ঢাকা, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ বাতিল, বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ২২:৪০  
আপডেট :
 ৩০ জুন ২০২৬, ২২:৪৬

ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার উদ্যোগ বাতিল, বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন, সেটি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানের ব্যাখ্যা পরিবর্তনের প্রচেষ্টাও আদালত নাকচ করে দিয়েছে। আদালতের এ রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির জন্য বড় একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারায় বলা হয়েছে, ''যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব গ্রহণকারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত সব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও তারা যে অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন, সেই অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।''

এই ধারা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রায় প্রত্যেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পান। তবে ট্রাম্প নিয়মটি অবৈধ বা অস্থায়ীভাবে বসবাসরত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্য বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।

এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টও এই ধারার ব্যাখ্যায় বলে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে জন্ম নেওয়া সব শিশুই জন্মসূত্রে নাগরিক। ১৯৫২ সালে কংগ্রেসও একই নীতিকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করে।

তবে ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে ১৪তম সংশোধনীর এই ব্যাখ্যা একতরফাভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা করেন। ওই আদেশে বলা হয়, যদি কোনো শিশুর মা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেন বা বৈধ হলেও সাময়িক ভিসায় থাকেন এবং শিশুর জন্মের সময় বাবা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশু জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকত্ব পাবে না।

নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে।

আজ মঙ্গলবার রায়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ৬-৩ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেরই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল থাকবে।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ বা সাময়িকভাবে অবস্থানকারী বাবা-মায়ের সন্তানরাও যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত। ফলে তারা জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবে।

তার মতে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার পক্ষে সংবিধানে কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নাগরিকত্বকে ''অধিকার ভোগের অধিকার'' হিসেবে দেখা হয়েছে। এটি একজন ব্যক্তিকে দেশের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়।

এই রায়ে বিচারপতি রবার্টসের সঙ্গে একমত হন বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়র, এলেনা কাগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন। এছাড়া ট্রাম্পের মনোনীত দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট এবং ব্রেট ক্যাভানাওও সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে অবস্থান নেন।

অন্যদিকে বিচারপতি ক্লারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো এবং ট্রাম্পের মনোনীত আরেক বিচারপতি নিল গরসাচ ভিন্নমত পোষণ করেন।

গত বছর দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একগুচ্ছ নীতির অংশ হিসেবে ওই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ওই আদেশ খারিজ করে রায় দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালত। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তোলে। তারা আদালতের কাছে জানতে চেয়েছিল, ১৪তম সংশোধনীতে ''যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী এবং দেশটির বিচারিক কর্তৃত্বের আওতাভুক্ত'' ব্যক্তিদের নাগরিক হিসেবে গণ্য করার বিধান বর্তমান পরিস্থিতিতেও একইভাবে প্রযোজ্য কি না।

এ বছরের এপ্রিল মাসে মৌখিক শুনানির সময়ই নয় সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের কয়েকজন বিচারপতি ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আদালতে যুক্তি দেন, সংবিধান সাময়িক ভিসাধারী কিংবা অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেয় না। তার দাবি, বর্তমান সময়ের অবৈধ অভিবাসন পরিস্থিতি অতীতের বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

জবাবে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, ''পৃথিবী নতুন হতে পারে, কিন্তু সংবিধান একই রয়েছে।''

সূত্র : রয়টার্স ও বিবিসি

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত