ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে
শিরোনাম

স্মার্টওয়াচেই স্লিপ অ্যাপনিয়া শনাক্ত

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০২৬, ১২:২৫

স্মার্টওয়াচেই স্লিপ অ্যাপনিয়া শনাক্ত
ছবি: সংগৃহীত

ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক রোগ স্লিপ অ্যাপনিয়া।

অনেক সময়ই মানুষের অজানা থেকে যায়। অনেকের ক্ষেত্রে এ রোগের একমাত্র লক্ষণ হতে পারে রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরেও প্রচণ্ড ক্লান্ত বা পরিশ্রান্ত বোধ করা।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মতো আরও কিছু লক্ষণ রয়েছে, যা কিছু পরিধানযোগ্য ডিভাইস, যেমন স্মার্টওয়াচ শনাক্ত করতে পারে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া সাধারণত অন্তত ১০ সেকেন্ড স্থায়ী হয় এবং প্রতি ঘণ্টায় ডজনখানেক বার বা তারও বেশি ঘটতে পারে। স্বাস্থ্যঝুঁকি ও এর অস্বস্তিকর বিভিন্ন লক্ষণের পাশাপাশি স্লিপ অ্যাপনিয়া সঙ্গীদের জন্যও নরকযন্ত্রণা হয়ে উঠতে পারে।

যেমন, জোরে নাক ডাকা, দম আটকে আসার মতো শব্দ হওয়া ও ঘুমের মধ্যে অন্যান্য অস্থির আচরণের কারণে দুজনের কারও পক্ষেই রাতে শান্তিমতো ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে।

স্লিপ অ্যাপনিয়া নিশ্চিতভাবে নির্ণয়ের জন্য ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজন। কিছু ক্ষেত্রে দেহে একগুচ্ছ তার ও সেন্সর লাগিয়ে পুরো একটি রাত কোনো স্লিপ ল্যাবে কাটিয়ে দেওয়ার মতো অবস্থাও হতে পারে।

এক্ষেত্রে কিছু স্মার্টওয়াচ এ রোগের প্রাথমিক বিভিন্ন লক্ষণ পরীক্ষা করতে পারে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে একজন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আনুষ্ঠানিক রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়াটি শুরু করা যায়।

বাজারে থাকা অনেক স্মার্টওয়াচ ঘুমের হিসাব রাখতে পারলেও স্মার্টওয়াচ জগতের শীর্ষ দুটি বড় ব্র্যান্ডেই কেবল স্লিপ অ্যাপনিয়া নোটিফিকেশন ফিচার রয়েছে, যা মার্কিন ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফডিএ-এর অনুমোদন পেয়েছে। এ দুটি ব্র্যান্ড হচ্ছে অ্যাপল ও স্যামসাং।

এফডিএ-এর পরিভাষার জটিলতায় না গিয়ে সংক্ষেপে বলা যায় স্যামসাং ২০২৪ সালে তাদের ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া ফিচার’-এর জন্য এফডিএ থেকে ‘ডি নভো’ অনুমোদন পেয়েছে। এর ঠিক কয়েক মাস পর অ্যাপলও তাদের স্লিপ অ্যাপনিয়া নোটিফিকেশন ফিচারের জন্য এফডিএ-এর অনুমোদন পেয়েছে।

অ্যাপল ওয়াচ

অ্যাপলের স্লিপ অ্যাপনিয়া নোটিফিকেশন ফিচারটি অ্যাপল ‘ওয়াচ সিরিজ ৯’ ও এর পরবর্তী সংস্করণের ‘ওয়াচ আল্ট্রা ২’ ও ‘ওয়াচ আল্ট্রা ৩’ এবং ‘ওয়াচ এসই ৩’-এ পাওয়া যাবে। ফিচারটি ঘড়ির অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর ব্যবহার করে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাত বা ছন্দপতন খোঁজার চেষ্টা করে, যা মাঝারি থেকে তীব্র স্লিপ অ্যাপনিয়ার লক্ষণের সঙ্গে মেলে। তবে মনে করিয়ে দেওয়া ভালো, এমনটা সরাসরি রোগ নির্ণয় করে না।

ফিচারটি ব্যবহারের জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ অ্যাপল ওয়াচে ‘ওয়াচওএস’-এর সর্বশেষ সংস্করণ এবং পেয়ার করা আইফোনে ‘আইওএস’-এর নতুন সংস্করণ থাকা প্রয়োজন। ফিচারটি ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

এ ছাড়া, ঘড়িটি কেবল হাতে পরেই ঘুমাতে চলে গেলে হবে না; প্রথমে ব্যবহারকারীকে ‘স্লিপ ট্র্যাকিং’ অপশনটি সেট আপ করে নিতে হবে। এরপর, কোনো নোটিফিকেশন পাওয়ার আগে ৩০ দিনের মধ্যে ১০ রাত ব্যবহারকারীর ঘুমের ডেটা রেকর্ড করতে হবে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যাঘাতগুলোকে ‘এলিভেটেড’ বা ‘নট এলিভেটেড’ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করবে ফিচারটি এবং কেউ যদি ক্রমাগত ‘এলিভেটেড’ মাত্রার সমস্যার মুখে পড়েন তবে একটি নোটিফিকেশন বা সতর্কবার্তা দেখতে পাবেন। এ পর্যন্তই স্মার্টওয়াচটির কাজ শেষ। এরপর আনুষ্ঠানিক ও সুনির্দিষ্ট মূল্যায়নের জন্য ব্যবহারকারীকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইসগুলোতে ফিচারটি চালু করতে আইফোনের ‘হেলথ’ অ্যাপে গিয়ে ‘সার্চ’ থেকে ‘রেসপিরেটরি’ অপশনে যেতে হবে। এরপর ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া নোটিফেকেশন’-এর নিচে থাকা ‘সেট আপ’ বাটনে ট্যাপ করুন। এখানে ‘সেট আপ’-এর জায়গায় ‘অন’ লেখা দেখতে পেলে বুঝতে হবে তা আগেই চালু করা হয়েছে।

স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ

মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’র বিভিন্ন লক্ষণ পরীক্ষার জন্য স্যামসাংয়েও একই ধরনের ফিচার রয়েছে, যা ‘গ্যালাক্সি ওয়াচ ৪’ ও এর পরবর্তী নতুন সংস্করণগুলোতে কাজ করে। তবে ‘গ্যালাক্সি ফিট’ সিরিজের ডিভাইসগুলো এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

যে কোনো সাধারণ অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সঙ্গে ফিচারটি ব্যবহার করা যাবে না। এর জন্য ব্যবহারকারীর একটি গ্যালাক্সি ফোনের প্রয়োজন হবে এবং তাতে ‘স্যামসাং হেলথ মনিটর’ অ্যাপটি ইনস্টলড থাকতে হবে। ফিচারটি ২২ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য ডিজাইন করেছে স্যামসাং।

গ্যালাক্সি ফোনে থাকা স্যামসাং হেলথ মনিটর অ্যাপের ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ অপশনে ট্যাপ করে তা অন করার মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্যামসাংয়ের ফিচারটি চালু করতে পারেন।

অ্যাপলের তুলনায় স্যামসাংয়ের এ সংস্করণে তুলনামূলক কম ডেটার প্রয়োজন হয়। ১০ দিনের মধ্যে কেবল দুই রাত ঘুমের ট্র্যাকিং ডেটা থাকলেই ফিচারটি কাজ করে। তবে ফিচারটি সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রতি রাতে ব্যবহারবারীকে অন্তত চার ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।

এ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ব্যবহারকারীর পরীক্ষার ফলাফল স্যামসাং হেলথ মনিটর অ্যাপের ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ সেকশনে পাওয়া যাবে। একবার ফলাফল পেয়ে গেলে ফিচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। অবশ্য ব্যবহারকারী চাইলে পরবর্তীতে যে কোনো সময় ফিচারটি আবার চালু করতে পারবেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত