য জেলায় ১৫৪ জন আদিবাসী মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো চলতি বছরের অর্ধ-বার্ষিক (জানুয়ারি-জুন) প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ছয় মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে ‘নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র গ্রুপ, সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠী, বাঙালি সেটেলার ও ভূমিদস্যুদের দ্বারা’ ৫৭টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনার মধ্যে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মারধর, হত্যা, গুলিতে আহত, তল্লাসি, হত্যার হুমকি, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাই, চাঁদা দাবির মত ঘটনা ছিল।

ছয় মাসে নারী ও শিশুর উপর সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, ৫৭টি ঘটনার মধ্যে আদিবাসী নারী ও শিশুর উপর ১১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাত শিশু এবং দুই নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তিনজনকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ করা হয়। একজনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার শিকারদের মধ্যে ২ নারী রয়েছেন।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ৫৭টি ঘটনার মধ্যে ইউপিডিএফ (প্রসিত), মগপার্টি নামে পরিচিত মারমা লিবারেশন পার্টি, বমপাটি নামে পরিচিত কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ১২টি ঘটনা ঘটিয়েছে। একটি সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় হামলাকারী সেটেলার ও রোহিঙ্গারা উল্টো হামলার শিকার ম্রো গ্রামের ১০ জনের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’ করেছে।

পড়াশোনা করানোর লোভ দেখিয়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, কক্সবাজার, বান্দরবানের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ভর্তি করে বাবা-মার অজান্তে ‘ধর্মান্তরকরণেরও’ অভিযোগ উঠেছে বলে তথ্য দিয়েছে জনসংহতি সমিতি।

সংগঠনটি বলছে, “পূর্ববর্তী সরকারের মত বিএনপি সরকারও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান করছে না। ফলে বিএনপি সরকার গঠিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিশেষ কোনো উন্নতি হয়নি।”

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত