ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ আপডেট : ১৪ মিনিট আগে
শিরোনাম

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, আহত ১৩২৩

  জার্নাল ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:২৪

জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪৬৩, আহত ১৩২৩
ছবি: সংগৃহীত

গত জুন মাসে দেশে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত এবং নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১৩ জন, আহত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৬ জন।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংগঠনটির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না পাওয়ায় প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, আর মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশই এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত এবং ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, একজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী এবং ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, একজন সেনাবাহিনীর সদস্য, একজন প্রকৌশলী, ১১১ জন চালক, ৭১ জন পথচারী, ৪৫ জন নারী, ৪৭ জন শিশু, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ১১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১০ জন শিক্ষক এবং ৯ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ নছিমন-করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ছিল।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষে, ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কায়, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

এ ছাড়া মোট দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে, ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএ পরিচালনায় দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থা চালু এবং যাত্রীদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/জে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত