আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের খবরে গাছ ফেলে মহাসড়ক অবরোধ
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১৮:১১

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিতলেও ‘ঋণ খেলাপি হওয়ায়’ সর্বোচ্চ আদালত থেকে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করেছেন তার অনুসারীরা।
মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও বিভিন্ন ভাবে সড়ক অবরোধ করে রাখায় বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক।
কুমিরা হাইওয়ের থানার ওসি মো. নুরুল আবসার বলেন, “মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ করায় সীতাকুণ্ড অংশে যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
“নগরীর সিটি গেইট থেকে থেকে বড় দারোগার হাট পর্যন্ত সড়কে বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়েছে, যার কারণে বেলা ৩টার পর থেকে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।”
ওসি আবসার বলেন, “আমরা বিভিন্ন স্থান থেকে বুঝিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আবার তারা এক জায়গা থেকে উঠে গিয়ে অন্য জায়গায় অবস্থান নিচ্ছে।”
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, নগরীর সিটি গেইট থেকে বড় দারোগারহাট পর্যন্ত প্রায় জুড়ে ৩০ থেকে ৪০টি স্পটে গাছের গুঁড়ি ফেলে বিক্ষোভ করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা। যানবাহনের পাশাপাশি বিভিন্ন বাজারের দোকানপাটও বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে বাড়বকুণ্ড এলাকায় সড়কের পাশ থেকে বড় একটি গাছ কেটে সড়কে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
কিন্তু তার বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং যমুনা ব্যাংক।
শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন ওই আপিল খারিজ করে দিলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।
নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে তখন হাই কোর্টে আলাদা রিট আবেদন করে অভিযোগকারী দুই পক্ষ। গত ২৭ জানুয়ারি হাই কোর্ট শুনানি শেষে রিট আবেদন দুটিও খারিজ করে দেয়। ফলে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল থাকে।
হাই কোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন জামায়তের প্রার্থী আনোয়ার। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার আপিলের আবেদন মঞ্জুর করে প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ।
আদেশে বলা হয়, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী অংশ নিতে পারবেন। তবে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
অনিশ্চয়তা নিয়ে ভোট করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিককে ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ওই আসনের ফলের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখে। ফলে আসলাম চৌধুরীর শপথ নেওয়াও আটকে থাকে।
সে কারণে ফলাফল প্রকাশ ও শপথ গ্রহণের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেন আসলাম। অন্যদিকে আনোয়ার সিদ্দিক গত ৩১ মার্চ আপিল আবেদন করেন। ব্যাংক এশিয়া ও যমুনা ব্যাংকও আলাদা আবেদন করে।
এর ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে এ বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। ১৫ জুন অ্যামিকাস কিউরি বা আদালত বন্ধু হিসেবে আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীর মতামত শোনে সর্বোচ্চ আদালত।
চূড়ান্ত শুনানি শেষে আপিল বিভাগ মঙ্গলবার যে রায় দেয়, তাতে আসলাম চৌধুরীর সংসদে যাওয়ার পথ যাত্রা বন্ধ হয়ে যায়।
গেল বছরের ৩ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছিল উত্তর জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দীনকে। ওইদিনও আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন দাবিতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেছিল তার অনুসারীরা। পরে সালাউদ্দিনের পরিবর্তে আসলাম চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
বাংলাদেশ জার্নাল/জে










