টাঙ্গাইলে নারীসহ কয়েকজনকে পেটালেন ইউপি চেয়ারম্যান
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ২১:৪৫

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় লাঠি দিয়ে নারীসহ কয়েকজনকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) এ ঘটনাটি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়ালে শুরু হয় আলোচনা। সন্দেহভাজন ব্যক্তি উপজেলার মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর। ভিডিওটি ২৭ জুন সকালে ধারণ করা হয়েছিল।
উপজেলার তেঘরী কেশব গ্রামে বাসন্তী রানীর জমির ওপর রাস্তা নির্মাণের জন্য মাটি ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার বাড়িও একই গ্রামে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
ঘটনাটি শুনেছেন, তবে কেউ অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব।
৫১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে বিভাষ সরকার কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে আসছেন। পরে তিনি একটি মাটির স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে সেখানে উপস্থিত এক নারীর উদ্দেশে অশালীন ভাষায় কথা বলেন।
এ সময় ওই নারী প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান প্রথমে গেঞ্জি পরা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে ওই নারী এগিয়ে এলে তাকেও পেটাতে দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বাসন্তী রানীর বাবা সুনীল সরকার, স্থানীয় উপেন্দ্র মণ্ডলসহ কয়েকজন প্রায় ৪০ বছর আগে নিজেদের জমিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। সেখানে সুনীল সরকার শিক্ষকতা করতেন। তার দুই মেয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে তিনি তার জমি স্ত্রী মিনতি রানীর নামে লিখে দেন।
প্রায় আট বছর আগে সুনীল সরকারের মৃত্যু হলে প্রতিষ্ঠানটিতে পাঠদান বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি শুধু জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে মিনতি রানী জমিগুলো তার দুই মেয়ে রত্না সরকার ও বাসন্তী রানীর নামে লিখে দেন।
উপজেলার ছাওয়ালী বাজারের বাসিন্দা বিপুল দাস বলেন, প্রায় ছয় বছর আগে তাদের জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভাষ সরকার তার লোকজন দিয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা করিয়েছিলেন। তার মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
যদিও আদালতে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়, তারপরও চার বছর ধরে তারা নিজেদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
বাসন্তী রানীর অভিযোগ, তার চাচাতো চাচা উপেন্দ্র সরকার আগে তাদের বাড়ির সামনের রাস্তা ব্যবহার করতেন। এ জন্য তাদের কিছু জমিও তাকে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি একটি ঘর নির্মাণ করেন।
সম্প্রতি ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের ফলে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ পাশে তাদের জমির ওপর দিয়ে জোর করে রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেন বিভাষ সরকার। এতে বাধা দিলে স্বামী রামগোপাল সাহা ও মেয়ে পায়েল সাহাসহ তাকে মারধর করা হয়।
বাসন্তী রানীর দাবি, “চেয়ারম্যান রাস্তার অজুহাতে আমাদের জমি দখল করতে চাইছেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে মারধর করেন। আমার ছোট মেয়েকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর বলেন, “ওই মহিলা ভালো না। বাউন্ডারির বাইরেও স্কুলের পাঁচ থেকে ছয় ফুট জায়গা আছে। উপেন্দ্রর চলাচলের জন্য সেখানে রাস্তা করার সময় ওই মহিলা বাধা দেন। এ জন্য তাদের কঞ্চি দিয়ে পিটিয়েছি।”
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










