ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৩ ঘন্টা আগে
শিরোনাম

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২০:২০  
আপডেট :
 ১৩ জুলাই ২০২৬, ২০:৩০

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তার পানি, বন্যার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বাম তীরের জেলা লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১৮ মিটার। যা বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটারের ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানে ভারতে কয়েকদিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টি।

অতিভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে বাংলাদেশ অংশের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত মাসের শেষ দিকে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল।

একদিন পর পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এরপর আবার পানি বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে চলতি মৌসুমে দ্বিতীয় দফা বন্যার কবলে পড়ে তিস্তাপাড়ের মানুষ। সেই পরিস্থিতিও একদিন পর স্বাভাবিক হয়।

গত রোববার রাতে শুরু হওয়া অতিভারী বৃষ্টি সোমবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। উজানের ঢলের সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আবারও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। সোমবার দিনভর পানি বাড়ার পর সন্ধ্যা ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে তিস্তার উভয় তীরের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যে তিস্তা চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। জেলার পাঁচটি উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলা এখন যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম।

পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ নদীতীরবর্তী এলাকার উঁচু রাস্তাগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এসব বাঁধ চলতি বন্যায় বড় ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ সংস্কার না করে বর্ষাকালে জরুরি মেরামতের নামে সরকারি অর্থ অপচয় করা হয়। তাঁদের মতে, সময়মতো বাঁধ সংস্কার করা হলে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো।

গোবর্দ্ধন গ্রামের আব্দুল হামিজ বলেন, “দুপুর থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। পানির চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘদিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষরা আমরা নির্ঘুম রাত কাটাই। চারদিকে পানি আর পানি।”

নদীপাড়ের শৈলমারী চরের আব্দুল গফুর বলেন, “উজানের ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত দুই দিনের অতিভারী বৃষ্টি। ফলে তিস্তাপাড়ে বন্যা দেখা দিয়েছে। জন্মলগ্ন থেকে তিস্তা নদী খনন না করায় তলদেশ ভরাট হয়েছে। যার কারণে সামান্য পানি বাড়লেই বন্যা হয়। পানিতে ডুবে যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি। আমরা চাই দ্রুত সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তিস্তাপাড়ের দুঃখ লাঘব করুক।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি হালকা বন্যা দেখা দিতে পারে। বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, “ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সোমবার দুপুর থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। তাই স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের মানুষদের সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।”

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত