চাঁদপুরে মতলব সেতুর সংযোগ সড়কে ফের ধস
জার্নাল ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ২০:০১ আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ২০:১৫

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ ও মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত মতলব সেতুর উত্তর পাশের সংযোগ সড়কে আবার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভারি বৃষ্টিতে সড়কের নিচে বড় ধরনের সুড়ঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি সড়কের আরও অংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম ইশমাম ধসে যাওয়া অংশ মেরামত করার কথা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উত্তর পাশের বাইশপুর এলাকায় সংযোগ সড়কের নিচে বড় ধরনের ফাঁপা বা সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। বাইরে থেকে সড়কটি অনেকটা স্বাভাবিক মনে হলেও নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ পথ দিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার হাজারো মানুষ চলাচল করেন। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগেও এ সড়কটির গুরুত্ব রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভাঙা অংশ সংস্কার করেছিল। কিন্তু কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতেই সেই সংস্কার টেকেনি। এতে সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।
পথচারী মিজানুর রহমান বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে আমরা দিন-রাত চলাচল করি। এখন এমন অবস্থা হয়েছে, যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।”
সেতুর এই অংশটা প্রায়ই ধসে পড়ে জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তানভীর হোসেন বলেন, “কয়েক মাস আগেও ভাঙার পর মেরামত করা হয়েছিল। এখন আবার বৃষ্টি হতেই নিচে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। বারবার একই জায়গা ভাঙছে, কিন্তু স্থায়ী কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
দ্রুত ভাঙা অংশ সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে পুরো সংযোগ সড়ক এবং সেতুর জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম নবী খোকন।
অটোরিকশা চালক আশরাফ আলী বলেন, “বৃষ্টি হলেই এই জায়গা ভেঙে যায়। এই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালাতে ভয় লাগে। কখন যে গাড়ি উল্টে যায়, সেই আতঙ্কে থাকি।”
বাসিন্দাদের অভিযোগ, একই স্থানে বারবার ভাঙন সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শুধু জরুরি মেরামত নয়, প্রকৌশলগতভাবে টেকসই ও স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান তারা।
ইউএনও কে এম ইশমাম বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের ওই অংশে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। দ্রুত মেরামতের কাজ চলছে।
বাংলাদেশ জার্নাল/এসআইপি










