ঢাকা, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ৫ মিনিট আগে
শিরোনাম

ফ্যাসিবাদী সরকার মসজিদের নামে যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ২০:০১

ফ্যাসিবাদী সরকার মসজিদের নামে যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ: সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মডেল মসজিদ প্রকল্পের ব্যয় কীভাবে বেড়েছে, তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অর্থ লোপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। ইসলামের নামে, মসজিদের নামে তারা যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুকের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ধর্মমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসাইনের পক্ষে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রশ্নের জবাব দেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

জয়নুল আবদীন ফারুক সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, মডেল মসজিদের নামে ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটি টাকা পর্যন্ত বাজেট হয়েছে। এ বিষয়গুলো তদন্ত করা দরকার। এত টাকার অপচয় হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তিনি জানতে চান।

এ সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালও বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা দুর্গাপুরের অবস্থা আরও ভয়াবহ। সামনে বিরাট বড় পুকুর, এর পেছনে মডেল মসজিদ, একটা ব্রিজ করে মডেল মসজিদে যেতে হবে। স্থানীয় লোকজন এটার নাম দিয়েছেন তাজমহল।

জবাবে ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে অর্থ লোপাটের বিভিন্ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। আমি বলছি না, পদ্মা সেতুর মতো দুর্নীতি এখানে হয়েছে। তবে ইসলামের নামে, মসজিদের নামে তারা যা করেছে, সেটা গর্হিত কাজ। মডেল মসজিদ অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মডেল মসজিদের জন্য প্রকল্প ব্যয়ের প্রাক্কলন যথাযথ হয়েছে কি না, সেটা যুক্তিসংগত প্রশ্ন।

মসজিদ প্রকল্পে ব্যয় ১৩ কোটি টাকা থেকে ২১ কোটিতে বাড়ানোর বিষয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মডেল মসজিদের প্রকল্প ব্যয় ১৩ কোটি থেকে ২১ কোটিতে কীভাবে গেল, কতটি মডেল মসজিদ ছিল, সেটা মসজিদওয়ারি তদন্ত পরিচালনার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সরকারের অন্যান্য সংস্থাও জড়িত হতে পারে।

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের লিখিত জবাবে ধর্মমন্ত্রী জানান, দেশে নিবন্ধিত ওয়াক্ফ সম্পত্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ দশমিক ৯৮ একর। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে এ পর্যন্ত ২৭ দশমিক ৫৩ একর ওয়াক্ফ সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

নরসিংদী-১ আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানানো হয়, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবায়েত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ ও ৬৭ জন বৌদ্ধ উপাধ্যক্ষসহ ১৩ হাজার ৯৪৯ জনের অনুকূলে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত, সেবায়েত, বৌদ্ধধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের চলমান কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/সিএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত